মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গায় গণভোট প্রচার ও ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শারমিন এস মুরশিদ বলেন, গণভোট জনগণের নৈতিক অধিকার ও দায়িত্ব। গণভোটের কোনো বিকল্প নেই। ২৪-এর আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ নতুন স্বপ্ন দেখেছে, আর কেউ চায় না দেশ আবার আগের মতো বিপথে যাক। একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়তে সবাইকে গণভোটের প্রতি উদ্যোমী হয়ে উঠতে হবে।
তিনি বলেন, গণভোটের প্রশ্নে সরকার ও রাষ্ট্র নিরপেক্ষ নয়, নৈতিক অবস্থান থেকে আমরা সংস্কারের পক্ষে দাঁড়িয়েছি। “আপনি যদি হ্যাঁ বলেন, তাহলে আপনি সংস্কারের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন,জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে দাঁড়াচ্ছেন, নতুন বাংলাদেশের দরজা খুলে দিচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বের প্রতি দেশ-বিদেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ সমর্থন জানিয়েছে। জনগণ সংস্কার চায়, দুর্নীতি চায় না। এজন্য কাঠামোগত পরিবর্তন জরুরি। সরকার আসবে যাবে, কিন্তু জনগণের মৌলিক নীতি হবে স্বচ্ছতা, সুশাসন ও অধিকার নিশ্চিত করা।
গণভোটকে শহীদ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, এই গণভোটের পক্ষে দাঁড়ানো মানে ১৪০০ শহীদের পক্ষে দাঁড়ানো, ইনসাফের পক্ষে দাঁড়ানো, দুর্নীতি ও স্বৈরশাসনমুক্ত বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়ানো। যুগের পর যুগ একই কাঠামো থাকলে আবার নতুন ফ্যাসিবাদ তৈরি হবে। তাই আমরা গণভোটের পক্ষেই থাকব।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, গণভোটের প্রচারের জন্য চুয়াডাঙ্গায় একাধিক প্রচার গাড়ি দিনরাত বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনগণ নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবে এবং এই গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন, বিজিবি চুয়াডাঙ্গা ৬ ব্যাটালিয়নের উপপরিচালক মেজর মাসুদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি. এম. তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, সহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি এবং সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।