
ইমন মাহমুদ লিটন, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মারধরের করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী সমবায়ী দম্পতি। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ১১টায় পৌর শহরের গাছতলাঘাট এলাকায় সমবায়ীদের নিজস্ব কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
ভুক্তভোগী সমবায়ী দম্পতি হলেন মাসুদ আলম (২৫) ও তার সহধর্মিণী রিতা আক্তার (২০)।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী দম্পতি জানান, ১৬ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে সমবায়ী গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেল করে বাড়ি ফেরার পথে পৌর স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় ভুক্তভোগী সমবায়ী দম্পতি মাসুদ আলম ও তার সহধর্মিণী রিতা আক্তারকে গতিরোধ করে অভিযুক্ত সুলমান মিয়া (৩২)সহ তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এসময় সুলমান মিয়া নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের ওপর হামলা চালায়। প্রথমে রিতা আক্তারের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে ফেলা হয়। এরপর শুরু হয় নির্যাতন।
ভুক্তভোগী দম্পতিকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। এতে ভুক্তভোগী রিতা আক্তারকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার সময় হামলাকারীরা সমবায়ের সংগ্রহকৃত নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি রিতা আক্তারের গলায় থাকা প্রায় ১৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও লুট করে নিয়ে যায়। পরে ভুক্তভোগীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা পুনরায় হামলার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর স্বজনরা অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তাদেরকেও গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগকারী মাসুদ আলম বলেন, সুলমান গংরা বেশ কয়েকদিন আগে আমার দুঃসম্পর্কের আত্মীয়কে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। আমি বিষয়টি জেনে প্রতিবাদ করি। পরে তারা আইনের আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যায়। এঘটনার পর থেকে সুলমান গংরা আমাদের সাথে অসদাচরণ ও হুমকি ধমকি করতে থাকে।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী সমবায়ী দম্পতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার অভিযুক্ত সুলমান মিয়াকে ফোক দিলে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এতে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply