মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারী ইউনিয়নের পারদুর্গাপুর এলাকায় বারি মুখীকচু-২ এর আধুনিক চাষাবাদ ও উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে এক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ২১ মে আয়োজিত এ মাঠ দিবসে স্থানীয় শতাধিক কৃষক অংশগ্রহণ করেন। মাঠ দিবসে কৃষকদের উন্নত জাতের মুখীকচুর চাষাবাদ পদ্ধতি, অধিক ফলন নিশ্চিতকরণ, রোগবালাই দমন এবং বাণিজ্যিকভাবে চাষের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে “মেহেরপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত)” প্রকল্প। মাঠ দিবসে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, বারি মুখীকচু-২ একটি উচ্চ ফলনশীল ও লাভজনক জাত। এ জাতের কচু মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা সম্ভব এবং বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া প্রতি বিঘায় ৮০ মনেরও অধিক ফলন পাওয়া যায়, যা কৃষকদের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক।
মাঠ দিবসে উপস্থিত কৃষকরা প্রদর্শনী প্লট ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় কৃষকরা জানান, উন্নত জাতের এ মুখীকচু চাষে তারা আগ্রহী এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে এ কচুর আবাদ করবেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন “মেহেরপুর সদরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ (১ম সংশোধিত)” প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ মতিয়ার রহমান। তিনি কৃষকদের বারি মুখীকচু-২ চাষে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, এ জাতটি স্বল্প সময়ে অধিক ফলন দেয় এবং বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি। কৃষকদের লাভবান করতে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. জাহান আল মাহমুদ। তিনি বলেন, অল্প সময়ে ভালো ফলন হওয়ায় বারি মুখীকচু-২ কৃষকদের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি ফসল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি, ঢাকার ডিডি (এলআর) দিলরুবা শবনম,
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বৈজ্ঞানিক সহকারী মো. রাসেল কবির তরফদার, এসময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও কৃষক ও কৃষানীরা উপস্থিত ছিলেন ।
মাঠ দিবসে বক্তারা কৃষকদের বারি মুখীকচু-২ চাষে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ করেন এবং এ ধরনের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।