
এ.কে পলাশ, কুমিল্লা প্রতিনিধি: বিগত স্থানীয় ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় সহিংসতার বিষয় মাথায় রেখে কুমিল্লার ৯ শতাধিক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের শতভাগ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের ১৭টি উপজেলায় এক হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৩৪টি। এর মধ্যে ৫২৮ কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা আছে। নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে ৮৪৮টি ভোটকেন্দ্রে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি সহিংস ঘটনা ঘটে। এদিন চালিভাঙ্গা, ভাওরখোলা ও মানিকারচর ইউনিয়নে পৃথক সহিংসতায় দুজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। ২০২১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনের দুদিন আগে উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ গ্রুপ এবং বিএনপি প্রার্থী এ এফ এম তারেক মুন্সীর অনুসারীদের সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। নির্বাচনের দিনও বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘর্ষ হয়। বিগত নির্বাচনের সহিসংতা বিবেচনায় এবারের সংসদ নির্বাচনেও এই দুই উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র বুঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও অভিন্ন চিত্র।
দেবিদ্বার উপজেলার ১১৬ কেন্দ্রের ৭০টিই ঝুঁকিপূর্ণ। এই আসনে (কুমিল্লা-৪) ধানের শীষের প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় বিএনপি থেকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে সমর্থন জানানো হয়েছে। তাই নিরুত্তাপ ভোটের মাঠে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মাঝেই ভোটের লড়াই হবে।
দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে। সহিংসতা প্রতিরোধে এই আসনের ৯৮ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৭(চান্দিনা) আসনের ৬৫টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এবার এই আসনের ১০৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৪৯টি ঝুঁকিপূর্ণ। কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে ১২৭কেন্দ্রের সবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই উপজেলার সব ভোটকেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদার সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে আছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। জেলার একমাত্র জামায়াত অধ্যুষিত এই আসনের দিকে দৃষ্টি সবার। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিনের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণে শতভাগ কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে।
জেলার সর্বাধিক ১৫৯টি ভোটকেন্দ্র আছে মুরাদনগর উপজেলায়। এখানে সবকটি ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ ও সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সঙ্গে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল। দাউদকান্দি উপজেলায় ১০৭ কেন্দ্রের ৭৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ৬৭ কেন্দ্রের ২১টি, লালমাই উপজেলায় ৫৫ কেন্দ্রের ৪৫টি, নাঙ্গলকোট উপজেলায় ৯৭ কেন্দ্রের ৬৮টি, বরুড়া উপজেলায় ১০৫ কেন্দ্রের ৪৫টি, তিতাস উপজেলার ৫৩ কেন্দ্রের ২২টি, লাকসাম উপজেলায় ৬৭ কেন্দ্রের ২৬টি, ব্রাহ্মণপাড়ার ৫৯ কেন্দ্রের ২৫টি, হোমনা উপজেলার ৫৭ কেন্দ্রের ২৫টি, বুড়িচং উপজেলার ৮৩ কেন্দ্রের ৭৫টি, আদর্শ সদর উপজেলার ১৩০ কেন্দ্রের ৫০টি, সদর দক্ষিণ উপজেলার ৬৬ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ।
মেঘনা উপজেলায় ৩৮ কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। বিগত স্থানীয় ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই উপজেলায় সহিংস ঘটনা ঘটেছে। মেঘনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, এই উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নটি নদীবেষ্টিত। নৌকা ও ট্রলার ছাড়া যাতায়াত সম্ভব নয়। তাই সেখানে পাঁচটি ভোটকেন্দ্রের জন্য পুলিশ, আনসারের পাশাপাশি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় সেনাবাহিনীর একটি টিম কাজ করবে। অপর কেন্দ্রগুলোতেও সব বাহিনীর সমন্বয়ে অধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, ‘বিগত জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচনের সহিংসতার বিষয়টি মাথায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র তালিকা করা হয়েছে। শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply