শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
সাতক্ষীরার লাবসায় ধানের শীষের নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত মানবতার রাষ্ট্রের লক্ষ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লবের নির্বাচনী ইশতেহার কুমিল্লায় র‌্যাবের অভিযানে ১৪৮ কেজি গাঁজা ও ১০০ পিছ ইয়াবা’সহ গ্রেফতার-২ জামালপুর ৩ মেলান্দহ মাদারগঞ্জ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের নির্বাচনী পথসভা দূর্নীতিবাজদের গলা চেপে ধরবো- বরিশালে জামায়াতের আমির মাধবপুরের ধর্ষণ ও অপহরণ মামলার প্রধান আসামি ঢাকায় গ্রেফতার কালিয়ায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত কুমিল্লার ১১টি আসনের সিসি ক্যামেরার আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র টেকনাফে বিএনপির প্রচারণায় গুলি, ৩ শিশুসহ ৫ জন আহত মুন্সিগঞ্জ-৩টি আসনে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন শীর্ষে প্রচারে দোরগোড়ায় প্রার্থীরা।

মানবতার রাষ্ট্রের লক্ষ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লবের নির্বাচনী ইশতেহার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৬ Time View

মঈনউদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: সব মানুষের কল্যাণে সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল নতুন রাজনীতি মানবতার রাজনীতির আলোকে সব ধর্মের সব মত পথের সব মানুষের সমান নিরাপত্তা-অধিকার-স্বধীনতা ভিত্তিক এবং খুন-সন্ত্রাস-অন্যায়- অবিচার-দুর্নীতি-অপরাধমুক্ত দারিদ্রমুক্ত ও একক গোষ্ঠির স্বৈরতামুক্ত অসাম্প্রদায়িক উন্নত আধুনিক নিরাপদ শান্তিময় সর্বজনীন- মানবতার_রাষ্ট্রের লক্ষ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লবের নির্বাচনী ইশতেহার-

#প্রারম্ভিক_ভাষন
বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব আমরা উন্নত আধুনিক রাষ্ট্র বলতে কেবল উঁচু দালান, প্রসস্ত রাস্তা, চারিদিকে প্রাচুর্য, প্রচুর খাবার, প্রচুর টাকা, ঝলমল মার্কেট, পার্ক, বিনোদন, সবকিছুতে উচ্চপ্রযুক্তি এসব মূল বিষয় মনে করি না।

জীবনের এসব জরুরী বিষয় অবশ্যই প্রয়োজন কিন্তু উন্নত আধুনিক সভ্য রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শর্ত মানবিক মানুষ, নিরাপদ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা, দায়িত্বশীল সেবামূলক মানবিক সরকার, অপরাধমুক্ত-দুর্নীতিমুক্ত আতঙ্কমুক্ত- অন্যায় অবিচার মুক্ত- রাষ্ট্র ও পরিবেশ, এরপর জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তি শিক্ষা ও নীতিবোধে রাষ্ট্রের সব মানুষ কতটুকু অগ্রসর, সবার জন্য খাদ্যসংস্থান ও আবাসন এবং চিকিৎসাব্যবস্থা কতটা সহজলভ্য, আদালত কতটুকু সুবিচার ও ন্যায়ের ধারা সমুন্নত রাখেন এবং মজলুমের কতটুকু সহায়, মনের ভিতর কতটা বিষাক্ত বস্তুবাদমুক্ত পরিচ্ছন্ন সৎ ও চরিত্রবান আলোকিত তারপর ঘরবাড়ি রাস্তাঘাট দেশ কতটা পরিচ্ছন্ন, বিশেষভাবে মা বোনদের মানবিক মর্যাদা-শিক্ষা-স্বাধীন চলাফেরা- ঘরের বাইরে নিরাপদ যাতায়াত যোগাযোগ এবং সমাজ রাষ্ট্রের দায়িত্বে অংশগ্রহণের অধিকারের মাত্রা।

আধুনিক উন্নত সভ্য রাষ্ট্র শুধু রাষ্ট্রের নিজস্ব নাগরিক নয় রাষ্ট্রের বাইরের প্রতিটি মানুষের জন্য সমান নিরাপত্তা-অধিকার-মর্যাদা-সুযোগ সুবিধা-আশ্রয় থাকতে হবে। অমানুষের সমাজ-পাশবিক সরকার -আতঙ্কময় হিংস্র পরিবেশ ও অনিরাপদ নিরাপত্তাহীন ঘরবাহির রাস্তাঘাট- স্বৈরদস্যুতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা হলে বাহ্যিক যত উন্নত সমৃদ্ধ হোক সেটা আধুনিক রাষ্ট্র নয় সভ্য রাষ্ট্র নয় এমনকি রাষ্ট্রও নয়, সেটা জীবন ধ্বংসাত্মক পাশবিক আখড়া দস্যুতন্ত্র। যত উন্নত সমৃদ্ধ বলা হোক যেখানে রাষ্ট্র সরকার সেনাবাহিনী পুলিশ জীবন রক্ষা নয় হত্যা করে এমনকি থানা কাস্টডি জেলে পর্যন্ত মানুষ হত্যা করে আবার পার পেয়ে যায় সেটা মানুষের রাষ্ট্র নয় রাষ্ট্রের নামে কসাইখানা দুনিয়ার জাহান্নাম।

প্রকৃত উন্নত আধুনিক সভ্য রাষ্ট্র হতে হলে মানবিক মানুষ মানবিক সমাজ মানবতার রাষ্ট্র হতে হবে। উন্নত আধুনিক সভ্য মানবিক রাষ্ট্রের প্রধান বাধা একক ধর্মের নামে ধর্মের সত্য ও ধর্মের মানবিক মূল্যবোধের বিপরীত অধর্ম উগ্রবাদ জঙ্গিবাদি স্বৈররাজনীতি এবং বস্তুবাদি চেতনা ভিত্তিক বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি স্বৈররাজনীতি যা মানুষকে মানবতার শত্রু অমানুষ করে তুলে এবং সমাজ রাষ্ট্রব্যবস্থা অমানবিক হিংস্র পাশবিক বিষাক্ত করে তুলে।

বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি সমাজ ও অধর্ম উগ্রবাদি সমাজে জীবনের আলো নেই, স্রষ্টার করুনা ধারা নাই। যেখানে জীবনের সত্য নাই তথা দয়াময় স্রষ্টার নামে জীবন নাই, স্রষ্টার আলোকে জীবন নাই, আইনের উর্ধে জীবন ও মানবতা নয়, অভিবাসি বলে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় বাস্তুচূত করে তাড়িয়ে দেয়া হয় সেটা বাহ্যিক যত উন্নত সমৃদ্ধই হোক সেটা মোটেই উন্নত নয় সভ্য নয় আঁধার মূর্খ অমানবিক পাশবিক হিংস্র জনপদ।

যেখানে মানুষ অন্যের অধিকার স্বীকার করেনা সেটা মানুষের সমাজ নয় অমানুষের সমাজ রাষ্ট্র। যেখানে পারিবারিক বন্ধন ভালোবাসা আপনত্ব দায়িত্ব নেই- যেখানে বয়োবৃদ্ধ মা বাবা প্রবীণদের পরিবার থেকে তাড়িয়ে বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে আসা হয় সেটা উন্নত সমাজ রাষ্ট্র নয় অমানুষের ঘৃণ্য পাশবিক সমাজ রাষ্ট্র।

যেখানে মানুষ অন্য মানুষের সংকটে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে যায় না সেটা মানুষের সমাজ রাষ্ট্র নয়। যেখানে জীবনের স্বাধীনতা নেই সেটা রাষ্ট্রের নামে কারাগার, যেখানে সব মানুষের মানবিক সম্মান ও সমান অধিকার নেই সেটা পাশবিক সমাজ।

যেখানে ধর্মের প্রথা আছে ধর্মের নামে কঠোরতা আছে দয়ামায়া মানবতা উদারতা নাই সেখানে আসল ধর্ম নাই আছে কৃত্রিম ধর্ম। যেখানে ধর্ম বা রাষ্ট্রের নামে ব্যাক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করে বাধ্যতামূলক কিছু চাপিয়ে দিয়ে ধর্মের দেয়া জীবনের স্বাধীনতা মানবাধিকার হরণ করে ধর্মকে স্বৈরতায় পরিণত করে সেটা ধর্ম নয় ধর্মের নামে অধর্ম।

যেখানে মানুষ ধর্মের কথা বলেও সকল বস্তুর উর্ধে স্রষ্টার নামে স্রষ্টার উদ্দেশ্যে স্রষ্টার রেসালাত ভিত্তিক জীবন নয় স্রষ্টার ঠিকানা রেসালাত জানেনা- যেখানে স্রষ্টার আলো রেসালাতের পরিচয় ও বন্ধন নাই সেটা স্রষ্টার বন্ধনহীন আঁধার মৃত সমাজ।

যেখানে ইসলামের নাম আছে আইন আমল আনুষ্ঠানিকতা আছে কিন্তু জীবনের অন্য সবকিছুর উর্ধ্বে শানে রেসালাত প্রাণাধিক প্রিয়নবীর তাজীম মোহাব্বত সালাতু সালাম নাই-আহলে রাসুল আলাইহিমুস সালামের ভালোবাসা কৃতজ্ঞতা শোহাদায়ে কারবালার সশদ্ধ সবিনয় স্মরণ নাই- যেখানে রাব্বিল আলামিন রাহমাতাল্লিল আলামিন প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অসীম রহমতের প্রতিফলন সব মানুষের প্রতি ভালোবাসা কল্যাণ সাধনা সুরক্ষার বাস্তব কাঠামো মানবতার রাজনীতি মানবতার রাষ্ট্রব্যবস্থা নাই সেখানে আসল ইসলামের পূর্ণাঙ্গ ধারা নাই।

#আল্লামা_ইমাম_হায়াত
(মানবতার রাজনীতির প্রবর্তক ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা)

#ইশতেহারের_তাত্ত্বিক_দিকদর্শন

জীবন ও জগতের দয়াময় স্রষ্টা জীবন দিয়েছেন এবং জীবনের সঠিক পথে চলার পথ ও বিধান দিয়েছেন। জীবন চলার পথ ও বিধান একদিকে জীবনকে সাফল্যের সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানো আরেকদিকে জীবনকে ধ্বংসাত্মক বিষয়গুলো থেকে বাঁচানো।

দয়াময় স্রষ্টা ও তাঁর নবী রাসুল আলাইহিমুস সালাম ও তাঁদের প্রতিনিধিগণের মাধ্যমে দুনিয়ায় সত্য-জ্ঞান-ন্যায়-কল্যাণ-ভালবাসা- নিরাপত্তা-অধিকার-স্বাধীনতা-জীবনের বিকাশ-গতিশীলতা ও সবার জীবিকার স্বাভাবিক পথ ও ব্যবস্থা এবং কাঠামো যেমন দিয়েছেন, তেমনি দুনিয়ায় জীবন ধ্বংসাত্মক বিপরীত ধারা মিথ্যা-অবিচার-খুন- জুলুম-অধিকার-স্বাধীনতা হরণ স্বৈরদস্যুতার ধারা ও প্রক্রিয়াও আছে।

জীবনের সত্য ও সুরক্ষা এবং কল্যাণের ধারা আর অপরদিকে ধ্বংসাত্মক মিথ্যা অবিচার স্বৈরদস্যুতার দুই বিপরীত ধারার দ্বান্দ্বিক শক্তিই জীবন ও দুনিয়ার নিয়ন্ত্রক শক্তি। জীবন ও দুনিয়ার উপর এই দুই ধারার কোন ধারা জারি থাকবে বা কোন ধারা থাকবেনা তা জীবন ও দুনিয়ার প্রাকৃতিক দ্বান্দ্বিক ক্রিয়ায় এই দুই ধারার ধারক বাহকদের দ্বান্দ্বিক সম্মিলিত সক্রিয়তা ও গতিশীলতার উপর নির্ভর করে।

জীবনের জন্যই রাজনীতি ও রাষ্ট্র। জীবননীতি হিসেবেই মানবতার রাজনীতি। জীবনের কাঠামো হিসেবেই মানবতার রাষ্ট্র। রাজনৈতিক ইশতেহার হিসেবে আগে বুঝতে হবে জীবনভিত্তিক মানবতার রাজনীতি ও জীবনবিরুদ্ধ স্বৈররাজনীতির দুই বিপরীত ধারা এবং এ দুই ধারার উৎস এবং জীবন ও সমাজ রাষ্ট্রের উপর এই দুই বিপরীত ধারার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া-প্রতিফল।

জীবন বুঝার জন্য বুঝতে হবে জীবনের দয়াময় স্রষ্টার নামে জীবনের সত্য, বুঝতে হবে জীবনের সকল আলোর উৎস ও সকল কল্যাণের উৎস স্রষ্টার আলো স্রষ্টার রেসালাতের দান অবদান মুক্তির ধারা। স্রষ্টার দেয়া জীবন ও জীবনের জন্য স্রষ্টার রেসালাতের মাধ্যমে স্রষ্টার দেয়া সকল করুণাধারা হিসেবে জীবনের সকল উপায় উপকরণ অধিকার-স্বাধীনতা-নিরাপত্তা-মর্যাদা-শিক্ষা-বিকাশ-জীবিকা সবকিছুর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো হিসেবে হতে হবে রাষ্ট্র।

প্রতিটি মানুষের মন মগজ-চিন্তা চেতনা-মনস্তাত্ত্বিক গঠন-নিয়ত- স্বভাব-আচরণ- চরিত্র ও প্রকৃতি ভালো কি মন্দ, শুভ কি অশুভ, সত্য পরায়ণ না মিথ্যা পরায়ণ, সৎ না অসৎ, সত্যের ধারক না মিথ্যার ধারক, জ্ঞান না মূর্খতার ধারক, জীবনের সত্য বুঝেন কি বুঝেন না, স্রষ্টার আপন না শত্রু, মানবিক না পাশবিক, কল্যাণময় না অকল্যাণময়, সবকিছু গঠনের মূলে আছে পরিবার সমাজ ও রাষ্ট্র। পরিবার, প্রতিবেশ সমাজ ও রাষ্ট্রের পিছনে আছে হয় কোন ধর্ম বা ধর্মের নামে অধর্ম, ভালো বা মন্দ কোনো না কোনো মতবাদ মতাদর্শ এবং মানবিক বা মানবতাবিরুদ্ধ কোনো না কোনো রাজনীতি।

প্রাকৃতিক শক্তির পর জীবন ও দুনিয়ায় সবচেয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালন শক্তি হচ্ছে রাজনীতি ও রাষ্ট্র। রাজনীতির মাধ্যমে রাষ্ট্র গঠন ও পরিচালিত হয় এবং রাষ্ট্রের মাধ্যমেই জীবনের প্রায় সব দিক পরিচালিত হয়। শিক্ষা ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, আইন ব্যবস্থা, প্রশাসন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা যেমন রাষ্ট্রব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয় তেমনি জীবনের নিরাপত্তা-অধিকার-স্বাধীনতা থাকবে কি থাকবে না তা ও রাজনীতি ও রাষ্ট্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ হয়। এমনকি দুনিয়ায় সত্য মানবতার উৎস হিসেবে ধর্ম তার মৌলিক সত্যের ধারায় জারি থাকবে নাকি ধর্ম তার সত্য ও মানবতার ধারার বিপরীতে ধর্মের নামে অধর্মের মিথ্যা ও মানবতাবিরুদ্ধ স্বৈরদস্যুতার রূপ নিবে তা ও রাজনীতি ও রাষ্ট্রের চরিত্রের সাথে যুক্ত।

প্রকৃতপক্ষে রাজনীতি জীবননীতি হিসেবে সত্য ও জীবনের পক্ষ ও বিপক্ষ উভয়দিকে উভয় চরিত্র হতে পারে। জীবনের নিয়ন্ত্রক শক্তি এই রাজনীতিরও পরস্পর বিপরীত দুই ধারা আছে। এক ধারা স্রষ্টার বিধান স্রষ্টার মহান রাসুলের দান হিসেবে ও জীবনের প্রাকৃতিক রাজনীতি হিসেবে সত্য ও মানবতার সুরক্ষার রাজনীতি আর বিপরীতে মিথ্যা জুলুম স্বৈরদস্যুতার রাজনীতি। একটা সব ধর্মের সব মতপথের সব মানুষের জীবনভিত্তিক ও সবার সমান নিরাপত্তা-অধিকার-স্বাধীনতা রক্ষার রাজনীতি, আর বিপরীতে সব মানুষের জীবন ও অধিকার-স্বাধীনতা- নিরাপত্তা-স্বীকার ও উৎখাত করে এক গোষ্ঠির স্বৈরদস্যুতার রাজনীতি।

স্রষ্টা ও তাঁর মহান রাসুলের দান জীবনের রাজনীতি তথা মানবতার রাজনীতি সব মানুষের জীবনভিত্তিক সব মানুষের সমান মালিকানা ভিত্তিক ও একক গোষ্ঠির স্বৈরতামুক্ত বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ও সব মানুষের জন্মগত বিশ্বনাগরিকত্ব ও বিশ্বসম্পদে সব মানুষের মালিকানা ভিত্তিক অখন্ড মানবতার মুক্ত দুনিয়া খেলাফতে ইনসানিয়াত (State and world of universal humanity based on authority of every life irrespective of faith without any materialistic discrimination beyond all inequality and borders given by Kind Allah & his Beloved holy Rasul sallallahu alaihi wa Alihi wa sallam) গড়ে তোলা ও রক্ষার রাজনীতি।

মানবতার রাজনীতির লক্ষ্য একদিকে সব ধর্মের সব মত পথের সব মানুষের সবার জীবন ধর্ম ও রাষ্ট্র রক্ষা এবং অপরদিকে একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাজনীতির ধ্বংসাত্মক ধারা ও উৎখাতের ধারা থেকে জীবন, ধর্ম, রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র ও সব মানুষের জীবনের স্বাধীনতা রক্ষা করা। মানবতার রাজনীতি ইসলামের নির্দেশিত একমাত্র রাজনীতি এবং সব ধর্মের মৌলিক সত্য ও মানবিক শিক্ষার রাজনীতি এবং জীবন ও মানবতার প্রাকৃতিক রাজনীতি।

মানবতার রাজনীতি শুধু রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিশ্বব্যবস্থা নয় মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য বিষয় এবং জীবন বুঝার অপরিহার্য বিষয়। মানবতার রাজনীতি মানবজীবন বুঝার সাথে সাথে জীবনবিরুদ্ধ ও মানবতাবিধ্বংসী স্বৈররাজনীতি থেকে মুক্তির ধারা বুঝার বিষয়। মানবতার রাজনীতি ও স্বৈরদস্যুতার রাজনীতি সত্য-মিথ্যা এবং ধর্ম ও ধর্মের নামে অধর্ম বুঝাও জরুরী বিষয়। মানবতার রাজনীতি না থাকলে সত্যবিরুদ্ধ ও মানবতাবিধ্বংসী স্বৈররাজনীতির বিষাক্ত আধাঁর গ্রাসে সত্য ও জীবন এবং মানবাধিকার রুদ্ধ হয়ে যায়।

মানবতার রাজনীতি সব মানুষের জীবন স্বীকার ও সুরক্ষার উপর প্রতিষ্ঠিত এবং মানবতাবিরুদ্ধ স্বৈররাজনীতি সব মানুষের জীবন, ধর্ম ও অধিকার অস্বীকার ও উৎখাতের উপর প্রতিষ্ঠিত। মানবতার রাজনীতির সব মানুষের কল্যাণে সব মানুষের মানবিক স্বার্থের রক্ষক সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল রাজনীতি। মানবতার রাজনীতির মর্মকথা স্রষ্টার ভালবাসায় স্রষ্টার মহান রাসুলের ভালোবাসায় সব নবী রাসুলের ভালোবাসায় সব ধর্ম প্রবর্তকের ভালোবাসায় ও মানবতার সব ধারকদের প্রতিনিধিত্ব হিসেবে সব মানুষের প্রতি ভালবাসা ও অখন্ড মানবজাতীয়তার আলোকে অখন্ড মানবিক ভ্রাতৃত্ব ও অখন্ড মানবিক দায়িত্ব।

মানবতার রাজনীতির বিপরীত মানবতা বিনাশী স্বৈররাজনীতি যা ধর্মের প্রকৃত সত্যের বিপরীত এবং সব মানুষের জীবন অস্বীকার ও জীবনবিরুদ্ধ রাজনীতি। মানবতার রাজনীতির বিপরীত একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাজনীতি বর্তমানে দুই ধারায় চলছে। (১) ধর্মের নামে ও (২) জীবনের সত্যের বিপরীতে বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি চেতনার রাজনীতির নামে।

ধর্মের নামে রাজনীতি ও ধর্মের নামে একক ধর্মের রাষ্ট্র এবং ধর্মের আসল রাজনীতি ও ধর্মের নির্দেশিত রাষ্ট্র সম্পূর্ণ দুই বিপরীত ভিন্ন বিষয়। ধর্মের রাজনীতি একমাত্র মানবতার রাজনীতি এবং ধর্মের রাষ্ট্র একমাত্র মানবতার রাষ্ট্র। একক ধর্মের নামের রাজনীতি ধর্মের বিপরীত এবং একক ধর্মের নামে রাষ্ট্র ধর্ম ধ্বংসাত্মক। ধর্মের নামে রাষ্ট্র ক্ষমতাসীন দলীয় মতবাদ ধর্মের নামে চাপিয়ে দিয়ে ধর্মের মৃত্যু ঘটানো। যেখানে সব ধর্মের সব মানুষের সমান অধিকার-নিরাপত্তা- স্বাধীনতা নাই, রাষ্ট্রের মালিক সব মানুষ নয়, সত্য জ্ঞানের মুক্ত প্রবাহ নাই সেটা ধর্মের নামে হলেও ধর্ম নয় অধর্ম ধর্মের নামে ধোকার রাজনীতি।

বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি স্বৈররাজনীতি মানবজীবনের অস্তিত্ব বিনাশী চরম মিথ্যা ও চরম ধ্বংসাত্মক ধারা। সব মিথ্যার উৎস বস্তুবাদি মতবাদ ই বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদের উৎস। বস্তুবাদি মতবাদের উৎস নাস্তিক্যবাদি ভাবধারা। জীবন সকল বস্তুর উর্ধে কেবল জীবনের স্রষ্টার নামে জীবনের এই মৌলিক সত্যভিত্তিক অস্তিত্ব অস্বীকার করে বস্তুবাদ।

ভাষা-গোত্র-দেশ-রাষ্ট্র-লিংগ-বর্ণ-বর্ডার সকল বস্তুর উর্ধে কেবল জীবনের স্রষ্টার নামে স্রষ্টার আলোকে জীবনের সত্য ভিত্তিক মানবসত্তা যা আস্তিকতার ধারা। স্রষ্টার নামে জীবন তথা আস্তিকতার ধারার বিপরীত নাস্তিকতার ধারা বস্তুর নামে জীবন, বস্তুবাদি মতবাদ স্রষ্টার নামে জীবন অস্বীকার করে স্রষ্টার বন্ধন ছিন্ন ও স্রষ্টাকে অস্বীকার নয় মানবজীবনও অস্বীকার হয়ে যায়।

বস্তুবাদি মতবাদের মাধ্যমে জীবনের সত্য হারিয়ে বস্তুর উর্ধে জীবনের পরিবর্তে জীবনের উর্ধে বস্তু হয়ে যায়, বস্তুর ভিত্তিতে আত্মপরিচয় জাতীয়তা বস্তুবাদি চেতনার মাধ্যমে মানবচেতনা ধ্বংস করে, মানবসত্তার মৃত্যু ঘটায়, মানবতার মৃত্যু ঘটায় যার পর মানুষ দাবি মিথ্যা হয়ে যায় এবং সে মানবতার শত্রু হয়ে যায়। বস্তুবাদি সত্তা ও মানবসত্তা বিপরীত সত্তা। বস্তুবাদি সত্তা ও ঈমানী সত্তা বিপরীত সত্তা।

বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদ বস্তুবাদি মতবাদের মেকানিজম, বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি স্বৈররাজনীতি মাধ্যমেই সত্য ও মানবতার ধারা বিলুপ্ত হয় এবং ভাষা-গোত্র-দেশ- রাষ্ট্র-লিঙ্গ-বর্ণের মাধ্যমে মানুষে মানুষে বিভেদ-বিদ্বেষ-বৈষম্য তৈরি হয়ে মানবজীবনের সংজ্ঞা বিলুপ্ত হয়ে মিথ্যা ও অন্যায় অবিচার স্বৈরদস্যুতার আঁধারে জীবন ধ্বংস হয়ে যায়।

একক ধর্মের নামে অধর্ম উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক স্বৈররাজনীতি ও একক বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি স্বৈররাজনীতিই জীবনের সত্য বিলুপ্ত হওয়া, স্রষ্টার বন্ধন ছিন্ন হওয়া, মানুষ মানবতার শত্রু অমানুষ হওয়া, দুনিয়ার সকল খুন-জুলুম-স্বৈরদস্যুতা-অধিকার হরণ, জীবন রূদ্ধ হয়ে যাওয়া, মানবিক চেতনার বিলোপ হওয়া, মানুষ হিংস্রতা পাশবতার ধারক হওয়ার প্রধান কারণ।

অন্যায় যুদ্ধ বিগ্রহ, দারিদ্র, সম্পদ রুদ্ধ ও কুক্ষিগত হওয়া, শোষণ বঞ্চনা, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও মানবজীবনের সকল দুর্দশা সংকট বাস্তুচ্যুতি, উৎখাত ধ্বংসযজ্ঞ গণহত্যা সব মানবতাবিধ্বংসী অন্যায় অবিচার দস্যুতন্ত্রের মূল কার্যকরণ চলমান দুই স্বৈরদস্যুরাজনীতির ধারা।

সত্য, জ্ঞান, প্রকৃত ধর্ম, জীবন, মানবসত্তা, মানবিক গুণাবলী, মানবিক ভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার, জীবনের নিরাপত্তা, সব মানুষের সমান অধিকার, জীবনের স্বাধীনতা, পুনরুজ্জীবিত করতে হলে, স্বৈররাজনীতির খুন-জুলুম-স্বৈরদস্যুতা-ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্ত হতে হলে স্রষ্টার বিধান ও স্রষ্টা মহান রাসুলের দান হিসেবে- জীবনের প্রাকৃতিক ন্যায়নীতি ও সুরক্ষা হিসেবে বস্তুর উর্ধে মানবসত্তার ভিত্তিতে মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার দুনিয়ার লক্ষ্যে মানবতার অস্তিত্ব ও জীবননীতি হিসেবে বিশ্বব্যাপী মানবতার রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে হবে।

মানবতার রাজনীতি পুনরুজ্জীবিত না হলে এবং মানবতার রাজনীতির ভিত্তিতে তথা সব মানুষের জীবনের ভিত্তিতে মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার বিশ্বব্যবস্থা কাঠামো খেলাফতে ইনসানিয়াত বিপ্লব মানবতার আত্মিক ও রাজনৈতিক বিপ্লব না হলে আত্মা- জীবন-অধিকার- স্বাধীনতা কখনোই মিথ্যা-জুলুম-খুন-সন্ত্রাস-স্বৈরদস্যুতার ধ্বংসযজ্ঞ থেকে মুক্ত হবে না, মানুষ জীবনের সত্য ও স্রষ্টার বন্ধন ফিরে পাবে না, স্রষ্টার আলো মহান রাসুলের আলোকে আলোকিত জীবন হবে না, জীবন মিথ্যা জুলুমের ধারক একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈরদস্যুতার মর্মান্তিক শিকার হতে থাকবে অবিরত এবং রাষ্ট্র হবে মিথ্যা-জুলুমের ধারক খুনি স্বৈরদস্যুতার হাতিয়ার জীবনবিনাশী মানবতাবিনাশী কারাগার।

আত্মা-জীবন-ধর্ম-রাষ্ট্র-গণতন্ত্র জীবনের সবকিছু সমগ্র দুনিয়া এখন একক ধর্মের নামে ও বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাজনীতির আঁধার গ্রাস ও জবরদখলে রুদ্ধ। মিথ্যার ধারা কায়েম হওয়ার কারণে এবং নিকট ইতিহাসে শতাব্দীর পর শতাব্দী সত্য ও মানবতার ধারার সংগঠিত রাজনৈতিক ধারা না থাকায় মানবজীবনের সত্যভিত্তিক সংজ্ঞা তথা মানবসত্তার সংজ্ঞা যেমন নাই তেমনি ধর্মের সংজ্ঞা তথা ধর্মের মৌলিক সত্য বিলুপ্ত হয়ে ধর্মের নামে মিথ্যা-জুলুম- খুন-স্বৈরদস্যুতার ধারা চলছে, রাজনীতির সংজ্ঞা বিলুপ্ত হয়ে একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাজনীতির স্বৈরদস্যুতার ধারা রাজনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। ধর্মের নামে অধর্ম ও বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি স্বৈররাজনীতির বিষাক্ত আঁধার ধারায় স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রের সংজ্ঞাও বিকৃত ও বিপরীত হয়ে গেছে।

প্রকৃতপক্ষে একক ধর্ম একক মতবাদ একক পেশা ইত্যাদি ভিত্তিতে দল সংগঠন হতে পারে কিন্তু রাজনৈতিক দল হতে পারেনা। দল আর রাজনৈতিক দল এক বিষয় নয় অথচ একক গোষ্টিবাদি দলকে রাজনৈতিক দল বলে জীবন ও রাষ্ট্র অস্বীকার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দল হতে হলে সব মানুষের জীবন ও অধিকার ভিত্তিক হতে হবে, সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে এবং রাষ্ট্র এক গোষ্ঠির নয় সব মানুষের এটা স্রষ্টার অলঙ্ঘনীয় বিধান হিসেবে স্বীকার ও কার্যকর করতে হবে। অথচ চলছে মিথ্যা মূর্খতা জুলুমের ধারা, সত্য-জ্ঞান-ন্যায়-মানবতার বিপরীত ধারা। অধর্ম উগ্রবাদি বিভক্তি ও বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি বিভক্তিকে স্বাধীনতা বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে, একক গোষ্টিবাদি স্বৈরদস্যুতার কারাগারকে রাষ্ট্র বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

একমাত্র সত্য-ন্যায়-মানবতার ভিত্তিতেই সবকিছুর মূল্যায়ন ও ইতিহাসের মূল্যায়ন হতে হবে। প্রকৃত ধর্মের ধারক হলে এবং ন্যায় ও মানবতার ধারক হলে মানবতাবিরূদ্ধ কোন কিছুই সমর্থন করা যায়না। মানবতাবিরূদ্ধ কোন কিছু সমর্থন করে মানুষ দাবি ও ধর্মের সত্যের দাবি মিথ্যা হয়ে যায়।

আমরা সব ধর্মের সব মত পথের মানুষ যারা সকল বস্তুর উর্ধে গন্ডীর উর্ধে স্রষ্টার নামে স্রষ্টার আলোকে জীবনের সত্যভিত্তিক আত্মপরিচয় ও মানবসত্তায় বিশ্বাস করি, স্রষ্টার বিধান ও রাসুলের দান হিসেবে সব মানুষের বাঁচার অধিকার হিসেবে রাষ্ট্র ও দুনিয়া এবং সম্পদ সবার বিশ্বাস করি, সব মানুষের নিজের বিশ্বাস ধর্ম মত পথ নিয়ে চলার স্রষ্টা প্রদত্ত বিধানে বিশ্বাস করি, স্রষ্টা প্রদত্তভাবে সব মানুষের জীবনের আত্মমালিকানা ও রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও বিশ্বনাগরিকত্বে বিশ্বাস করি, স্রষ্টার ভালোবাসায় প্রাণাধিক রাসুলের ভালোবাসায় সব মানুষকে ভালোবাসি এবং মানবজাতীয়তা ও মানবিক ভ্রাতৃত্বের আলোকে অখন্ড মানবতার অখন্ড দুনিয়ায় বিশ্বাস করি, সব মানুষের সমান মর্যাদা- নিরাপত্তা- অধিকার- জীবনের স্বাধীনতা-রুটিরুজি ভিত্তিক মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার দুনিয়ায় বিশ্বাস করি, সত্য ও মানবতার বিপরীত ধারা খুন-জুলুম-অন্যায়-অবিচার-অধিকার হরণ-রুদ্ধতা-পাশবতা- হিংস্রতা উৎখাত ধ্বংসাত্মক কাঠামো একক গোষ্ঠির স্বৈররাজনীতি ও একক গোষ্ঠির স্বৈররাষ্ট্র মুলুকিয়ত স্রষ্টাদ্রোহিতা ও জীবনবিনাশী মানবতাবিধ্বংসী অপরাধ ও যুদ্ধ মনে করি-

আমরা স্রষ্টা ও তাঁর মহান রাসুলের আপন ও সব নবী রাসুল স্রষ্টা ভিত্তিক সব ধর্ম প্রবর্তক ও মানবতার সকল ধারক রক্ষকের উত্তরাধিকার প্রতিনিধিত্ব হিসেবে সর্বোচ্চ ঈমানী কর্তব্য ধর্মীয় কর্তব্য এবং জীবন মানবতার অস্তিত্ব রক্ষায় অবিকল্প অপরিহার্য সর্বোচ্চ কর্তব্য হিসেবে মানবসত্তা- মানবতার রাজনীতি- মানবতার রাষ্ট্র- মানবিক সমাজ- মানবতার অর্থনীতি- মানবিক সাম্য- মানবিক ভ্রাতৃত্ব- মানবতার দুনিয়ায় একমাত্র সংগঠন একমাত্র দিশা ও কর্মসূচী আমরা সব মানবিক মানুষের সম্মিলিত নাম বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব World humanity revolution.

আমরা সব মানুষের জীবন-ধর্ম-রাষ্ট্র-গণতন্ত্র-মানবাধিকার রক্ষায় সব মানবিক মানুষকে একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাজনীতি বর্জন করে একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈর রাষ্ট্রব্যবস্থা ও মানবতাবিরুদ্ধ পাশবিক বিশ্বব্যবস্থা পরিবর্তন করে মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার দুনিয়া প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শরিক হওয়ারও আসন্ন রাষ্ট্রীয় সংসদ নির্বাচনে ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ এর মনোনীত মানবতার প্রতিনিধিদের ভোট দিয়ে বিলুপ্ত সত্য ও জীবনের এ সংকটে সত্য ও মানবতার ধারা পুনরুজ্জীবিত করার আবেদন জানাচ্ছি।

আমরা উপলদ্ধি করি যে, জীবন ও রাষ্ট্রের সকল সংকট ও দুর্দশার মূলে এবং মিথ্যা-অবিচার-শোষণ-দারিদ্র-খুন-সন্ত্রাস-ধ্বংসযজ্ঞের মূলে আছে একক ধর্মের নামে ও একক বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি স্বৈররাজনীতি, আর জীবনের সকল সংকট-দুর্দশা- দারিদ্র-বঞ্চনা-বিভেদ-বৈষম্য- ন্যায়-অবিচার থেকে মুক্তি এবং জীবনের সকল সৌন্দর্য-সম্মান- অধিকার-স্বাধীনতা-নিরাপত্তা-রুটিরুজি-গতিশীলতার জন্য অপরিহার্য প্রয়োজন মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার দুনিয়া।

মানবতার রাজনীতিই মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার দুনিয়া গড়ার বাস্তব প্রক্রিয়া। মানবসত্তা ও মানবতার রাজনীতিই সত্য ও মানবতার মুক্তির ঐতিহাসিক সূর্যোদয়। কেবলমাত্র সত্যের আলোকে মানবতার রাজনীতির ধারায় মানবতার রাষ্ট্র ও মানবতার দুনিয়াই আমরা সব মানুষকে জীবনের দয়াময় স্রষ্টা ও তাঁর মহান রাসুলের সকল দান কল্যাণ সকল অনুগ্রহ সহায় সম্পদ জীবিকা সমৃদ্ধি ও জীবনের সকল সৌন্দর্য ও মহিমা এনে দিতে পারে।

মানবতার রাজনীতি অস্বীকার মানবজীবন ও মানবতার রাষ্ট্র অস্বীকার। মানবতার রাজনীতির সমর্থক ধারক না হওয়া মানে মানবতাবিধংসী ও সত্যবিরুদ্ধ গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাজনীতির স্বৈরদস্যুতা প্রতিষ্ঠায় ও কায়েম থাকার সাহায্য করা। মানবতার রাজনীতি সত্যের প্রবাহ ধারা জারি রাখা। মানবতার রাজনীতি জীবনকে জীবনবিনাশী মানবতাবিধ্বংসী অপশক্তির গ্রাস থেকে মুক্ত রাখার অবিকল্প অপরিহার্য সুরক্ষা। মানবতার রাজনীতি ছাড়া মানবতার রাষ্ট্র হয় না। মানবতার রাষ্ট্র না হলে জীবন ও রাষ্ট্র খুনি জালিম অপশক্তির স্বৈরদস্যুতার গ্রাসে জবরদখল ও রুদ্ধ হয়ে যায়। মানবতার রাষ্ট্র না হলে রাষ্ট্র জীবনের বিরুদ্ধে অপশক্তির হাতিয়ার কারাগার কসাইখানা হয়ে যায়।

#আল্লামা_ইমাম_হায়াত
(মানবতার রাজনীতির প্রবর্তক ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা)

মানবতার রাষ্ট্রের লক্ষ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লবের নির্বাচনি ইশতেহার-
মানবতার রাষ্ট্রের লক্ষ্যে ইনসানিয়াত বিপ্লব, বাংলাদেশ এই ইশতেহার বা নির্বাচনি ম্যানিফেস্টোর ভিত্তিতে জনগণের রায় চায়-

(১) রাষ্ট্র হবে সাংবিধানিকভাবে সব ধর্মের সব মত পথের সব মানুষের সমান মালিকানা ও সমান নাগরিকত্ব ভিত্তিক সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র।

(২) রাষ্ট্র একক ধর্ম-একক জাতি-একক মতবাদ-একক দলভিত্তিক- একক গোষ্ঠীভিত্তিক হতে পারবে না, এটা অলঙ্ঘনীয় সাংবিধানিক মৌলিক বিধিবদ্ধ থাকতে হবে।

(৩) রাষ্ট্রের বাইরের ও ভিতরের সকল অপশক্তির জবরদখল থেকে রাষ্ট্রের বাহ্যিক স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ স্বাধীনতা ও জীবনের স্বাধীনতা রক্ষা করা হবে।

(৪) প্রত্যেক মানুষ তার জীবন-বিশ্বাস-ধর্ম-মত-পথ-আদর্শ- সংস্কৃতি নিয়ে স্বাধীনভাবে চলবেন ও পালন করবেন, রাষ্ট্র বা কেউ কারো উপর তার জীবন-ধর্ম- বিশ্বাস-মতপথের বিপরীত কিছু চাপিয়ে দিতে পারবেনা বা কারো ধর্ম-মত-পথ কিছু নিষিদ্ধ করতে পারবেনা।

(৫) ধর্মের সত্য ও ধর্মের স্বাধীনতা রক্ষায় ও ধর্মের মুক্ত প্রবাহ রক্ষায়, ধর্মের নামে রাজনৈতিক ধোকা প্রতারণা রোধে, ধর্মের নাম আবেগ অনুভূতির অপব্যবহার রোধে, ধর্মের বিকৃতি রোধে, উগ্রবাদ জঙ্গিবাদ রোধে, ধর্মের নামে রাজনৈতিক দল ও একক ধর্মের নামে রাষ্ট্র করার ধর্মবিনাশী চক্রান্ত সাংবিধানিকভাবে বন্ধ করা হবে। ধর্মের নামে ধর্মের আত্মিক রাজনৈতিক মানবিক শিক্ষা তুলে ধরার জন্য ধর্মের নামে দল সংগঠন সংস্থা হতে পারে কিন্তু রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র হতে পারে না, ধর্মের নামে একক ধর্মরাষ্ট্রের জন্য নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। ধর্ম কোন একক দলীয় বিষয় নয়, ধর্ম কোন একক দল বা গোষ্ঠির বিষয় নয়, ধর্মকে দলীয়করণ ও রাষ্ট্রীয়করণ থেকে বাঁচানোর জন্য তথা ধর্ম রক্ষায় ও রাষ্ট্র রক্ষায় ধর্মের নামে রাজনৈতিক দল নিবন্ধন বাতিল করা হবে।

(৬) দলীয় সরকার হলেও সব মানুষের পক্ষে- সব মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সর্বজনীন রাষ্ট্রের পক্ষে শপথ নিতে হবে, শপথ নেওয়ার পর রাষ্ট্র ও সব মানুষের বৈষম্যহীন প্রতিনিধিত্ব করতে হবে, দলীয় মতবাদ চাপিয়ে দেওয়া যাবে না, রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের সুযোগ সুবিধা, জনগণের হক, সম্পদ, চাকুরি ও কোনোকিছুই একক দলীয়করণ করা যাবে না। রাষ্ট্রীয় সব বিষয়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং কোনো গোপন চুক্তি করা যাবে না।

(৭) প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জনগণের নির্বাচিত নন এমন কোন ব্যক্তি সরকার প্রধান বা রাষ্ট্র প্রধান হতে পারবেন না। সকল নির্বাচন চলমান সংসদ বিলোপ করে রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে নির্বাচনী ইন্টেরিম সরকারের মাধ্যমে হতে হবে।

(৮) সকল রাষ্ট্রীয় সংসদ নির্বাচন মোবাইল ফোনে ভোটিং অ্যাপের মাধ্যমে যার যার ভোটার আইডির নম্বর ও পাসওয়ার্ড এর ভিত্তিতে বৃদ্ধাঙ্গুলির ছাপের মাধ্যমে হতে হবে। যেন দেশের ভিতরের বাইরের সব নাগরিক যার যার স্থানে থেকে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন।

(৯) রাষ্ট্র ও সরকার জনগণের মধ্যে ধর্ম-ভাষা-গোত্র-লিঙ্গ-বর্ণ- শ্রেণীগত কোনো বৈষম্য বিভেদ করতে পারবেনা, সব মানুষের মানবিক সাম্যভিত্তিক সমান অধিকার মর্যাদার রক্ষক হবে রাষ্ট্র ও সরকার।

(১০) রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিটি নাগরিকের জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের নিরাপত্তা বিধান করা হবে।

(১১) প্রবাসীদের সুরক্ষা ও কল্যাণে সরকার ও দূতাবাসসমূহ যত্নশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে, কোন প্রবাসী প্রবাসে ইন্তেকাল করলে রাষ্ট্রীয় খরচে তাকে দেশে আনতে হবে, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের আসা-যাওয়া হয়রানিমুক্ত ও সহজ এবং সম্মানজনক করতে হবে। একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত প্রবাসীদের আনা সব মালামাল করমুক্ত করা হবে।

(১২) আবাস গৃহের কর আদায় প্রত্যাহার করে সব আবাসিক পারিবারিক গৃহ করমুক্ত করা হবে, নির্দিষ্ট পরিমাপের নিম্নে জমিও করমুক্ত ও খাজনা মুক্ত করা হবে।

(১৩) জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধ ও উপকরণ সকল প্রকার শুল্কমুক্ত ও করমুক্ত করা হবে। প্রত্যেক জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার্বক্ষণিক সরকারি হসপিটাল করা হবে।

(১৪) শহর বা পাড়ায় গ্রাম্য বিচার সালিশের নামে বা ফতোয়াবাজির নামে ধর্মের নামে মানুষের উপর সকল অন্যায়-অবিচার-আতঙ্ক- মবসন্ত্রাস-জুলুম-টর্চারসেল স্বৈরতা দস্যুতা বন্ধ করা হবে। কারো জীবনের উপর অন্য কারো কোনো অবৈধ অন্যায় কর্তৃত্ব থাকবে না। কেউ কারো হক লঙ্ঘন বা ক্ষতি করে থাকলে রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনানুগ আদালতের মাধ্যমে বিচার সমাধান করা হবে।

(১৫) উৎপাদন থেকে ভোক্তা ক্রেতা পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্যের ভেজাল বিষাক্ততা দূষণমুক্ত কঠোরভাবে মুক্ত রাখতে হবে। মূল্যস্ফীতি দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি রোধে ও ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার সকল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

(১৬) রাষ্ট্র মাধ্যমিক পর্যন্ত প্রতিটি শিশুর অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, ভর্তি ফি, পরীক্ষা ফি এসব অন্যায় ব্যবসা বন্ধ করা হবে।

(১৭) স্রষ্টার ভালোবাসা ভিত্তিক ও স্রষ্টার মহান রাসুলের ভালোবাসায় ও যার যার ধর্ম প্রবর্তকের ভালোবাসায় সব মানুষকে ভালোবাসা ভিত্তিক মানবিক শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে যার মাধ্যমে মানবিক ও ন্যায়পরায়ণ কল্যাণময় মানুষ ও সমাজ তৈরি হবে।

(১৮) ধর্মের নামে আইন আমল ফতোয়ার বাড়াবাড়ি বা কোন বিশেষ গোষ্ঠির মতবাদ কেউ যেন ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রের উপর চাপিয়ে দিতে না পারে তা রাষ্ট্র ও সরকার নিশ্চিত করা হবে।

(১৯) সব মানুষের জীবন নিরাপদ, স্বাধীন, আতংকমুক্ত থাকার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সরকারকে নিতে হবে। তবে স্বাধীনতার অপব্যবহার করে কোন নবী রাসুল ধর্ম প্রবর্তক বা কোন মত পথ আদর্শের অনুসরণীয় প্রবর্তকদের অবমাননা করা যাবে না।

(২০) একক ধর্মের নামে বা একক বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদভিত্তিক একক গোষ্ঠিবাদি দল সংগঠন হতে পারবে কিন্তু রাজনৈতিক দল হতে হলে একক ধর্মের নামে বা একক বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি মতবাদভিত্তিক রেসিজমভিত্তিক হতে পারবেনা, রাজনৈতিক দল হতে হলে সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল হতে হবে যেন রাষ্ট্র একক গোষ্ঠির জবরদখলে মানবতাবিরুদ্ধ হাতিয়ার হয়ে না যায়।

(২১) রাষ্ট্র ও সরকার রাষ্ট্রের প্রতিটি মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থানের দায়িত্ব নিতে হবে এবং নিশ্চিত করা হবে।

(২২) জনগণই রাষ্ট্রের মালিক হিসেবে সাংবিধানিকভাবে বিধিবদ্ধ থাকতে হবে এবং জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সরকার জনগনের সবার সরকার হিসেবে সবার দায়িত্ব পালন করবেন এবং জনপ্রতিনিধিত্বের মাধ্যমে সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহি থাকবে।

(২৩) মানুষ যেন অমানুষ অপরাধী হয়ে গড়ে না উঠে এবং মানুষ যেন মানবিক ও ন্যায়বান হয় সেভাবে মানবিক মানুষ গড়ে তোলাই হবে রাষ্ট্রের মূল মানবিক লক্ষ্য।

(২৪) আদালত, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মানবিক হবেন এবং নির্বাহী বিভাগের অন্যায় হস্তক্ষেপমুক্ত থাকবেন কিন্তু রাষ্ট্রপতির কাছে জবাবদিহি থাকবেন যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে।

(২৫) খাদ্য ও ঔষধ অন্যান্য সকল উৎপাদনে রাষ্ট্রকে আমদানিমুক্ত স্বনির্ভর স্বাবলম্বী বিদেশ নির্ভরতামুক্ত করতে হবে যেন যে কোনো বৈশ্বিক দুর্যোগে জনগণ বিপন্ন ও সংকটে নিপতিত না হোন।

(২৬) রাস্তাঘাট, জল স্থল আকাশ সব যাতায়াত যোগাযোগ শতভাগ নিরাপদ ও দুর্বৃত্তমুক্ত করতে হবে এবং দুর্ঘটনার হার শূন্যে নামিয়ে আনতে হবে।

(২৭) প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ এবং গণহত্যায় লিপ্ত ও মানবাধিকার হরণকারি নিপীড়ক রাষ্ট্র ছাড়া সব রাষ্ট্রের সাথে নিজেদের স্বার্থ ও মর্যাদা এবং স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রেখে সুসম্পর্ক রাখতে হবে এবং সকল রাজনৈতিক বিদ্বেষ শত্রুতা পরিহার করে চলতে হবে।

(২৮) বিশ্ব মানবতার যে কোনো সংকট দূর্যোগ অন্যায় অবিচার হত্যাকাণ্ডে বিপন্ন মানবতার পাশে আশ্রয় হিসেবে রাষ্ট্র ও সরকার জনগণকে নিয়ে ভূমিকা রাখতে হবে এবং রাষ্ট্রকে বিপন্ন মানবতার সহায় ও আশ্রয় হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

(২৯) প্রতিটি ব্যক্তি ও পরিবারের সংকটে রাষ্ট্র ও সরকারকে পাশে দাঁড়াতে হবে।

(৩০) জ্ঞান বিজ্ঞান প্রযুক্তি এবং মানবতার আদর্শে রাষ্ট্রকে সমগ্র দুনিয়ার সবার জন্য দিশারী ও আদর্শ করে গড়ে তুলতে হবে।

(৩১) সব নাগরিকের কর্মসংস্থান, উপার্জন, বিনিয়োগের সহায়ক হবে রাষ্ট্র ও সরকার এবং জনসংখ্যাকে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত উচ্চ মানের জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে।

(৩২) গিফটেড শিশু, উপার্জনে অক্ষম মানুষ, উপার্জনহীন বিধবা, বয়োঃবৃদ্ধ অক্ষম অসহায় মানুষ সবার সার্বিক দায়িত্ব পরিবারের সহায়তায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে যেন কেউ রাষ্ট্রহীন অসহায় বিপন্ন বোধ না করেন।

(৩৩) মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস আদালত, শিল্প কারখানা দলীয় রাজনীতির কমিটি মুক্ত ও একক দলীয় রাজনীতির জবরদখল কুক্ষিগত করা থেকে মুক্ত রাখতে হবে।

(৩৪) রাষ্ট্রীয় সম্পদে ও প্রাকৃতিক সম্পদে সব মানুষের সমান মালিকানাভিত্তিক মানবতার অর্থনীতি ও সম্পদের গণতন্ত্রায়ণ করা হবে।

(৩৫) জীবনের স্বাধীনতা হরণকারী, অধিকার নিরাপত্তা হরণকারী, মৌলিক মানবাধিকার রূদ্ধকারী, নিপীড়ন নির্যাতনমূলক, স্বৈরতামূলক সকল আইন কালাকানুন বাতিল করা হবে। জীবনকে মুক্ত ও রাষ্ট্রকে মানবতার রক্ষক ও আশ্রয় হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

(৩৬) সব মানুষের জীবনের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্ব হিসেবে নেয়া হবে এবং বিশেষভাবে মা বোনদের শিশুদের খুন ধর্ষনের বিরূদ্ধে জরুরী বিশেষ আদালত গঠন করে দ্রুত মৃত্যুদণ্ড ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সম্পূর্ণ অপরাধ মুক্ত মানবিক সমাজের জন্য অন্য সকল প্রতিরোধব্যবস্থা সাথে সকল অপরাধের দ্রুত কঠোর বিধান কার্যকর করা হবে।

(৩৭) জীবনের সত্য প্রতিষ্ঠায় লিঙ্গগত বস্তুবাদি বৈষম্যের মূলোৎপাটন করে মানুষ হিসেবে মা বোনদের সমান মর্যাদা-অধিকার- স্বাধীনতা-শিক্ষা- জীবনের বিকাশ-নিরাপত্তা ও স্বাবলম্বী জীবন সুনিশ্চিত করা হবে।

(৩৮) অর্থনীতির বিকাশ, সমৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে সকল বিনিয়োগ প্রশ্নের উর্ধে রাখা হবে ও হয়রানিমুক্ত সাবলীল স্বাভাবিক নিরাপদ রাখতে হবে। সকল অপ্রদর্শিত আয় পাচার রোধে ও অর্থনীতির মূল প্রবাহে যুক্ত হওয়ার নিরাপদ ব্যবস্থা করা হবে।

(৩৯) মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয়ে খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা একটা অংশ রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রদান করা হবে।

(৪০) দেশের সকল ছিন্নমূল পরিবারের নিজ নিজ এলাকায় পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে এবং কাউকে রাষ্ট্রীয় ভাতার মুখাপেক্ষী না রেখে স্বাবলম্বী করার ব্যবস্থা করা হবে।

(৪১) রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবহারে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় অপচয় ও দুর্নীতি সম্পূর্ণ রোধ করা হবে।

(৪২) কৃষকদের জন্য বিনামূল্যে উৎপাদন উপকরণ, নিরাপদ সার ও সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করা হবে এবং উৎপাদিত পণ্যে মধ্যসত্ত্বভোগীদের কারসাজি দূর করে ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হবে।

(৪৩) সকল প্রকার মিথ্যা মামলা অন্যায়ভাবে কাউকে আটক রেখে উপার্জন ধ্বংস ও পরিবার ধ্বংস করা বন্ধ করা হবে। থানা-জেল-রিমান্ড কোনোভাবেই কোথাও কাউকে নির্যাতন বন্ধ করা হবে।

(৪৪) অন্যের অধিকার মর্যাদা হানি না করে এবং মিথ্যার প্রশ্রয় না দিয়ে বাক স্বাধীনতা, ব্যাক্তি স্বাধীনতা, সাংবাদিকের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সবার লেখা বলার স্বাধীনতা, অন্যায় অবিচারের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের নিরাপদ অধিকার থাকতে হবে।

(৪৫) জনগণের চলার পথ রোধ করে বা জনজীবনে বাধা সংকট তৈরি করে কোনো প্রকার ধর্মীয় সমাবেশ, রাজনৈতিক সমাবেশ, পেশাগত দাবির সমাবেশ, দিবস উপলক্ষ পালন বা কোনো অনুষ্ঠান করা হবে না।

(৪৬) সকল লাভজনক শিল্প কারখানায় বেতন ছাড়াও দায়দেনা পরিশোধ সাপেক্ষে বার্ষিক নিট লাভের একটা ন্যূনতম অংশ হলেও শ্রমিক কর্মচারীদের দিতে হবে।

(৪৭) সকল প্রকার চাঁদাবাজি কঠোরভাবে দমন ও নির্মূল করা হবে। ধর্মের নামে রাজনৈতিক দলের নামে যে কোনোভাবে সকল প্রকার দস্যুতা-গুন্ডামি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস-লুটতরাজ-চুরি-ডাকাতি থেকে জনগণের জীবন চলাচল ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছু সম্পূর্ণ নিরাপদ ও আতঙ্কমুক্ত করা হবে।

(৪৮) জলস্থল আকাশে সব ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষাকে জীবন রক্ষা হিসেবে নেয়া হবে। জীবনের সকল ক্ষেত্রে এবং দেশের সকল ক্ষেত্রে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং দূষণমুক্ত রাখা সব মানুষের জীবনের সৌন্দর্য ও দায়িত্ব হিসেবে নিতে হবে। ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার জীবননাশক হিসেবে বন্ধ করা হবে। বৃক্ষায়ণ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও নদী সংরক্ষণ করা হবে এবং কৃত্রিম বন্যা থেকে জনগণের ঘরবাড়ি সহায় সম্পদ ফসল রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মশার জন্ম প্রতিরোধ করে ডেঙ্গু ও সকল রোধ প্রতিরোধ করা হবে।

(৪৯) শিশু-কিশোরদের স্কুলিং ক্লাস শিক্ষা খুবই সহজ আনন্দময় ও শিশু-কিশোর স্বভাবের সাথে সংগতিপূর্ণ হতে হবে এবং ভয়ভীতিমুক্ত নির্যাতনমুক্ত ও চাপমুক্ত হতে হবে। শিশুকাল থেকেই স্রষ্টার নামে জীবনের সত্য ও স্রষ্টার আলো রেসালাতের আলোকে আলোকিত জীবন এবং নৈতিক ও মানবিক আদর্শে সত্যভিত্তিক মানবিক জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলা হবে। সব ধর্মের শিশুদের তাদের নিজ নিজ ধর্মের মৌলিক সত্য ও মানবিক শিক্ষার ধারায় গড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। শিশুকাল থেকেই মানবিক গুণাবলীর বিকাশ ঘটাতে হবে এবং মিথ্যা-অবিচার-অন্যায়-অপরাধ-আমানবতা-পাশবতা বিরোধী এবং বিবেকবান বিশ্বস্ত দায়িত্বশীল আদর্শ মানুষ হিসাবে জীবনের ভিত্তি তৈরি করা হবে, যেন সত্য-মিথ্যা, ধর্ম-অধর্ম, ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করে সত্য ও মানবতার ধারক হতে পারে এবং মিথ্যার সকল ধোকা থেকে মুক্ত থেকে আল্লাহ রাসুলের হয়ে বেঁচে থাকতে পারেন।

#আল্লামা_ইমাম_হায়াত
(মানবতার রাজনীতির প্রবর্তক ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা)

মানবিক মানুষ হিসেবে মানবতার রাজনীতির ধারক হতে হবে

রাজনীতির সাথে জীবনের ভালোমন্দ সবকিছুই জড়িত, অরাজনৈতিক হওয়া যেমন মিথ্যা জুলুমের স্বৈরদস্যুতার কাছে আত্মসমর্পণ, তেমনি একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাজনীতির অনুসারী হওয়া মিথ্যা জুলুমের অংশ হয়ে যাওয়া। জীবনের কল্যাণ ও সুরক্ষার একমাত্র রাজনীতি মানবতার রাজনীতি।

একক ধর্মের নামে রাষ্ট্র জবরখলের স্বৈররাজনীতি ধর্মের নামে দলীয় মতবাদ চাপিয়ে দিয়ে ধর্ম ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র ও ধোকা। ধর্মের নির্দেশিত রাজনীতি স্রষ্টার ভালোবাসায় সব মানুষের ভালোবাসা ভিত্তিক মানবতার রাজনীতি। বস্তুর উর্ধে স্রষ্টার নামে জীবনের সত্যভিত্তিক মানবসত্তা ও মানবজীবন অস্বীকার এবং সকল মিথ্যা মূর্খতার উৎস বস্তুবাদি মতবাদ ভিত্তিক জাতীয়তাবাদি রাজনীতি মানবতাবিধ্বংসী স্বৈররাজনীতি।

একক ধর্মের নামে ও একক বস্তুবাদি জাতীয়তাবাদি চেতনার নামে চলমান এই দুই স্বৈররাজনীতিই মানবজীবনের সকল দুর্দশা-সংকট-দারিদ্র-শোষণ-বঞ্চনা ও দুনিয়ায় সকল খুন-গণহত্যা-রাষ্ট্রীয়সন্ত্রাস-বাস্তুচ্যুতি-উৎখাত-ধ্বংসযজ্ঞ-অন্যায় যুদ্ধ বিগ্রহ এবং মানুষ অমানুষ হওয়া ও সত্য ও মানবতার বিলুপ্তির জন্য দায়ী। একক গোষ্ঠিবাদি এই দুই স্বৈররাজনীতির বিষফল সত্য ও মানবতার বিরুদ্ধে খুন জুলুম দস্যুতা ভিত্তিক একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাষ্ট্রব্যবস্থা।

স্বৈররাজনীতির জবরদখলে একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাষ্ট্র মানে জীবন-ধর্ম-রাষ্ট্র- গণতন্ত্র-মানবাধিকার ধ্বংস হয়ে যাওয়া। একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাজনীতি ও স্বৈররাষ্ট্রব্যবস্থার গ্রাস বিনাশ থেকে সব মানুষের জীবন, সবার ধর্ম, রাষ্ট্র, গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষার একমাত্র উপায়-

সব মানুষের জন্য দয়াময় স্রষ্টা ও তাঁর মহান রাসুল সত্য ও মানবতার মুক্তির উৎস প্রাণাধিক প্রিয়নবীর দেয়া সব ধর্মের সব মতপথের সব মানুষের সমান নিরাপত্তা-অধিকার-জীবনের স্বাধীনতা-মর্যাদা-মালিকানা ভিত্তিক সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ও

মানবিক সাম্য ও বিশ্বসম্পদে সব মানুষের মালিকানা এবং প্রতিটি মানুষের জন্মগত বিশ্বনাগরিকত্ব ভিত্তিক মুক্ত জীবনের অখন্ড মানবতার দুনিয়া খেলাফতে ইনসানিয়াত গড়ে তোলার জীবননীতি মানবতার রাজনীতি।

ভাষা-গোত্র-দেশ-রাষ্ট্র-লিঙ্গ-বর্ণ সকল বস্তুর উর্ধে জীবনের দয়াময় স্রষ্টার নামে স্রষ্টার আলোকে মানবসত্তার ভিত্তিতে ও অখন্ড মানবজাতীয়তার ধারায় সব মানুষের কল্যাণে সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল সর্বজনীন মানবতার রাজনীতির একমাত্র দল বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব।

ইনসানিয়াত বিপ্লবের বিজয় মানবজীবনের বিজয়, আপনি আমি সব ধর্মের সব মতপথের সব মানবিক মানুষের বিজয়। বিপন্ন জীবন-ধর্ম-রাষ্ট্র-গণতন্ত্র-মানবতা রক্ষায় আসন্ন নির্বাচনে ইনসানিয়াত বিপ্লবে আপেল মার্কায় ভোট দিন।

আপনি আমি যে কোন ধর্মের যে কোনো মতপথের অনুসারী হই আমরা সব মানুষেরই জীবনের স্রষ্টা প্রদত্ত নিরাপদ জীবন-স্বাধীন জীবন- জীবনের সকল অধিকার- রাষ্ট্রীয় অধিকার এবং সকল অবিচার-আতঙ্ক- অন্যায়-রুদ্ধতা-পাশবতা-দস্যুতা-সন্ত্রাস-হামলা- মিথ্যা মামলা থেকে মুক্ত গতিশীল জীবন প্রয়োজন। আর এজন্য প্রয়োজন মানবতার রাষ্ট্র। মানবতার রাজনীতির মাধ্যমে মানবতার রাষ্ট্র ছাড়া কখনোই নিরাপদ জীবন শান্তিময় স্বাধীন মুক্ত জীবন হবে না।

একক ধর্মের নামে ও একক বস্তুবাদি জাতিবাদি গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাজনীতির বিষফল একক গোষ্ঠিবাদি স্বৈররাষ্ট্র মানেই জীবনের অধিকার-স্বাধীনতা-জীবিকা হরণ করা-নিরাপত্তা ধ্বংস করা এবং স্বৈরদস্যুতার ক্রীতদাস করে রাখা।

তাই নিজেকে ভালোবাসলে ও রক্ষা করতে চাইলে-
নিজের ধর্মকে ভালোবাসলে ও রক্ষা করতে চাইলে-
নিজের মত পথকে ভালোবাসলে ও রক্ষা করতে চাইলে-
রাষ্ট্রকে ভালোবাসলে ও রক্ষা করতে চাইলে-
মানবমন্ডলীকে ভালোবাসলে ও রক্ষা করতে চাইলে-
সর্বোপরি জীবনের দয়াময় স্রষ্টাকে ভালোবাসলে স্রষ্টার আলো
প্রাণাধিক রাসুলকে ভালোবাসলে,
ধর্ম প্রবর্তক ও মানবতার আপনদের ভালোবাসলে,
খুন-জুলুম-ধ্বংসযজ্ঞ-হিংস্রতা-পাশবতামুক্ত আলোকিত শান্তিময়
মানবতার দুনিয়া চাইলে-

একমাত্র অবিকল্প পথ মানবতার ভিত্তিতে মানবতার রাজনীতির আলোকে মানবতার সমাজ- মানবতার রাষ্ট্র- মানবতার দুনিয়ার লক্ষ্যে জীবন রক্ষার বিপ্লব জীবনের বিজয়ের বিপ্লব বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লব World humanity revolution.

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS