ঢাকা, বাংলাদেশ: জমজমাট আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ তারিখে পর্দা নামলো অ্যাক্সেনটেক প্রেজেন্টস এফআইসিসিআই ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর দ্বিতীয় আসরের। ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)-র ব্যানারে নাটমেগ আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি টিমওয়ার্ক, স্পোর্টসম্যানশিপ এবং বাংলাদেশের কর্পোরেট ফুটবলের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। এবারের আসরে ২০টি শীর্ষস্থানীয় মাল্টিন্যাশনাল ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং মোট ৫০টি প্রতিযোগিতাপূর্ণ ম্যাচের মাধ্যমে টুর্নামেন্টটি দেশের অন্যতম বড় কর্পোরেট স্পোর্টিং প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
দিনের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয় প্লেট ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হয় শেভরন বাংলাদেশ এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে দুই দলই দারুণ লড়াকু মানসিকতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফুটবল উপহার দেয়। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়, যেখানে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের হয়ে গোল করেন তুর্য এবং শেভরন বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন আশিক। পরবর্তীতে ম্যাচটি গড়ায় নাটকীয় সাডেন-ডেথ টাইব্রেকারে, যেখানে জয় নিশ্চিত করে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক প্লেট শিরোপা অর্জন করে। অসাধারণ পারফরম্যান্সের জন্য তুর্য নির্বাচিত হন প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ।
এরপর সবার নজর যায় বহুল প্রতীক্ষিত কাপ ফাইনালের দিকে, যেখানে মুখোমুখি হয় রবি আজিয়াটা পিএলসি এবং ডিএইচএল এক্সপ্রেস বাংলাদেশ। উত্তেজনাপূর্ণ এই ফাইনালে দুই দলই পুরো ম্যাচজুড়ে দারুণ রক্ষণাত্মক নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হওয়ার পর ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় টাইব্রেকারে, যেখানে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে শিরোপা জিতে নেয় রবি আজিয়াটা পিএলসি। এর মাধ্যমে দলটি অ্যাক্সেনটেক প্রেজেন্টস এফআইসিসিআই ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর দ্বিতীয় আসরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ফাইনালে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য রবির শাকিব নির্বাচিত হন প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় দারুণ পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়েন। ডিএইচএল-এর শাহীনুর ১০ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন, অন্যদিকে একই দলের সৈকত ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে জিতে নেন প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট পুরস্কার। এছাড়াও রবির গোলরক্ষক মুসাব্বির গুরুত্বপূর্ণ সেভ ও আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সের সেরা গোলরক্ষক নির্বাচিত হন। টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ স্পোর্টসম্যানশিপ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ অর্জন করে ফেয়ার প্লে ট্রফি।টুর্নামেন্টজুড়ে অসাধারণ স্পোর্টসম্যানশিপ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ অর্জন করে ফেয়ার প্লে ট্রফি।
ফাইনাল ম্যাচ শেষে আয়োজন করা হয় পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান, যেখানে চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। ট্রফি হস্তান্তর পর্বে উপস্থিত ছিলেন ফিকি কর্মকর্তাবৃন্দ, পার্টনার প্রতিনিধিরা, অংশগ্রহণকারী দলসমূহ এবং আয়োজকরা। পুরো আয়োজনটি একটি স্মরণীয় সমাপ্তির মধ্য দিয়ে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন মি. এম এইচ এম ফাইরোজ, পরিচালক, এফআইসিসিআই; মি. টিআইএম নুরুল কবির, নির্বাহী পরিচালক, এফআইসিসিআই; মি. শাহেদ আলম, চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার, রবি আজিয়াটা পিএলসি; মোঃ জুবায়েদ উল ইসলাম, মার্কেটিং ডিরেক্টর, সিঙ্গার বাংলাদেশ লিমিটেড; মি. সাব্বির ফেরদৌস, ডিরেক্টর, ব্যাকপেজ পিআর; মি. মাজহারুল কবির, ইন-চার্জ, সেলস, নভোএয়ার; এবং মি. মাহবুব আলম, ম্যানেজিং ডিরেক্টর, নাটমেগ।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে টুর্নামেন্টটি মাল্টিন্যাশনাল ও কর্পোরেট অঙ্গনে প্রাণবন্ত এক ক্রীড়া পরিবেশ তৈরি করেছে। ফুটবলের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি, টিমওয়ার্ক এবং পেশাদার সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি, এই আয়োজনটি বাংলাদেশের কর্পোরেট কমিউনিটির মধ্যে ফুটবল সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
এই টুর্নামেন্টে টাইটেল স্পনসর হিসেবে ছিল অ্যাক্সেনটেক, কো-স্পনসর হিসেবে সিঙ্গার-বেকো, বেভারেজ পার্টনার হিসেবে স্প্রাইট মিন্ট, পিআর পার্টনার হিসেবে ব্যাকপেজ পিআর এবং এয়ারলাইন পার্টনার হিসেবে নভোএয়ার।