
মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, স্টাফ রিপোর্টার গাইবান্ধা: সদ্য অনুষ্ঠিত ১২ ই ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩২ গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের ছয়টি কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বাতিল ও ফলাফল স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মো. আব্দুর রহিম সরকার।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে জেলা শহরে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
লিখিত বক্তব্যে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অভিযোগ করেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিভিন্ন কেন্দ্রে তার পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে জোরপূর্বক জাল ভোট প্রদান করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে নির্দিষ্ট প্রতীকে সিল মেরেছেন।
তিনি কেন্দ্রভিত্তিক অনিয়মের বিবরণ তুলে ধরে বলেন, বালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২০), কুমিরাডাঙ্গ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৪), গোপালপুর ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৫), কোচারশহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১০৫) এবং দামগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কেন্দ্র-১২৭) কেন্দ্রে বহিরাগতদের প্রবেশ, পোলিং অফিসারদের জিম্মি করা ও জাল ভোট প্রদানের মতো ঘটনা ঘটেছে।
ভোট গণনার সময়ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, একাধিক কেন্দ্র থেকে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয় এবং ব্যালট বান্ডিল গণনায় গরমিল করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১২০টি ব্যালট ১০০ হিসেবে এবং অপর প্রতীকের ৮০টি ব্যালট ১০০ হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এমনকি একটি কেন্দ্রে ১,৮০০ ভোটারসংবলিত কেন্দ্রে ২,৮০০ ভোট প্রদর্শনের অভিযোগও তোলা হয়, যেখানে তার এজেন্টের স্বাক্ষর ছিল না।
মো. আব্দুর রহিম সরকার দাবি করেন, অনিয়মের বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার কাছে স্থিরচিত্র, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যপ্রমাণ রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে গাইবান্ধা-৪ আসনের অভিযোগকৃত ছয়টি কেন্দ্রের ভোট বাতিল, ফলাফল স্থগিত এবং পুনঃগণনার মাধ্যমে সংশোধিত ফল ঘোষণার দাবি জানান।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply