রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:২৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বিপিএ অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিনিয়র সাংবাদিক জুয়েল খন্দকার অপহরণ-খুন বন্ধে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ সহ ৭ দফা দাবিতে মানব বন্ধন বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ ফোরামের মতবিনিময় সভায় ৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত ত্রিশালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ৪সাংবাদিক কে সন্ত্রাসী হামলা, আটক০২ চুয়াডাঙ্গায় জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন সম্পন্ন, সভাপতি মারুফ সরোয়ার বাবু ও সাধারণ মানি খন্দকার ভৈরবে বর্ষাকালে লাশ নিতে একমাত্র ভরসা নৌকা অথবা কলাগাছের ভেলা ভৈরবে বিদায়ী ইউএনও শবনম শারমিনকে নিসচার পক্ষ থেকে সংবর্ধনা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক ‘নিহত’: জীবননগর সীমান্তে উত্তেজনা আগামী সপ্তাহ থেকে চালু হতে যাচ্ছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’: গভর্নর মানুষদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বন্ধ কারখানাগুলো আবার চালু করার কথা ভেবে দেখা দরকার: মির্জা ফখরুল

অপহরণ-খুন বন্ধে রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ সহ ৭ দফা দাবিতে মানব বন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২৭ Time View

এইখানে অবস্থানরত আমরা, কেউ সাবেক সৌদি প্রবাসী কেউ ছুটিতে আসা প্রবাসী, আবার অনেকে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্য।
আমরা প্রবাসী প্রবাসেই থাকি, কয়েক মাসের জন্য দেশে আসলে পরিবারকে সময় দেই, প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পাদন করে আবার প্রবাসেই ফিরে যাই।

আমরা বা আমাদের অনেক প্রবাসী ভাইয়েরা আছেন যারা এই প্রেস ক্লাব চিনেন না, অনেকেই জানেন না এখানে কি হয় বা কি জন্য আসতে হয়। এইসব আমাদের জানার কথা ও না, আমরা প্রবাসে থাকি, সেখানে কাজ করে কষ্টার্জিত অর্থ যেটিকে আপনারা রেমিটেন্স বলেন সেটি দেশে পাঠাই, বিনিময়ে আমাদের চাওয়া একটাই আমার পরিবার ভালো থাকবে নিরাপদ থাকবে, আমার মাতৃভূমি আমাদের দেশ অর্থনীতিতে এগিয়ে যাবে।
কিন্তু আমাদের ভাগ্য আজ আমাদের এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় আজ আমরা এখানে আপনাদের সামনে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছি।

আপনারা জানেন বাংলাদেশের জন্য এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শ্রম বাজার হচ্ছে সৌদি আরব, সেখানে আমাদের প্রায় ৩৫ লক্ষ বাংলাদেশী কাজ করেন। আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই, সৌদি প্রবাসীরা ভালো নেই, তাদের দিন কাটে এখন ভয়ে আতঙ্কে, দেশে থাকা তাদের পরিবার ও ভালো নেই, প্রবাসে থাকা পরিবারের সেই মানুষটির জন্য তাদের বেড়েছে দুঃচিন্তা।

বাংলাদেশের সব চেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশী কর্মী কর্তৃক বাংলাদেশী কর্মীদের অপহরণ ও খুনের ঘটনা ঘটছে।
যা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য খুবই দুঃখের ও লজ্জার, সেই সাথে হুমকি আছে শ্রমবাজার বন্ধের।
২০১৬-১৭ সালের দিকে সৌদি আরবে প্রথম অপহরণের খবর পাওয়া যায়, এরপর আবার করোনা পরবর্তী সময়ে শুরু হলে সেগুলো তেমন একটা আলোচনায় আসেনি। কিন্তু গত ৮ মাস ধরে এটি মহামারী আকার ধারণ করেছে।
গত ৮ মাসে অপহরণ হয়েছে শতের অধিক বাংলাদেশী, যাদের উপর এতটা শারীরিক নির্যাতন হয়েছে যা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। এদের অনেকেই মোটা অংকের টাকা দিয়ে কোন রকম বেঁচে ফিরেছেন।

কিন্তু অভাগা ২ প্রবাসী প্রাণ নিয়ে ফিরতে পারেননি, তারা এই অপহরণ কারীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন।
আমরা জেনেছি এই অপহরণের পিছে কাজ করছে বাংলাদেশী প্রায় ২০ টি সক্রিয় গ্রুপ এবং প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে ৫-১৫ জন সদস্য।
যারা অপহরণ হয়েছেন বা মুক্ত হয়েছেন তাদের অনেকেই সৌদি আরবের বিভিন্ন থানায় মামলা করেছেন, চক্রের অনেকে সদস্য গ্রেফতার হলেও কোন এক অদৃশ্য শক্তি কয়েকদিনের মধ্যে তাদের মুক্ত করে নিয়ে আসেন।

গত ৮ মাস ধরে সৌদি প্রবাসীরা ভয়াবহ আতংকের মধ্যে দিন পার করছেন, দেশে তাদের স্বজনরা রয়েছেন শঙ্কায়।এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ ও বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেদ্দা এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোন বিবৃতি দেননি, নেননি বিশেষ কোনো পদক্ষেপ।
এছাড়া চলমান এই পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা দুইবার সৌদি সফরে গেলে ও তিনি ও বিশেষ কোন ভূমিকা পালন করিনি।
আমরা অতি দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যু নিয়ে কয়েকটি ফেসবুক পেইজ ও কয়েকজন সোশ্যাল এক্টিভিস্ট জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করলে ও এই সংবাদগুলো স্থান পায়নি দেশের কোন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়।
যা প্রবাসীদেরকে হতাশ করেছে, তারা মনে করছেন এটি যদি রোধ করা না যায় তাহলে হুমকিতে পড়তে পারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই শ্রমবাজারটি।
আমরা মনে করি সৌদি আরবে বসবাসরত ৩৫ লক্ষ প্রবাসীর নিরাপত্তা ও তাদের পরিবার কে চিন্তামুক্ত রাখা শ্রমবাজার রক্ষা ও রেমিটেন্স প্রবাহ ঠিক রাখতে বাংলাদেশ সরকারকে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রবাসীরা মিছিল মিটিং আন্দোলন সংগ্রাম ঘেরাও অবরোধ জ্বালাও পোড়াও ভাঙ্গচুর এসব কখনোই সমর্থন করেন না, তারা মনে করে এইসবে তাদেরই কষ্টার্জিত রেমিটেন্সে গড়া দেশের সম্পদের ক্ষতি না হয়।
কিন্তু অন্যদিকে এসব না করে আজ পর্যন্ত তাদের কোন যৌক্তিক দাবি পূরণ করেনি সরকার। তারপর ও আমরা সেই প্রবাসীরা আজ ও শান্তিপূর্ণভাবে এই প্রেসক্লাবে দাঁড়িয়েছি।
আমরা আপনাদের মাধ্যমে আমাদের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মোহাম্মদ ইউনুস ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা আসিফ নজরুল মহোদয়কে কে জিজ্ঞেস করতে চাই।
আপনারা কি সৌদি প্রবাসীদের খবর জানেন? আপনারা কি তাদের আর্তনাদ শুনতে পান, আপনাদের মিশনগুলো কি আপনাদের কি নিয়মিত খোঁজখবর দেন?
যদি জেনে থাকেন তাহলে বিনয়ের সাথে জানতে চাই, আপনারা রাষ্ট্রীয় ভাবে এই সংকট মোকাবেলায় কি পদক্ষেপ নিয়েছেন?

আমরা জানি তারা বলবেন অপরাধ সৌদি আরবে সংগঠিত হচ্ছে, সৌদি সরকার বা প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছেন বা নিবেন।
আমরা এই কথার সাথে একমত, কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে আমাদের দূতাবাস কনস্যুলেট এই পর্যন্ত কেন একটি বিবৃতি দিতে পারলেন না, কেন তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়ার মাধম্যে অপরাধীদের হুঁশিয়ারি দিলেন না, কেন সাধারণ প্রবাসীদের সতর্ক ও সাহস যোগালেন না?
যারা দূতাবাস কন্সলেটে অভিযোগ করে সহায়তা চেয়েছেন কেন তাদের আইনসহায়তাকরী দিয়ে সাহায্য করলেন না।
জেলে গিয়ে কেন অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের নাম বাংলাদেশ সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ পাঠালেন না।

এই অপরাধীদের অনেক কে সৌদি সরকার দেশে ডিপোর্ট করেছে, কিন্তু তাদেরকে বিমানবন্দর-এ গ্রেফতার করা হয়নি, অপরাধীদের অনেকে অপরাধ সংগঠিত করে দেশে পালিয়ে এসেছেন কিন্তু তাদের গ্রেফতার করা হয়নি।
অনেক অপরাধীর নামে দেশের বিভিন্ন থানায় প্রবাসীর স্বজনরা মামলা করেছেন, তাদের গ্রেফতার করা হয়নি, অপরাধীরা মুক্তিপণের টাকা লেনদেন করেন দেশের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে, কিন্তু সেই নাম্বার গুলো শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতার করা হয়নি।

পরিশেষে আমরা কিছু দাবি উপস্থাপন করতে চাই।
প্রথমে আপনাদের বলবো দেশের বৃহৎ এই শ্রমবাজার রক্ষার স্বার্থে আপনারা এই ইস্যুতে বেশি বেশি সংবাদ প্রচার করুন, তথ্য সংগ্রহ করে এই অপরাধীদের দেশবাসীর কাছে চিহ্নিত করুন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে কে জানান, তাদেরকে প্রশ্ন করুন।
আর বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমাদের দাবি, আপনারা আপনাদের মিশনগুলোকে আরো একটিভ করুন, তাদেরকে নির্দেশনা দিন তারা যেন সৌদি প্রশাসনকে বিশেষভাবে অনুরোধ করে এই অপরাধী চক্রকে দ্রুত গ্রেফতার করে, তাদের যেন উপযুক্ত শাস্তি পায়, ভুক্তভুগি প্রবাসী যাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন তাদেরকে যেন মিশনগুলোতে নিযুক্ত আইন সহায়তাকারীদের দিয়ে সহযোগিতা করা হয়।
অপরাধী যাদের সৌদি সরকার দেশে পাঠাবে তাদের যেন বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করতে সরকারকে আগে থেকে জানানো হয়।
আমাদের দাবি দেশের শত্রু প্রবাসীদের শত্রু শ্রমবাজার ধ্বংসের পিছে যারা কাজ করছেন, যারা বিদেশের মাটিতে দেশের সুনাম নষ্ট করছেন, তাদের পাসপোর্ট যেন বাতিল করা হয়, প্রবাসে সাজা শেষে দেশে আসার পর বিমানবন্দরে আবার গ্রেফতার করে দেশের প্রচলিত আইনে যেন তাদের পুনরায় বিচার করা হয়।
মুক্তিপণের টাকায় দেশে যে সম্পদ তারা করছেন সেগুলো যেন জব্ধ করা হয়, অপরাধ ও অপরাধীদের প্রশ্রয় দেয়ার অপরাধে তাদের পরিবাবের সদস্যদের ও আইনের মুখোমুখি করার দাবি জানাই।

বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি
১. দূতাবাস ও কনস্যুলেটকে সক্রিয় করুন-প্রবাসীদের সুরক্ষা ও আইনি সহায়তায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে তাদের নির্দেশ দিন।
২. সৌদি প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করুন যাতে অপহরণচক্রকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।
৩. ভুক্তভোগী প্রবাসীদের জন্য আইনজীবী ও সহায়তা সেবা নিশ্চিত করা হোক।
৪. সৌদি সরকার যাদের দেশে পাঠাবে, তাদের বিমানবন্দরেই গ্রেফতার করার ব্যবস্থা করা হোক।
৫. বিদেশে দেশের বদনামকারী অপরাধীদের পাসপোর্ট বাতিল করা হোক এবং দেশে ফিরে কঠোর আইনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।
৬. মুক্তিপণের অর্থ দিয়ে যারা দেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তুলেছে, সেই সম্পদ জব্দ করা হোক।
৭. অপহরণচক্রকে সহযোগিতা করা ব্যক্তিদের, এমনকি পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আমরা চাই আপনারা আপনাদের কলম ও ক্যামেরার মাধ্যমে আমাদের এই দাবি গুলো সরকারের কাছে পৌঁছে দিন। এই সংকট মোকাবেলায় আমরা আপনাদের মাধ্যমে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আমাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য একটাই, আমাদের রেমিটেন্স যোদ্ধাদের প্রবাস জীবন হোক সহজ সুন্দর ও নিরাপদ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2025 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS