
মোহাম্মদ হানিফ, ফেনী জেলা প্রতিনিধি: “রাজনীতিবিদরা সবাই চোর”—সমাজে প্রচলিত এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ (দাগনভুঁইয়া–সোনাগাজী) আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, তিনি রাজনীতি করেন মানুষের কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য, ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত আটটায় ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার প্রধান নির্বাচনি কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, “আমি ১৯৮০ সাল থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই সংসদ সদস্য হতে চাই। ব্যবসায় আমি কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য। ব্যবসা শুধু মুনাফার জায়গা নয়, এটি মানুষের সেবারও একটি মাধ্যম।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, সমাজে আজ রাজনীতিবিদ মানেই চোর, ব্যবসায়ী মানেই মুনাফাখোর আর কৃষক মানেই অপরাধী—এমন একটি ভুল ধারণা তৈরি করা হয়েছে। অথচ কৃষকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলান মানুষের খাদ্যের জন্য।
নিজের স্বচ্ছতা তুলে ধরে মিন্টু বলেন, “আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছি, সময়মতো পরিশোধ করেছি। কখনও এক টাকাও ঋণ মওকুফ চাইনি। আমাকে কেউ ঋণখেলাপি বা ব্যাংক থেকে ঋণ মাফ নেওয়ার প্রমাণ দেখাতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি ‘এপস্টেইন’ ইস্যুতে তার নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেখানে যাওয়ার মতো সামর্থ্যই আমার নেই। সেখানে বিশ্বের বড় বড় ধনীদের নাম এসেছে। অথচ এসব গুজব ছড়িয়ে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, সোনাগাজীতে গ্যাস সংযোগ, উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণ, লালপুলে আন্ডারপাস, অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাস্তা-ঘাট উন্নয়নসহ জনগণের কাছ থেকে পাওয়া সব সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তি-শৃঙ্খলার বিষয়েও পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “ব্যবসার প্রসার ঘটাতে হলে আগে পরিবেশ ঠিক করতে হবে। দেশের সামগ্রিক পরিবেশ ভালো থাকলে বিনিয়োগ বাড়বে, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।”
সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার অঙ্গীকার করে মিন্টু বলেন, “সংসদে আমি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য কথা বলবো। কর্পোরেট হাউজ মালিকদের নামে গণমাধ্যমের নিবন্ধনের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেব।”
এছাড়াও তিনি জানান, জনগণের চাওয়া-পাওয়া ও সমস্যা সরাসরি জানার জন্য দাগনভুঁইয়া ও সোনাগাজীতে দুটি আলাদা অফিস খোলা হবে এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুই উপজেলায় কোনো বৈষম্য করা হবে না।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শাহানা আক্তার শানু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জয়নাল আবেদীন বাবলু, সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঞা, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক খুরশিদ আলম ভূঞা, প্রার্থীর মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক সলিম উল্যাহ মেজবাহসহ সোনাগাজীতে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply