
মোহাম্মদ হানিফ, ফেনী জেলা প্রতিনিধি: ফেনী-২ আসনে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে ৩২ ঘণ্টার অনশন, আশ্বাসে ভাঙলেন তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।
ফেনী-২ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারের দাবিতে অনশন কর্মসূচির পর অবশেষে প্রশাসনের আশ্বাস মিলেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ডকে নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাননীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এই আশ্বাসের পর গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া শুক্রবার বিকাল আনুমানিক ৪টায় তার অনশন কর্মসূচি ভাঙেন।
গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত প্রায় ৩২ ঘণ্টা ধরে ফেনী জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশন পালন করেন তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। অনশন চলাকালে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী মাঠে সমতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না করে প্রশাসনের একটি অংশ একটি বিশেষ প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, যা একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য মারাত্মক হুমকি।
তিনি বলেন,
“নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রশাসনের নিরপেক্ষ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে আমরা তার ব্যত্যয় দেখছি। ভোটের মাঠে প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব জনগণের ভোটাধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।”
অনশন কর্মসূচির সময় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা–এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব জনাব আবুল কাশেম এবং ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব জনাব মোহাম্মদ হানিফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
এ সময় তারা তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার অভিযোগের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন,
“নির্বাচনে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কোনো প্রকার প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে ধ্বংস করে এবং জনগণের আস্থা নষ্ট করে।”
তারা আরও বলেন,
“নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।”
অনশনস্থলে আরও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার তথ্য পরিচালক জনাব মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মোহাম্মদ শহিদ এবং মোহাম্মদ উসমান। তারাও নির্বাচনে নিরপেক্ষ প্রশাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে অনশনকারীর দাবির প্রতি সমর্থন জানান।
অনশন কর্মসূচির চাপে অবশেষে মাননীয় রিটার্নিং কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আশ্বস্ত করেন যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এসিল্যান্ডকে নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অনশন ভাঙার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন,
“আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পক্ষে। প্রশাসন যদি সত্যিই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে, তাহলে কোনো সংঘাতের প্রয়োজন হয় না। জনগণই হবে প্রকৃত বিজয়ী।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফেনী-২ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply