মামুন মোল্যা, নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মহাজন ঘশিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক অমিতেষ সাহাকে দীর্ঘ ২৬ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। প্রিয় শিক্ষকের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানাতে অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বুধবার (২০ মে) সকালে বিদ্যালয় মাঠপ্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। প্রিয় শিক্ষককে ফুলের শুভেচ্ছা, সম্মাননা স্মারক ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করেন শিক্ষার্থী ও সহকর্মীরা। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সহকর্মীরা বলেন, “অমিতেষ সাহার শূন্যতা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল, সময়ানুবর্তী ও আন্তরিক শিক্ষক ছিলেন। চাকরি জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কাছ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।”
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তারক চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে এবং আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নড়াগাতী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সেলিম আহম্মেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ৪ নং মাউলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল আলম (ইয়ার আলী), নড়াগাতী থানা সাবেক ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাফিজুর রহমান (মামুন), বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মনজু রানী দাসসহ অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন প্রশান্ত সাহা, মো. জাহাঙ্গীর আলম, শেখ বক্তিয়ার, পলাশ দাস, নিত্য আনন্দ দাস, শুকতারা কিয়া, শফিকুল ইসলাম, শরিফা খাতুন, পাপিয়া খানম, আলী আজম, সাধন কুমার দাস, কালি দাস সরকার ও ছাবিয়া খানম। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন শিক্ষার্থী মামুন মোল্যা, গাজী তানভীর আহম্মেদ, সাজু বিশ্বাস, গোলক বিশ্বাস, মিনহাজুল আবেদিন, আকাশ বিশ্বাসসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, অমিতেষ সাহা ২০০০ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ ২৬ বছর তিনি মহাজন ঘশিবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষককে সম্মান জানাতে বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী বিদায় সংবর্ধনার।
অনুষ্ঠান শেষে অমিতেষ সাহাকে ফুলের মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হয় এবং বিশেষ আয়োজনে গাড়িযোগে তাঁকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়।