সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংকে ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং ইসলামিক ফিন্যান্স প্রোডাক্টস এন্ড সার্ভিসেস’ শীর্ষক কর্মশালা স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসি. এর শরি‘আহ্ধসঢ়; সুপারভাইজরি কমিটির ৫৩তম সভা অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতা মোহাম্মদ দুলাল হোসেনের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করল বিএনপি নবীনগরে নৌকায় বসা নিয়ে দ্ধন্ধে ঘুষিতে ১ জনের মৃত্যু নড়াগাতী থানাকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় উন্নীতকরণের দাবি জানিয়েছেন এমপি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ভ্রমণের সেরা সঙ্গী এখন ভিভো ভি৭০ এফই ও ভি৭০ সাবেক হুইপের ভাই বীরগঞ্জ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দূনীর্তির অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতৃবৃন্দরা, আদালতে মামলা চলমান রয়েছে এমএসএমই খাতে অর্থায়ন জোরদারে কমিউনিটি ব্যাংক ও লিমেরিক ডিস্ট্রিবিউশনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আইন পেশায় বিশেষ অবদানের জন্য শেরে বাংলা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন অ্যাড.বিউটি দত্ত ছাতকে বিভিন্ন উন্নয়ন খাতে প্রায় শত কোটি টাকার বরাদ্দ ঘোষণা: সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন

মার্চে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন ১ লাখ ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : বুধবার, ১৭ মে, ২০২৩
  • ২৪৪ Time View

মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই সেবায় প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগায় প্রচার এখন আরও দ্রুত ঘটছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে কঠোর তদারকির ফলে জালিয়াতি ও প্রতারণা কমেছে। এতে গ্রাহকদের আস্থা বাড়ছে এই সেবার প্রতি। ফলে প্রতি মাসে গ্রাহক যেমন বাড়ছে, তেমনি লেনদেনের সংখ্যাও বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে লেনদেনে অর্থের পরিমাণও। চলতি বছরের মার্চে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। যা একক মাস হিসেবে সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড। প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৬১৫ কোটি টাকা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে লেনদেন হয়েছিলো ৮৯ হাজার ১৬৯ কোটি টাকা। আগস্ট মাসে কিছুটা কমে লেনদেন হয়েছিলো ৮৭ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। এরপরের মাস সেপ্টেম্বরে ৮৭ হাজার ৬৩৫ কোটি, অক্টোবরে ৯৩ হাজার ১৩ কোটি, নভেম্বরে ৯২ হাজার ১২৫ কোটি এবং ডিসেম্বরে লেনদেন হয়েছিলো ৯৬ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ১ লাখ ৫৯৩ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে লেনদেন ৩ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা কমে ৯৭ হাজার ৩০৭ কোটির ঘরে নামে।

এরপর গত মার্চে লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা। যা এখন পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় সর্বোচ্চ লেনদেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক অর্থসূচককে বলেন, এ বছরের মার্চের দিকে মানুষ ঈদের কেনাকাটা শুরু করে। এসব কেনাকাটার অর্থ মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পরিশোধ করেছে। এরফলে এই মাসে এমএফএস সেবায় রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন হয়েছে। এখানে অন্য কোনো কারণ নেই।

অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক সংখ্যা বেড়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫২ হাজার ১৪১টি। ফেব্রুয়ারি শেষে নিবন্ধিত হিসাব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯ কোটি ৮০ লাখ ৯১ হাজার ৭৮৩টি। গত বছরের জুন শেষে যার সংখ্যা ছিলো ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪২টি। এর মধ্যে গ্রামে ১১ কোটি ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৭১ জন এবং শহরে ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৩৮ হাজার ৭১২ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে পুরুষ গ্রাহক রয়েছেন ১১ কোটি ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫০৫জন। অপরদিকে নারী গ্রাহক ৮ কোটি ৩১ লাখ ২ হাজার ৫৪৫জন।

এদিকে গত ডিসেম্বর শেষে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত হিসাবের সংখ্যা ছিলো ১৯ কোটি ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৩টি। অর্থাৎ চলতি বছরের তিন মাসের (জানুয়ারি-মার্চ) ব্যবধানে হিসাব বেড়েছে ৭০ লাখ ২৮ হাজার ২১০টি। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৯৮ হাজার জন।

এমএফএস সেবার মাধ্যমে গত মার্চে মোট ৪৮ কোটি ২৪ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৫টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে ১ লাখ ৮ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। এসময় হিসাবগুলোতে জমা পড়েছে ৩৪ হাজার ৩০৮ কোটি ১০ লাখ টাকা। এছাড়া উত্তোলন করা হয়েছে ৩০ হাজার ৯৩৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা।

অতিদ্রুত শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং দেশের ব্যাংকিং সেবায় নতুন সম্ভাবনা এনে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে বিরাট এক গতি সঞ্চার করেছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এই সেবা। একইসঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান যোগ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতিদিনের লেনদেন ছাড়াও বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল পরিশোধ করা যায়, করা যায় কেনাকাটা। সেবামূল্য পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, প্রবাসী আয় পাঠানো সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা এখন পছন্দের শীর্ষে। কম খরচ ও দ্রুত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে টাকা পাঠাতে প্রতিদিনই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের জন্য হিসাব খুলছেন বিপুলসংখ্যক গ্রাহক। প্রতিমাসেই বাড়ছে গ্রাহকসংখ্যা।

মোবাইলে আর্থিক সেবায় (এমএফএস) মার্চ মাসে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি হিসাবে ৩১ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা বাবদ বিতরণ হয় ২ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন পরিষেবার ২ হাজার ৩১৮ কোটি টাকার বিল পরিশোধ হয় এবং কেনাকাটায় ৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে। ২০১১ সালের ৩১ মার্চ বেসরকারি খাতের ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রকেটের মধ্য দিয়ে দেশে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের যাত্রা শুরু হয়। এর পরই ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংসেবা চালু করে বিকাশ। এছাড়াও নগদ সহ বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সেবা দিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS