ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) ১৬তম আসরের শুরুটা ভালো হয়নি সাকিব-লিটনের কলকাতা নাইট রাইডার্সের। নিজেদের প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে তারা হেরেছে ৭ রানের ব্যবধানে।
মোহালিতে শনিবার (১ এপ্রিল) পাঞ্জাবের দেয়া ১৯২ রান তাড়া করতে নেমে ১৬ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান সংগ্রহ করে কলকাতা। এরপর বৃষ্টির বাধায় ম্যাচ আর মাঠে না গড়ালে ডার্কওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে ৭ রানের জয় পায় পাঞ্জাব।
এদিন রান তাড়া নেমে শুরুটা ভালো হয়নি কলকাতার। মাত্র ২৯ রান তুলতেই তারা হারিয়ে বসে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসে আর্শদীপ সিং ৪ বলের ব্যবধানে ফেরান মানদীপ সিং (২) ও অনুকুল রায়কে (৪)। আফগান ব্যাটার রহমানউল্লাহ গুরবাজ শুরুটা ভালো করলেও ১৬ বলে ২২ রানের ইনিংস খেলে তাকে ফিরতে হয় নাথান ইলিসের বলে বোল্ড হয়ে। চতুর্থ উইকেটে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন ভেঙ্কাটেশ আইয়ার ও নীতিশ রানা। তাদের ৪৬ রানের জুটি ভেঙে দেন সিকান্দার রাজা। ১৭ বলে ২৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন কলকাতার অধিনায়ক নীতিশ।
এরপর রাহুল চাহার আক্রমণে এসে ফেরান ক্রিজের নতুন ব্যাটার রিংকু সিংকে (৪)। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দলকে আবার লড়াইয়ে ফেরান আন্দ্রে রাসেল ও ভেঙ্কাটেশ। ১৯ বলে ৩ চার ও ২ ছ্ক্কায় ৩৫ রানের ইনিংস খেলে রাসেল স্যাম কারানের শিকার হলে আবার ছন্দ পতন হয় কলকাতার। তার পথ অনুসরণ করে ক্রিজ ছাড়েন ভেঙ্কাটেশও। ২৮ বলে ৩৪ রান করে তিনি ফেরেন আর্শদীপের বলে ক্যাচ দিয়ে। ক্রিজে আসেন শার্দুল ঠাকুর ও সুনীল নারিন। দুজনেই ছক্কা হাঁকিয়ে চ্যালেঞ্জ জানান পাঞ্জাবের বোলারদের।
জয়ের জন্য শেষ চার ওভারে যখন ৪৬ রান প্রয়োজন, তখন বাধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। শেষ পর্যন্ত খেলা আর মাঠে না গড়ানোয় বৃষ্টি আইনে ৭ রানের হার মেনে নিতে হয় কলকাতাকে। ৩ বলে এক ছক্কায় শার্দুল ৮ রানে ও ২ বলে এক ছক্কায় ৭ রানে অপরাজিত থাকেন নারিন।
৩ ওভার বল করে মাত্র ১৯ রান খরচায় ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন আর্শদীপ। এছাড়া একটি করে উইকেট নিজেদের পকেটে পুরেন স্যাম কারান, নাথান ইলিস, সিকান্দার রাজা ও রাহুল চাহার।
এর আগে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯১ রান সংগ্রহ করে পাঞ্জাব। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫০ রানের ইনিংস খেলেন ভানুকা রাজাপাকসা। ৩২ বলে তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৫ চার ও ২ ছক্কার মারে। ২৯ বলে ৬ চারের মারে ৪০ রান করে ব্যাট হাতে পাঞ্জাবের বড় সংগ্রহে অবদান রাখেন অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান।
কলকাতার হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট তুলে নিলেও ৫৪ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে ছিলেন টিম সাউদি। একটি করে উইকেট তুলে নেন উমেশ যাদব, সুনীল নারিন ও ভরুণ চক্রবর্তী।