ঢাকা, ১১ আগস্ট ২০২৬: ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের ফাইল কারসাজি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ১৫ জন কর্মচারীর স্থায়ীকরণ সংক্রান্ত পুরোনো ফাইল গোপন করে নতুন ফাইল তৈরি করে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে প্রেরণ করেছেন, যা নিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে ০৫.৪১.২৬০০.০৪০.১৮.০০৩.১৩.১২১ স্মারকে অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে ১৫ জনকে স্থায়ীকরণের জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ অনু-বিভাগের সাধারণ শাখা থেকে বিভাগীয় কমিশনার, ঢাকার কাছে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু বিভাগীয় কমিশনার বিভিন্ন প্রকার গুণগত মান পরীক্ষা করে ফাইলটি হাইকোর্টের নির্দেশনায় ঢাকা ডিসি অফিসে ফেরত পাঠান।
এরপর থেকেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। অভিযোগ, তিনি পূর্ববর্তী কর্মস্থল নারায়ণগঞ্জ ডিসি অফিসে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক কর্মচারীদের তালিকা তৈরি করে তাদের নানাভাবে হয়রানি করতেন। তার এমন কর্মকাণ্ড এতটাই তীব্র ছিল যে একপর্যায়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে তার এই ‘সক্রিয়’ ভূমিকার পুরস্কার হিসেবে তাকে ঢাকা ডিসি অফিসে পদায়ন করা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
এদিকে, পূর্ববর্তী ফাইলের ১৫ জন কর্মচারীই সাবেক ছাত্রলীগের নেতা বলে জানা যায়। তাদের ফেরত আসায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের দুশ্চিন্তা বেড়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। একদিকে আওয়ামী লীগের স্বার্থ রক্ষার চাপ, অন্যদিকে অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কমিশনার ও ডিসির বদলির অপেক্ষায় ছিলেন বলে জানা যায়।
নতুন ডিসি ও কমিশনার আসামাত্রই জাহিদ হাসান পূর্ববর্তী ফাইলটি গোপন করে সম্পূর্ণ নতুন একটি ফাইল তৈরি করেন এবং গত ২২শে জুলাই ২০২৬ তারিখে তা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ১১ই ফেব্রুয়ারির ফাইলের যুক্তিগত জবাব না দিয়ে তথ্য গোপন করে কেন নতুন ফাইল পাঠানো হলো?
এ বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ডিসি অফিসের বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে। সাধারণ কর্মচারীরা মনে করছেন, বর্তমান কমিশনার যদি পূর্ববর্তী ফাইলটি তলব করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ১৫ জন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন, তাহলে স্বচ্ছতা ফিরবে। জনগণের প্রত্যাশা, প্রশাসনের এই অনিয়ম দ্রুত সমাধান করা হোক এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ ব্যাপারে প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি এড়িয়ে যান। তবে ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও দেওয়া হয়নি।