মোঃ মিঠু মিয়া, গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। আহত গৃহবধূ বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর বাবা মোঃ মোসলেম উদ্দিন (৫০), পিতা-মৃত ওমর আলী, সাং-পূর্ব মির্জাপুর, থানা-পলাশবাড়ী, জেলা-গাইবান্ধা জানান, প্রায় ৯ বছর আগে তার মেয়ে মোছাঃ মনিরা বেগমের সঙ্গে সাঘাটা উপজেলার গটিয়া গ্রামের মোঃ আনারুল ইসলামের ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসার গড়ার জন্য মেয়ের নামে থাকা জমি বিক্রি করে ১০ লাখ টাকা, নিজে ৫ লাখ টাকা এবং মেয়ের গার্মেন্টসে চাকরির সঞ্চিত প্রায় ২০ লাখ টাকাসহ মোট প্রায় ৩৫ লাখ টাকা আসামিকে দেওয়া হয়। ওই অর্থ দিয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে স্বামী আনারুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে নির্যাতন শুরু করে। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও হয়। তাদের সংসারে মোঃ আল মোস্তাকিন (৭) নামে একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত আনুমানিক ৮টার দিকে মনিরা বেগম শ্বশুরবাড়িতে গৃহকর্ম করছিলেন। এ সময় স্বামী আনারুল ইসলামসহ অন্যান্য আসামিরা পুনরায় প্রায় ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।