রিফাত মাহাম্মুদ, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের ফতিয়ারদাঁইড় গ্রামে দীর্ঘ প্রায় ৬০ বছরের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ গ্রাম্য সালিসের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে আংশিক নিষ্পত্তি হয়েছে। স্থানীয় মুরব্বি, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে শনিবার (১৬ মে) এ সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ১০টায় শুরু হওয়া সালিস বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস এম সালাহউদ্দিন আহমেদ শামিম সরকার, বাঘা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ মিঞা, বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ মাস্টার, রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হক, মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মুকুল, সাংবাদিক আবু সাঈদ, সাংবাদিক রিফাত মাহমুদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা।
সালিস সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক উত্তরাধিকার ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে ফতিয়ার দাঁইড় গ্রামের মৃত তজিম উদ্দীনের ছেলে নাজিম উদ্দীন লাল্টুর সঙ্গে একই গ্রামের মৃত জেকের আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় প্রশাসন, থানায় জিডি এবং আদালতে মামলা দায়ের হলেও নানা জটিলতায় বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যায়। এতে দুই পরিবারের সম্পর্কেরও অবনতি ঘটে।
সালিস কমিটি আদালতের রায়, জমির পরিমাপ, নথিপত্র ও পুরোনো দলিলপত্র যাচাই-বাছাই করে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনে। পরে সিদ্ধান্তে জানা যায়, নাজিম উদ্দীন লাল্টু পাচপাড়া মৌজায় প্রাপ্ত সম্পত্তির চেয়ে অতিরিক্ত ২ একর ২২ শতাংশ জমি ভোগদখলে রেখেছিলেন। তার প্রাপ্ত সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৭ একর ২৫ শতাংশ, অথচ তিনি ভোগ করছিলেন ৯ একর ৪৭ শতাংশ জমি। অতিরিক্ত ভোগদখলে থাকা ওই জমি নিয়েই মূল বিরোধের সৃষ্টি হয়।
আদালতের রায় ও জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে নাজিম উদ্দীন লাল্টুর দখলে থাকা জমির মধ্য থেকে ৭৫ শতাংশ (প্রায় আড়াই বিঘা) জমি আরিফুল ইসলামকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে নাজিম উদ্দীন লাল্টুর দাবির প্রেক্ষিতে সার্ভেয়ার দিয়ে আরিফুল ইসলামকে ৬৩ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
সালিসের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জলিল বলেন, “দীর্ঘদিনের বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং আদালতের রায় ও নথিপত্র যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত দিয়েছি।”
পাচপাড়া গ্রামের সার্ভেয়ার মামুনুর রশিদ জানান, “আরিফুল ইসলামকে ৬৩ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
নাজিম উদ্দীন লাল্টু ও আরিফুল ইসলাম উভয়েই সালিসি রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, এর আগেও একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। তবে এবার সামাজিক উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।