নিজস্ব প্রতিবেদক, বিশেষ প্রতিবেদন: ঢাকা, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিবদের পদায়ন ও বদলি নিয়ে প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহলে দীর্ঘদিন ধরে নানা গুঞ্জন চললেও এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ঢাকা জেলার ইউপি সচিবদের বদলি বাণিজ্যের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত তথাকথিত ‘বদলি সম্রাট’ আবুল কালাম আজাদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, অত্যন্ত লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদে পদায়ন পেতে পকেটে ২০ লাখ টাকা নিয়ে তদবিরে নেমেছেন এক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা।
বদলি সিন্ডিকেটের রমরমা বাণিজ্য
অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল ইউনিয়ন পরিষদে সচিব পদে পোস্টিং বা বদলির নেপথ্যে কাজ করছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট। এই চক্রের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছেন আবুল কালাম আজাদ। নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেই কেবল পছন্দের কর্মস্থলে পদায়ন মিলছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে উঠলেও এবার আশুলিয়া ইউপিকে কেন্দ্র করে বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বদলি হতে পারলে পরবর্তীতে অবৈধ উপায়ে বিনিয়োগকৃত অর্থ খুব সহজেই তুলে নেওয়া সম্ভব—এমন লোভনীয় সমীকরণেই মূলত মোটা অঙ্কের অর্থ ছড়ানোর প্রস্তুতি চলছে।
দায়িত্বে অবহেলা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি
জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রধান কেন্দ্র হলো ইউনিয়ন পরিষদ। অথচ সেখানে যদি বদলি বাণিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে অসাধু কর্মকর্তাদের বসানো হয়, তবে সাধারণ নাগরিকরা মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবেন বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয় সুধী সমাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউপি সচিব জানান, এই সিন্ডিকেটের আশীর্বাদ ছাড়া জেলার কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইউপিতে পদায়ন পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কাম্য
স্থানীয় সরকার প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও সুশাসন বজায় রাখতে এই ধরনের বদলি সিন্ডিকেট এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। একই সঙ্গে, আশুলিয়া ইউপিতে বদলির নেপথ্যে থাকা কুশীলব এবং কথিত ‘বদলি সম্রাট’ আবুল কালাম আজাদের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)সহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।