
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নাগদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ জোয়ার্দার বিপুল কর্তৃক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পাপিয়া খাতুনকে হুমকি ও গালিগালাজের প্রতিবাদ এবং উপযুক্ত বিচারের দাবিতে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে ডিপ্লোমা কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (ডিকেআইবি), জেলা শাখা, চুয়াডাঙ্গা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে শনিবার সকাল ১১ টায় অনুষ্ঠিত ডিকেআইবি’র সভায় এ আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। সংগঠনের চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি মোঃ আহসান উল হক শাহীন সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভায় সংগঠনের চুয়াডাঙ্গা জেলা সভাপতি মোঃ আহসান উল হক শাহীন বলেন, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সার পৌঁছে দিতে এবং পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। কিন্তু সম্প্রতি আমাদের সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তিনি বলেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পাপিয়া খাতুনকে নাগদাহ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ জোয়ার্দার বিপুল যে হুমকি দিয়েছেন, তার উপযুক্ত বিচার চাই। তিনি ঘোষণা করেন, “আমাদের অ্যাসোসিয়েশন ৭২ ঘন্টা সময় দিচ্ছে। এর মধ্যে বিচার না হলে আমরা সকল উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কর্ম বিরতি করব। পরবর্তীতে আমরা আরও কঠোর পদক্ষেপ নিব।”
সংগঠনের চুয়াডাঙ্গা জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ জোয়ার্দার বিপুলের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং তার বিচার দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিপুল এর আগেও অনেক উপসহকারীর সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন এবং তার ভয়ে তিনজন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বদলী হয়েছেন।
সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলার সকল নেতৃবৃন্দকে সঠিক এবং সুন্দরভাবে কৃষকদের পাশে থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা বজায় রাখা এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, গত রোববার (১৯ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা এজাজ ইমতিয়াজ জোয়ার্দার বিপুল কর্তৃক নারী কৃষি কর্মকর্তা পাপিয়া খাতুনকে ফোন করে গালাগালি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী পাপিয়া খাতুন আলমডাঙ্গা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান বিপুল নাগদাহ ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার আমিনুল ইসলামের গোডাউনে ২০ বস্তা সার নিতে একজন ব্যক্তিকে পাঠান। এসময় উপসহকারীর কৃষি কর্মকর্তা চেয়ারম্যানকে ১০ বস্তা সার দিতে চান এবং নিয়ম অনুযায়ী সার নিতে বলেন । এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যান ফোনে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দেন।
আলমডাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ হোসেন পলাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান বিপুল সরাসরি হুমকি দিয়েছেন এবং তার এমন আচরণে তিনজন কর্মকর্তা আগেও এলাকা ছেড়েছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছেন।
ডিকেআইবি’র নেতারা বলেন, কিছু অসাধু মহল যখন কৃষকদের সার পৌঁছে দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিরলস কাজ করছেন, তখনই তাদের নানামুখী হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারি কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করা হচ্ছে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply