সুমন শাহ্, বিশেষ প্রতিনিধি (ক্রাইম): র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে| মাদক ব্যবসায়ী, অপহরণ, হত্যা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, জাল নোট ব্যবসায়ী, ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, মানব পাচারকারী, প্রতারক এবং বিভিন্ন মামলার মৃত্যুদন্ড ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের গ্রেফতার করে সাধারন জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে|
এরই ধারাবাহিকতায়, র্যাব-৩ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল গতকাল ১৯ মে ২০২৬ তারিখ রাত ১১৫০ ঘটিকায় ঢাকা মহানগরীর রমনা থানাধীন ইস্কাটন রোড ইস্কাটন গার্ডেন নৌ-বাহিনী হাউজের পিছনে রাস্তার উপর অভিযান পরিচালনা করে ৪৮০ বোতল অবৈধ মাদকদ্রব্য কোডিন ফসফেট সিরাপসহ মাদক কারবারি চক্রের সক্রিয় সদস্য ক| মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর (৩৪), পিতা-রবিউল ইসলাম, সাং-রাঢ়ীপুকুর, থানা-শার্শা, জেলা-যশোর, খ| মোঃ কামরুল হাসান (৪২), পিতাঃ মৃত নুর আলী মন্ডল, সাং-পাঁচ কাইবা, থানাঃ শার্শা, জেলাঃ যশোর এবং গ| মোঃ রুবেল মোল্লা (৩৮), পিতাঃ সাহেব আলী মোল্লা, সাং-বাঁশবাড়িয়া, থানাঃ টুঙ্গিপাড়া, জেলাঃ গোপালগঞ্জ’দেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়| ধৃত আসামিদের হেফাজত হতে উদ্ধারকৃত কোডিন ফসফেট সিরাপের প্রতিটি বোতলের পরিমান ১০০ মিলিলিটার করে সর্বমোট পরিমাণ (৪৮০x১০০)=৪৮০০০ মিলিলিটার বা ৪৮ লিটার| প্রতিটি বোতলের আনুমানিক মুল্য ৩০০০/- টাকা হিসেবে সর্বমোট মূল্য অনুমান (৩০০০x৪৮০) =১৪,৪০,০০০/- (চৌদ্দ লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকা| যার মধ্যে ৩৩১টি বোতলের গায়ে কাগজের লেবেলে ইংরেজীতে Codeine Phosphate & Triprolidine Hydrochloride Syrup ESkuf, ১১৯টি বোতলের গায়ে কাগজের লেবেলে ইংরেজীতে Codeine Phosphate & Triprolidine Hydrochloride Syrup WINCEREX এবং ৩০টি বোতলের গায়ে কাগজের লেবেলে ইংরেজীতে Codeine Phosphate & Triprolidine Hydrochloride Syrup kuf Relief সহ অন্যান্য তথ্য লেখা আছে| এছাড়াও গ্রেফতারের সময় তাদের হেফাজত হতে ০১টি সাদা রঙের টয়োটা প্রাইভেট কার যার রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্রো- গ ১২-২৭২৩ ও ০১টি সিলভার রঙের এক্সিও ফিল্টার প্রাইভেটকার যার রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্রো- গ ৩৭-২৮৬১ এবং ০৪টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়|
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ধৃত আসামিরা দীর্ঘ দিন একে অপরের যোগ-সাজসে পরস্পর সহযোগিতায় বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকা হতে অবৈধ মাদকদ্রব্য কোডিন ফসফেট সিরাপ পরিবহন করে এনে নিজ হেফাজতে রেখে ঢাকা মহানগরীর রমনাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করে আসছে| ধৃত আসামিরা অবৈধ মাদকদ্রব্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রেখে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) এর ১৪(গ)/৩৮/৪১ ধারায় অপরাধ করেছে|
ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।