
জমে উঠেছে দিনাজপুর- ৬ আসনের আসন্ন নির্বাচন। চলছে জমজমাট প্রচার-প্রচারণা। আর এই প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জাতীয় পর্যায়ের একজন মানবিক চিকিৎসক নেতা। তিনি বিএনপি থেকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
স্বনামধন্য এই চিকিৎসক পূর্ব পুরুষের স্মৃতিময় মাটিতে দাঁড়িয়ে সাধারণ জনগণের কাছে ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন। বাড়ি বাড়ি, ঘরে ঘরে যাচ্ছেন হ্নদয় দরজা উন্মুক্ত করে। যেখানে যাচ্ছেন সেখানেই দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সাথে হাসিমুখে কথা বলছেন। পরম মমতা নিয়ে তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শুনছেন। সমস্যা কীভাবে সমাধান করবেন সে কথাও বলছেন।
দিনাজপুর- ৬ আসনটি দিনাজপুর জেলার দক্ষিণের নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর এবং ঘোড়াঘাট এই চারটি উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই আসনে রয়েছে মোট তিনটি পৌরসভা ও ২৩টি ইউনিয়ন। মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১৯৯টি। নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর-৬ আসনে মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৭৮ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার দুই লাখ ৭৯ হাজার ৬২৭ জন এবং ট্রান্সজেন্ডার ভোটার ১৩ জন।
এই আসনে অন্য আরও যাঁরা ভোট যুদ্ধে নেমেছেন তাঁরা হলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আনোয়ারুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির মো. রেজাউল হক, ইসলামী আন্দোলনের মো. নুর আলম সিদ্দিক, এবং বাসদের মো. আব্দুল হাকিম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন এই আসনে।
স্বাধীনতার পর ১৯৯৬ সালে শুধু একবার এই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী মো. আতিউর রহমান স্বল্প সময়ের জন্য একবার এমপি হয়েছিলেন। এর আগে ৯১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আজিজুর রহমান চৌধুরী। এরপর ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজু। ২০০১ সালে আবারো বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আজিজুর রহমান চৌধুরী। এরপর ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে চারদলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামের নেতা আনোয়ারুল ইসলামকে পরাজিত করে জয়ী হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজিজুল হক চৌধুরী। এরপর সর্বশেষ টানা তিন টার্ম এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের শিবলী সাদিক।
কিন্তু এবার নতুন এক ইতিহাস রচনা করতে চান এই আসনে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পাওয়া ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। ইতোমধ্যে তিনি তাঁর স্বভাবসূলভ আচারণে সাধারণ মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রতিদিনই তিনি চারটি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে গ্রামে যাচ্ছেন। কখনও হেঁটে, কখনও বাইকে চড়ে ঘুরছেন সর্বত্র। বিভিন্ন স্থানে পথ সভা করছেন।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, তার পিতৃভূমি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের পুটিমারা ইউনিয়নের মতিহারা গ্রাম। পিতৃভূমির সাধারণ মানুষের সেবা করা ছাড়া জীবনে তার আর কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। একজন মানুষ এবং একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি এটিই মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। আর তাই পিতৃভূমির প্রতিটি মানুষের কাছে তিনি বিনয়ের সাথে ভোট প্রার্থণা করছেন।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply