দিনাজপুরঃ– দিনাজপুরে এক যুবককে হত্যা করে ইটভাটায় লাশ গুম করে রাখার অপরাধে ৩ জনের মৃত্যুদন্ড ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন ফুলবাড়ী গড়পিংলাই গ্রামের তাছের উদ্দিনের ছেলে মোঃ শরিফুল ইসলাম ওরফে কায়েস (৩০), একই গ্রামের মৃত আলিফ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আতোয়ার ওরফে আতাউর আলী (৬০) ও মোঃ আজাহার আলীর ছেলে মোঃ রেজাউল করিম বাবু (৩৫) এবং যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন ফুলবাড়ী গড়পিংলাই গ্রামের মোঃ আজাহার উদ্দিনের ছেলে মোঃ রব্বানী (৩২) ও মোঃ একরামুল হক (৩৮), একই গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ সাঈদ আলী (৪৫) ও মোঃ ইদ্রিস আলীর ছেলে মোঃ জাহাঙ্গীর আলম (৩১)।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার গড়পিংলাই গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ হুমায়ুন কবির (২৪) গত ২০০৯ সালের ২০ আগস্ট বাসা থেকে বের হলেও সে আর বাড়ি ফিরেনি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ২১ আগস্ট দুপুর ১২টায় উক্ত গ্রামের একটি ইটভাটার ভাংড়ী ইটের স্তুপের মধ্যে রক্তমাখা অবস্থায় হুমায়ুন কবির এর লাশ দেখতে পায় গ্রামের লোকজন।
লাশটি দেখতে পেয়ে গ্রামবাসি তার পরিবারকে খবর দিলে পরিবারের লোকজন এসে রক্তাক্ত অবস্থায় হুমায়ুন কবির এর লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় হুমায়ুনের বড় ভাই তোহিদুল ইসলাম (বাবু) উপরোক্ত আসামীদের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করেন। বাদীর দায়েরকৃত অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সম্পদকে কেন্দ্র করে পারিবারিক শত্রæতার জের ধরেই হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ তদন্ত শেষে ৭জনকে আসামী করে আদালতে একটি চার্জশীট দাখিল করেন। দীর্ঘদিন মামলার প্রক্রিয়া শেষে বাদী, বিবাদী, রাষ্ট্রপক্ষের উকিল ও আসামী পক্ষের উকিলের যুক্তিতর্ক এবং ১৬ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে গত ২৩ মে বিকাল ৪টায় দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান মন্ডল হত্যার সাথে যুক্ত থাকার অপরাধে এ রায় প্রদান করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট শাহ্ মোস্তাফিজুর রহমান (টুটুল) এবং আসামীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মোঃ ইসাহাক আলী।