1. econimicnews24@gmail.com : Nayan Sharkar : Nayan Sharkar
  2. economicnews24bd@gmail.com : Nurnnobi Sarker : Nurnnobi Sarker
  3. editor.econimicnews24@gmail.com : Fahim Fahim : Fahim Fahim
  4. jmitsolution24@gmail.com : support :
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১২:৪২ অপরাহ্ন
Title :
আলমডাঙ্গা পৌর মেয়র পদপ্রার্থী হাসিবুল হক লিপুর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা “ভূমি, পরিবেশ ও আদিবাসী জনগোষ্ঠী: ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ভবিষ্যতের পথে” শীর্ষক এক গোলটেবিল মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ভারত আমাদের বৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র, ন্যায্যতার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক চাই: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বরগুনা জেলা আরজেএফ’র কমিটি অনুমোদন পানগুছি সেতুর দাবিতে মোড়েলগঞ্জ-শরণখোলা উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের মানববন্ধন ট্রাব বিজনেস সিএসআর অ্যান্ড কালচারাল অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত সালমান মাহমুদ মার্সেল ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা পেলেন টাঙ্গাইলের হাবিবুর হবিগঞ্জ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক আড়াই ঘণ্টা অবরোধ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা রাঙ্গামাটিতে অনলাইন বাস টার্মিনাল ও সিএনজি থ্রি হুইলারের ডিজিটাল ডাটাবেস উদ্বোধন নবীনগরে মাদ্রাসায় ছাত্রের মায়ের সাথে অনৈতিক কাজের সময় উত্তেজিত জনতার হাতে আটক শিক্ষক

সাম্প্রতিক সময়ে ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়েছে: পিপিআরসি-বিআইজিডির জরিপ

  • আপডেট : সোমবার, ৬ জুন, ২০২২, ১০.৫৩ এএম
  • ১৭৫ Time View

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়েছে। এর আগে, ২০২০ ও ২০২১ সালে মহামারি করোনার প্রভাবে দেশে ৩ কোটির বেশি মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়েছিল। করোনার প্রকোপ কমায় এ সংখ্যা কমে যায়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স স্টাডিজের (বিআইজিডি) এক গবেণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার (০৫ জুন) এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার এ ফল তুলে ধরা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘করোনার পর বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না। নতুন দরিদ্র মানুষের পরিস্থিতির উন্নয়ন হচ্ছে না। দরিদ্র মানুষ টিকে থাকার চেষ্টা করছে স্বশোষণ করে। খাওয়া কমিয়ে, কাজের সময় বাড়িয়ে এ প্রচেষ্টা চলছে।’

করোনা সংক্রমণের পরপরই ২০২০ সালের জুন মাসে ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয় বলে এই দুই প্রতিষ্ঠানের জরিপে বলা হয়েছিল। এ পরিমাণ গত বছরের মার্চ মাসে ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু এখন এ হার ১৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

‘এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এখনও ৩ কোটি ৯ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে আছে। তাদের পরিস্থিতির উত্তরণ হয়নি,’ তথ্য দেন হোসেন জিল্লুর।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়া দেয় ২০২০ সালের মার্চ মাসে। এরপর নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর করোনার প্রকোপ নিয়ে চার দফা জরিপ করে পিপিআরসি ও বিআইজিডি। ২০২০ সালের এপ্রিল, জুন ও জুলাই মাসে, ২০২১ সালের মার্চ এবং আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে চার দফায় সাধারণ মানুষের ওপর করোনার প্রভাবসংক্রান্ত জরিপ করা হয়।

রোববার ‘মূল্যস্ফীতি, খাপ খাওয়ানো ও পুনরুদ্ধারের প্রতিবন্ধকতা’ শীর্ষক পঞ্চম দফার ফল প্রকাশ করা হয়। এ দফার জরিপের কাজ চলে গত ১৪ থেকে ২১ মে পর্যন্ত। এ জরিপে অংশ নেয় গ্রাম ও শহরের ৩ হাজার ৯১০ জন মানুষ।

সবশেষ জরিপে করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত সময়ে গ্রাম ও শহরের নিম্ন আয়ের মানুষের আয় কমা-বাড়া, খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামা, কর্মসংস্থান, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়ানোর জন্য মানুষের প্রচেষ্টা, পেশার পরিবর্তনসহ নানা বিষয় উঠে আসে। দুই পর্বে জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। প্রথম দফায় বিআইজিডির পরিচালক ইমরান মতিন সাম্প্রতিক সময়ের প্রভাবগুলো তুলে ধরেন।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘করোনার আগে ২০১৭ সালে দরিদ্র মানুষের মাথাপিছু আয় ছিল ১১৭ টাকা। প্রথম লকডাউনের পর এ আয় কমে হয় ৬৫ টাকা। পরে এ আয় বেড়ে ১০৩ টাকা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তা আরও বেড়ে হয় ১০৫ টাকা; কিন্তু এখন তা নেমে গেছে ৯৯ টাকায়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৬ শতাংশ আয় কমে গেছে।’

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মানুষের আয় করোনাপূর্ব সময়ের চেয়ে এখনো ১৫ শতাংশ কম। শহরে এ হার অনেক বেশি, ২৫ শতাংশ। গ্রামে তা ১ শতাংশ।

জরিপে দেখা যায়, গ্রামের চেয়ে শহরের মানুষের আয় কমেছে অনেক বেশি হারে। পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে শহরের যেখানে আয় কমে যাওয়ার হার ৮, গ্রামে তা ৩ শতাংশ।

ইমরান মতিন বলেন, ‘করোনার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালু হলে পরিস্থিতির উন্নতি হয় কিছুটা। কিন্তু দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের আয় আবার কমে যায়।’

‘গ্রাম ও শহরের কৃষি ও পরিবহন খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে অনেকটা খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছেন। কিন্তু রিকশাচালক, কারখানাশ্রমিক ও গৃহকর্মীর ওপর এর প্রভাব মারাত্মক।’

জরিপে বলা হয়, দ্রব্যের মূল্য বেড়ে যাওয়ার কারণে নারীরা নতুন করে কর্মক্ষেত্রে ঢোকার চেষ্টা করছেন। তবে করোনাকালের কাজ হারানো ৩৬ শতাংশ নারী এখনো কর্মক্ষেত্রে ঢুকতে পারেননি।

নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ পণ্য কেনা কমিয়ে দিয়েছে, নিম্নমানের পণ্য কিনছে বা একেবারে বাদ দিয়েছে। দেখা গেছে, ২৭ শতাংশ পরিবার কম পরিমাণ চাল কিনছে। আগের চেয়ে নিম্নমানের চাল কিনছে ৩৬ শতাংশ পরিবার। কোনো পরিবার একেবারে চাল কিনছে না, তেমনটা দেখা যায়নি। তবে পুষ্টির জন্য দরকারি মাছ, মাংস, দুধ কম কেনা বা একেবারে বাদ দিয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, ৪৭ শতাংশ ক্ষেত্রে দুধের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। মান কমিয়ে দিয়েছে ২৫ শতাংশ। আর একেবারে বাদ দেওয়া সংখ্যা ২০ শতাংশের মতো পরিবার। ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে মানুষ মাছ কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। কম কিনছে ৫৬ ভাগ।

মাসে অন্তত এক দিন শহরের বস্তিবাসীর ৫ শতাংশ মানুষ তাদের আর্থিক দুরাবস্থায় সারা দিন অভুক্ত থেকেছে। গ্রামে এ অবস্থা ৩ শতাংশ। অন্তত একবেলা কম খেয়েছে, এমন পরিবারের সংখ্যা শহরে ২১ এবং গ্রামে ১৩ শতাংশ।

‘এই যে জিনিসের দাম বাড়ছে, তার পেছনে নানা কারণকে তুলে ধরেছে মানুষ। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬২ শতাংশ মনে করছে দুর্বল ব্যবস্থাপনার জন্যই এমনটা ঘটছে। এর পাশাপাশি সরবরাহের ঘাটতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধিকেও কারণ বলে মনে করেন অনেকে।’

‘এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের ব্যবস্থা হিসেবে সর্বোচ্চ ৬৯ ভাগ মনে করে, ব্যবস্থাপনা বা সুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিস্তারের কথা বলেছে ৩৬ শতাংশ।’

করোনার সময় এবং পরে আর্থিক অনটনের সঙ্গে লড়াইয়ে মানুষ কী উপায় বেছে নিচ্ছে, তার চিত্রও উঠে আসে জরিপে। সেখানে গত বছরের আগস্টের সঙ্গে সাম্প্রতিক জরিপের তুলনা করা হয়। দেখা যায়, করোনার সময় যে আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধা ছিল দুই সময়েই তা কমে গেছে। আগস্ট মাসে ৯১ ভাগ মানুষ নিজের আয়ের ওপরই নির্ভর করে চলত। এখন তা বেড়ে হয়েছে ৯৩ শতাংশ। আগে দোকানে বাকি রেখে বা ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন তা কমে যাচ্ছে।

গত আগস্টে ১৭ শতাংশ মানুষ ঋণ নিয়ে চলতে পারত। এখন তা হয়েছে ৭ শতাংশ। পরিস্থিতি এখন এমন হয়ে গেছে যে মানুষ আর ঋণ নিতে চায় না। এর কারণ, তা পরিশোধ তারা করতে পারবে না। শহরের বস্তির ৩১ শতাংশের ঋণ দরকার হলেও তারা তা নিতে পারছে না। ৫১ শতাংশ বলেছে, তারা আর ঋণ চায় না।

ইমরান মতিন বলেন, ‘সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় কমানো এবং ওষুধ না কেনার মতো উদ্যোগের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব আছে।’

নিম্ন আয়ের মানুষ অবস্থা থেকে উত্তরণে ন্যায্যমূল্যে চাল, ১০ টাকার চাল এবং টিসিবির পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকেছে। দেখা গেছে, গত বছরের আগস্টে দারিদ্র্যসীমার উপরে থাকা ১৮ শতাংশ মানুষ ন্যায্যমূল্যের চাল কিনত। এখন ২৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এ সংখ্যা। এই গোষ্ঠীর মানুষের মধ্যে গ্রামে ১০ টাকার চাল কেনার মানুষের সংখ্যা আগস্টে ছিল ৪ শতাংশ। এটি গত মে মাসে এসে দাঁড়িয়েছে ১০ শতাংশে। আগস্টে ১৫ শতাংশ মানুষ টিসিবির পণ্য কিনত; কিন্তু মে মাসে এর হার দাঁড়িয়েছে ৩১।

টিসিবির পণ্য কেনা ৬১ শতাংশ মানুষ চায় পণ্যের পরিমাণ বাড়ুক।

করোনাকালের আগে যে পরিমাণ মানুষ কর্মহীন ছিল, এখন তা আরও বেড়ে গেছে বলে উঠে আসে এ জরিপে। দেখা গেছে, করোনার আগে শহরের ৬ শতাংশ মানুষ কর্মহীন ছিল, এখন তা ১০ শতাংশ। গ্রামে করোনার আগে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ছিল ৮ শতাংশ। এখন ৯ শতাংশ।

করোনা সংক্রমণের পরপরই ২০২০ সালের জুন মাসে ২১ দশমিক ২৪ শতাংশ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয় বলে এই দুই প্রতিষ্ঠানের জরিপে বলা হয়েছিল। এ পরিমাণ গত বছরের মার্চ মাসে ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু এখন এ হার ১৮ দশমিক ৫৪।

এ প্রসঙ্গে হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এখনো ৩ কোটি ৯ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে আছে। তাদের এ পরিস্থিতির উত্তরণ হয়নি।’

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর »
© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.
Economicnews24 .com