জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি: জয়পুরহাটে হত্যা মামলায় ৪ জন ও মাদক মামলায় একজনসহ মোট ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মোঃ আব্বাস উদ্দীন পৃথক পৃথক এ রায় ঘোষণা করেন।
জয়পুরহাট জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডঃ নৃপেন্দ্রনাথ মন্ডল জানান, হত্যা মামলায় সাজা প্রাপ্তরা হচ্ছেন পাচঁবিবি উপজেলার রতনপুর গ্রামের জাইবর আলীর ছেলে সোহাগ (৩৫), মৃত তৈমুদ্দিনের ছেলে রায়হান (৩৮), নিজাম উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩৭) ও লোকমানের ছেলে হারুনুর রসিদ (৩৬)। এছাড়া প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদÐ করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় হারুনুর রশিদ আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জয়পুরহাট রেল স্টেশন রোডের শীতল কম্পিউটার ব্যবসায়ী সাহাদুল ইসলামের সঙ্গে ব্যাবসায়িক লেনদেনের অংশ হিসেবে সাজা প্রাপ্ত আসামিদের নিকট ৬০ হাজার টাকা পাওনাদার ছিল। বার বার
তাগাদা ও দেনদরবার করেও কোন ফল না হওয়ায় সাহাদুল ইসলাম টাকা আদায় করার জন্য ২০১০ সালের ৬ জানুয়ারি আসামিদের বাড়ি রতনপুরে যায়। সেখান থেকে ফিরে আসার সময় আসামীরা রশি দিয়ে মোটরসাইকেলের গতি রোধ করে লাঠি দিয়ে আঘাত করলে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সাহাদুল। অজ্ঞেন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট আধুনিক হাসপাতালে এবং পরে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ৭ জানুয়ারি মারা যায় সাহাদুল ইসলাম (৩০)। এ ঘটনায় মা শাহেরা বেগম বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে পাঁচবিবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই মোমিনুল হক ২০১০ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করে। আদালত এ মামলায় ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও দীর্ঘ শুনানির পর আজ সোমবার দুপুরে চার জনকে যাবজ্জীবন ও প্রত্যেকের ১০ হাজার টাকা করে অর্থদÐ দিয়ে এ রায় ঘোষণা করেন।
অপরদিকে একই আদালত মাদক সংক্রান্ত এক মামলার রায়ে সুজন সরদার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদÐ দিয়ে রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রিতা বেগমকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১১৯ বোতল ফেন্সিডিলসহ পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর গোপালপুর এলাকা থেকে ২০২০ সালের ১৪ নভেম্বর সুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পাঁচবিবি থানায় মাদক মামলা দায়ের করেন র্যাব জয়পুরহাট ক্যাম্পের এসআই মানিক চন্দ্র দেবনাথ। এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পাঁচবিবি থানার এস আই তোফায়েল আহমেদ দুই জনের নামে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর। এ মামলায় আদালত তিন জনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আজ সোমবার দুপুরে সুজন সরদারকে যাবজ্জীবন কারাদÐ ও এক লাখ টাকা অর্থদÐ প্রদান করেন।