বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই দেশের সব ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান নির্বাচনে সহিংসতার কোনো সম্ভাবনা নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ভৈরবে ঢাকা কাচ্চি ডাইনকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা ভৈরবে দুই পা খণ্ডিত বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার ভোটারদের রাজনৈতিক মনোভাব বদলাচ্ছে: নতুন জরিপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে আজ ইসির উচ্চপর্যায়ের সভা ১৬ ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক প্রান্তিক মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা দিতে বাংলাদেশে প্রথম ‘আইনের মেলা’ অনুষ্ঠিত নিখোঁজের ৩দিন পর আখক্ষেত হতে বিকৃত মরদেহ উদ্ধার মূল আসামিকে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-৮ সাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষের ভোট বিপ্লবে আমি এমপি নির্বাচিত হবো ইনশাআল্লাহ-কাথন্ডায় নির্বাচনী জনসভায় আব্দুর রউফ

রিজার্ভ ওঠানামা কি খুবই অস্বাভাবিক?

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৫৯ Time View

বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারে। সবশেষ হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার। প্রশ্ন হচ্ছে: বর্তমান রিজার্ভের পরিমাণ বাংলাদেশের জন্য যথেষ্ট কি না। এ ছাড়া সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের করণীয় নিয়েও রয়েছে নানাজনের নানা মত।

সোমবার (৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া সবশেষ তথ্যানুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার। এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নকে (আকু) ১৩৫ কোটি ডলার পরিশোধ ও আমদানি বকেয়া ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার মেটানোর পর বর্তমান রিজার্ভ এ অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশে বিগত সময়ে রিজার্ভের পরিমাণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ছিল সংকটাপন্ন। সে সময়ে রিজার্ভের অঙ্ক কত ছিল তা জানার উপায় নেই। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নথিপত্রে স্বাধীনতার প্রথম দশকে রিজার্ভের বিষয়ে তেমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

রিজার্ভ নিয়ে প্রথম যে তথ্য পাওয়া যায় তা ১৯৮১-৮২ অর্থবছরের। তখন ব্যাংকে রিজার্ভের অঙ্ক ছিল মাত্র ১২ কোটি ১০ লাখ ডলার। তাই নথিপত্র যাচাইয়ের ভিত্তিতে বলা যায়, এ অঙ্কের সামান্য অর্থ নিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের রিজার্ভের যাত্রা।

এক লাফে বাংলাদেশের রিজার্ভ আকাশচুম্বী না হলেও, দ্রুত বাড়ছিল রিজার্ভের অঙ্ক। পাঁচ বছর পর ১৯৮৬-৮৭ অর্থবছর শেষে ব্যাংকে রিজার্ভের অঙ্ক দাঁড়ায় ৭১ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

প্রথমবারের মতো, ১৯৯১-৯২ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের ঘর অতিক্রম করে ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলারে ওঠে, যা ছিল বাংলাদেশের জন্য মাইলফলক।

১৯৯২-৯৩ অর্থবছর শেষেই রিজার্ভ ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে ২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে ১৯৯৪-৯৫ অর্থবছর শেষে।

কিন্তু ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ কমে দাঁড়ায় ২ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার। ১৯৯৬-৯৭ অর্থবছরে তা আরও কমে ১ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। এরপর ১৯৯৭-৯৮ থেকে ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর পর্যন্ত রিজার্ভ দেড় থেকে দুই বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করে।

২০০০-০১ অর্থবছরে রিজার্ভ কমে ১ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। ওই অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার থাকলেও অর্থবছরের মাঝামাঝি তা ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে নেমে গিয়েছিল।

২০০১-০২ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ বেড়ে হয় ১ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার। এরপর আর বাংলাদেশের রিজার্ভ কখনোই ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নামেনি।

২০০৫-০৬ অর্থবছর শেষে রিজার্ভ ৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। এ সময়টা ছিল বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য উত্থানের গল্প।

২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল রিজার্ভ ২০ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। পরের বছর ২০১৫ সালের ২৫ জানুয়ারি রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ২০১৬ সালের জুনে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ২৪ জুন সেই রিজার্ভ আরও বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে।

২০১৬ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়ায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে। ২০২১ সালে বাংলাদেশের রিজার্ভের অঙ্ক ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার।

কিন্তু চলতি বছরের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নেতিবাচক রূপ ধারণ করে। এতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাড়াতে থাকে সুদের হার, ফলে ডলারের বাজারে দেখা দেয় অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারে শুরু হয় সংকট, কমে আসে উৎপাদন, ভেঙে পড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ও বেড়ে যায় জাহাজ ভাড়া তথা আমদানি ব্যয়। এসব কারণে চলতি বছর দেশের রিজার্ভ কমেছে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, যা দুশ্চিন্তার বিষয়।

রিজার্ভ কমায় বাংলাদেশের করণীয় কী, কীভাবে বাংলাদেশ সংকট সামাল দিতে পারে–এসব নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হানের সঙ্গে। সময় সংবাদকে তিনি বলেন, গত ১০-১২ বছরের রিজার্ভের চিত্র থেকে দেখা যায়, প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের রিজার্ভ বেড়েছে। গত এক দশকেও বাংলাদেশ যা দেখেনি এই প্রথম তা দেখছে: রিজার্ভ কমছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতি মাসেই রিজার্ভ কমছে। যখন অর্থনীতি স্বাভাবিক থাকে, তখন রিজার্ভ বাড়া-কমা নিয়ে এতটা চিন্তিত না হলেও চলে। তবে বর্তমানে অর্থনীতি একটি দোদুল্যমান সময় পার করছে। এ অবস্থায় রিজার্ভের ব্যাপারটা গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS