শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
নীলফামারী জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ‘চাঁদাবাজ চক্রের’ ০১ জন সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার নির্বাচনী হালচালঃ চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) প্রতিদ্বন্ধিতা হবে ত্রি-মুখী, কে হাসবে শেষ হাঁসি! কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে ভোলা জেলার ৫৫৫ বছরের নান্দনিক প্রাচীন স্থাপত্য ও পুরাকীর্তি, সংরক্ষণের দাবি কুমিল্লায় যাত্রীবাহি বাস চাপায় নারী ও শিশুসহ নিহত-২ ১,৬০০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ০১ মানুষের অধিকার হরণের চেষ্টা করবেন না- কুমিল্লায় ডাঃ শফিকুর রহমান ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩-এ দুর্নীতির অভিযোগ (২০২১-২০২২ অর্থবছর) চরিত্র; আশরাফ সরকার ধানের শীষে ভোট দিয়ে বগুড়াকে বিএনপির ঘাঁটি প্রমাণের আহ্বান তারেক রহমানের নির্বাচন যত ঘনাচ্ছে, বিএনপির সমর্থন তত বাড়ছে: জরিপে তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী মনে করছেন ৪৭.৬%

নির্বাচনী হালচালঃ চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) প্রতিদ্বন্ধিতা হবে ত্রি-মুখী, কে হাসবে শেষ হাঁসি!

এনামুল হক রাশেদী
  • আপডেট : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৩ Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রাম–১৬ বাঁশখালী আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাতজন প্রার্থী প্রচার–প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। কর্মী–সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগ, ছোট সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পৌরসভাসহ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা।

এদিকে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ব্যানার ছেঁড়া এবং কর্মী–সমর্থকদের ওপর হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মৌখিক অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

এবারের নির্বাচনে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—
জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী জামায়াতের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার জয়েন সেক্রেটারি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী গন্ডামারার সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ লেয়াকত আলী (ফুটবল), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুল মালেক আশরাফী (চেয়ার), গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আরিফুল হক তায়েফ (ট্রাক),
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার (হাতপাখা), এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী এহছানুল হক (হারিকেন)।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বাঁশখালী আসনের ১১২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৮১৯ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৩৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৪ জন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ১১২টি ভোটকেন্দ্রের ৭২০টি কক্ষের নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, বিগত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ ৫ বার, বিএনপি ৫ বার এবং জাতীয় পার্টি ২ বার বিজয়ী হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা বিবেচনায় ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা থাকলেও দলীয় অবস্থান, প্রার্থীর জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা, রাষ্ট্রিয় দৃষ্ঠিভঙ্গি, প্রচারনার কৌশল বিবেচনায় সর্বশেষ পর্যায়ে মুল প্রতিদ্বন্ধিতা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জামায়াতের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলামের সাথেই যে কারো প্রতিদ্বন্ধিতা হবে এটা নিশ্চিত বলা যায়। সেটা হতে পারে ধানের শীষের বিএনপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা অথবা ফুটবল প্রতিকের স্বতন্ত্র প্রার্থী লেয়াকত আলীর সাথেই।

রাজনৈতিক স্ট্র্যাটেজী ও ভোটের পরিসংখ্যনে চট্টগ্রাম-১৬(বাঁশখালী) আসনটিতে ৫ বার করে আওয়ামীলীগ-বিএনপি বিজয়ী হলেও এবারের ভোট যুদ্ধে আওয়ামীলীগ প্রার্থী নিয়ে মাঠে না থাকলেও তাদের ভোট ব্যাংকও একটা বড় ধরনের ফ্যাক্টর হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে, ভোটের পরিসংখ্যনে বিএনপির অবস্থান এই আসনে মজবুত হলেও এলাকাভিত্তিক দলটির প্রকট গ্রুপিং, দলের আলোচিত সমালোচিত নেতা লেয়াকত আলীর বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মাঠে থাকা এবং বিএনপির ৫ বারের নির্বাচিত এমপি সাবেক বন প্রতিমন্ত্রী জাফরুল ইসলামের মৃত্যুতে দলটির আগের সেই জনপ্রিয়তা এখন মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেয়েছে, বাঁশখালী সাধারন মানুষের কাছে বিএনপি যতইনা জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল, তার ছেয়ে বেশ জনপ্রিয় ছিল প্রার্থী ছিল প্রয়াত সাবেক সাংসদ জাফরুল ইসলাম চৌধুরী। তার মৃত্যুতে বিএনপির নেতৃত্ব শুন্যতা সবার কাছে বেশ আলোচিত। অনেকের ধারনা বিএনপির নেতৃত্বে জাফরুল ইসলামের শুন্যতা পুরনে অনেক সময় লাগবে। বিএনপির ৫ বারের বিজয়ে দলীয় ভূমিকার ছেয়ে মরহুম সাংসদ ব্যক্তি জাফরুল ইসলামের ভূমিকার পাশাপাশি জোটবদ্ধ নির্বাচনে জামায়াতের সমর্থন ও ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপুর্ন।

অন্যদিকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনিত জামায়াতের দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম একজন স্বচ্ছ-বিচক্ষন রাজনীতিবিদ, জনপ্রিয়-পরিশ্রমী রাজনৈতিক নেতা, মেধাবী শিক্ষাবিধ ও আলেম হিসাবে বাঁশখালীর প্রত্যন্ত জনপদে বেশ জনপ্রিয়। রাজনৈতিক প্রতিকুলতায়ও তিনি ইউপি নির্বাচন থেকে শুরু করে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যখনিই নির্বাচন করেছেন বিজয় হয়েছেন। আওয়ামী সরকারের আমলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থীর সাথে প্রতিদ্বন্ধিতায় জামায়াতের এ নেতার বিজয় আঁটকানো সম্ভব হয়নি। জহিরুল ইসলাম বিগত ১৭ বছরের চরম রাজনৈতিক প্রতিকুল পরিস্থিতিতে আওয়ামী চরম নির্যাতনের দিনগুলোতে একদিনের জন্যও রাজনৈতিক মাঠ ছাড়েননি। শহস্র নেতা কর্মিদের সাথে তিনি নিজেও অসংখ্য মামলা-জেল-জুলুম সহ্য করে মাঠেই ছিলেন। দক্ষিন চট্টগ্রামের বিশিষ্ঠ আলেমে দ্বীন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় পীরে কামেল ইছহাক হুজুরের সুযোগ্য সন্তান হওয়ার সুবাধে দলীয় অবস্থানের বাইরেও দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কাছে তার গ্রহনযোগ্যতা ঈর্ষনীয়। পাশাপাশি বাঁশখালীর একটি পৌরসভা সহ ১৫ টি ইউনিয়নে জামায়াতের সাংগঠনিক মজবুতি বেশ শক্তিশালী। বিগত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মাওলানা জহিরুল ইসলামকে হিন্দু-বৌদ্ধ ভোটারদের বৃহৎ অংশের সমর্থনও ছিল বলে জানা যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তফশিল ঘোষনার আগে ও পরে দাঁড়ি পাল্লার সুপরিকল্পিত প্রচারনা, ৫ আগস্ট পরবর্তি জামায়াত-শিবিরের প্রতি জেন-জি প্রজন্মের শক্তিশালী অবস্থান, সাধারন ও সুইং ভোটারদের মধ্যে গুরুত্বপুর্ন অংশ জামায়াতের প্রতি সমর্থন, প্রবাসীদের পোস্টাল ভোট এবং নীরব আওয়ামী ভোটারদের জহিরুল ইসলামকে সমর্থনের ইতিবাচক গুঞ্জন, বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতিতে সাধারন ভোটারদের বিরক্তি ও আস্থাহীনতা এবং বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী মাঠে থাকায় আপাত বিবেচনায় নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধিতার মাঠে দাঁড়ি পাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল বেশ ভাল অবস্থানে রয়েছে, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

বাঁশখালী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শুধাংশু শেখর হালদার জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপরাধ ও সংঘাত এড়াতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনী অপরাধে কোনো মামলা হয়নি।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে বাঁশখালীতেও সংঘর্ষ-হাঙ্গামার উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে, প্রশাসন শক্ত অবস্থানের ঈংগিত দিচ্ছে মাঠে ময়দানে। নির্বাচনের দিন পর্যন্ত প্রশাসন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থীদের আচরনবিধি লংঘনের প্রবনতা কঠোর হস্তে নিয়ন্ত্রন করতে পারলে বাঁশখালীতে সুষ্ঠ ও সুশৃংখল পরিবেশে সুন্দরভাবে নির্বাচনী উৎসব সমাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশ ইতিবাচক, কেননা এ আসনে অতীতের রাজনৈতিক ভায়োলেন্সের প্রবনতা খুবই কম। সুন্দর ও সহনশীল পরিবেশে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিজয়ের শেষ হাসিটি কে হাসে সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় সাধারন ভোটাররা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS