ঢাকা, ১৬ মে: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, “ভারত আমাদের সর্ববৃহৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্র। আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে চাই। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে ন্যায্যতা, সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।”
শনিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে “মওলানা ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস” উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ভাসানী জনশক্তি পার্টি ও ভাসানী অনুসারী পরিষদ।
তিনি বলেন, “ভারত যদি নদীর প্রবেশমুখে বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখে এবং সীমান্তে গুলি করে বাংলাদেশের মানুষ হত্যা করে, তাহলে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে উভয় দেশের মধ্যে ন্যায্যতা ও আস্থার পরিবেশ থাকতে হবে।”
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও মাননীয় মন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বলেন, “মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ছিলেন এদেশের এক মহীরুহ। তিনি সারা জীবন কৃষক, শ্রমিক ও মজলুম মানুষের পক্ষে কাজ করে গেছেন। তাঁর প্রতীক ছিল ধানের শীষ।”
তিনি আরও বলেন, “এই ধানের শীষ আগামী দিনের বাংলাদেশের মানুষকে মুক্তি দেবে। তাই তিনি ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমান-এর হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়েছিলেন।”
এ সময় তিনি আগামী ডিসেম্বরে ফারাক্কা পানি চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয় উল্লেখ করে বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তাহলে অবশ্যই একটি গ্রহণযোগ্য ও ন্যায্য পানি চুক্তি করতে হবে।
সভায় বক্তব্য রাখেন ড. আবু ইউসুফ সেলিম। তিনি বলেন, “পূর্বে তারা চুক্তির শর্ত মেনে চলেনি। চুক্তির মাধ্যমে ভারতের কাছ থেকে পানি আদায় করা সম্ভব নয়। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় করতে হলে আন্তর্জাতিক নদী কমিশন আইনে অনুস্বাক্ষর করতে হবে এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, “১৯৭৬ সালের ১৬ মে মওলানা ভাসানী লক্ষ লক্ষ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কা অভিমুখে লংমার্চ করেছিলেন। সেই লংমার্চ বিশ্ব বিবেককে নাড়া দিয়েছিল এবং ভারত বাংলাদেশকে পানি চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছিল।”
তিনি আরও বলেন, “জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আবার ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করতে হবে। সন্ত্রাস ও মবকালচার নির্মূল করতে হবে।”
অধ্যাপক হারুনুর রশিদ-এর উপস্থাপনায় আরও বক্তব্য রাখেন সাইফুল হক, নঈম জাহাঙ্গীর, ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, ড. জসীম উদ্দিন আহমদ, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নজমুল হক নান্নু, পারভীন নাসির খান ভাসানী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, বাবুল বিশ্বাস, জামাল উদ্দিন, বিলকিস খন্দকার, মোশাররফ হোসেন, কাজী নজরুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান, শাহানা বেগম এবং ইমরুল হাসান ওয়াসিম।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।