বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
চাঁদ দেখা যায়নি, সৌদি আরবে ঈদ শুক্রবার ছুটির মধ্যেও প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে বিকল্প দায়িত্বে মির্জা ফখরুল ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেলপথ বন্ধ, নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত পোশাকশিল্প এলাকায় আজ-কাল সীমিত পরিসরে খোলা ব্যাংক নড়াইলে গরীব, দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ বিতরণ আলমডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উই ফর অল ও স্বপ্নঘর ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এতিম শিশুদের মাঝে ঈদবস্ত্র বিতরণ ও মেহেদী উৎসব ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের নৈরাজ্য চলছে; সরকারের মনিটরিং প্রশ্নবিদ্ধ! ঈদের চাঁদ দেখতে নাগরিকদের প্রতি সৌদি আদালতের আহ্বান ঈদ আনন্দে যোগ হোক নতুন স্মার্টফোন! বাজারে থাকা ৪টি প্রিমিয়াম স্মার্টফোন থেকে বেছে নিন আপনারটি

ঈদযাত্রায় বাসে ১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের নৈরাজ্য চলছে; সরকারের মনিটরিং প্রশ্নবিদ্ধ!

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
  • ৪৩ Time View

ঢাকা: ১৮ মার্চ ২০২৬, বুধবার:

সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীর বাস-মিনিবাসে ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চলছে। আজ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটিবাসেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য শুরু হয়েছে। নৌ-পথের বেশিরভাগ রুটে এমন নৈরাজ্যের চিত্র দেখা গেলেও সরকার বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে মালিকদের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী গণমাধ্যমে বক্তব্য দিচ্ছে। এতে করে এবারের স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য গত বিশ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানী পর্যবেক্ষণের এক সংক্ষিপ্ত সমীক্ষা তুলে ধরে আজ ১৮ মার্চ ২০২৬ বুধবার দেশের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী এমন অভিযোগ করেন।

সংগঠনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তঃজেলা ও দুরপাল্লার বাস-মিনিবাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নগরীর সিটি সার্ভিসের বাসে আরো প্রায় ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াত হতে পারে বলে সংগঠনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে। গত ১৪ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের যাতায়াত, ঈদের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ ব্যবস্থাপনা, সরকারের নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট সামগ্রিক কার্যক্রম, পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের গৃহীত ঈদযাত্রা সংশ্লিষ্ট নানান কর্মসূচী পর্যবেক্ষণ করে এই প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

এতে দেখা গেছে, সরকারি ঘোষণা বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এবারের ঈদে ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চালাচ্ছে। পর্যবেক্ষণকালে ঢাকা থেকে পাবনা নিয়মিত ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকার বাস ভাড়া ১২০০ টাকা, ঢাকা থেকে নাটোর নিয়মিত ৫৫০ থেকে ৫৮০ টাকার বাস ভাড়া ১২০০ টাকা, ঢাকা থেকে রংপুর নিয়মিত ৫০০ টাকার বাস ভাড়া ১৫০০ টাকা, ঢাকা থেকে নোয়াখালীর নিয়মিত ৫০০ টাকার বাস ভাড়া ৮০০ টাকা, ঢাকা থেকে লক্ষীপুরের নিয়মিত ৫০০ টাকার বাস ভাড়া ৭০০ টাকা, ঢাকা থেকে রামগঞ্জ নিয়মিত ৩৫০ টাকার বাস ভাড়া ৮০০ টাকা, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ লোকাল বাসে  ২৫০ টাকার ভাড়া ৬০০ টাকা, ঢাকা থেকে খুলনা নিয়মিত ৫০০ টাকার বাস ভাড়া ৮০০ টাকা, চট্টগ্রাম থেকে লক্ষীপুর নিয়মিত ৪০০ টাকার বাস ভাড়া ৮০০ টাকা, চট্টগ্রাম থেকে ভোলা নিয়মিত ৪৫০ টাকার বাস ভাড়া ৯০০ টাকা, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ ট্রাক-পিকআপে জনপ্রতি ৫০০ টাকা ভাড়া আদায় করতে দেখা গেছে। এছাড়াও ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ভাড়ার এই হার প্রতিদিন বাড়ছে।

পর্যবেক্ষণকালে দেখা গেছে ৫২ আসন বিশিষ্ট লোকাল বাসও ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ভিন্ন হলেও অসাধু পরিবহন মালিকেরা যাত্রীসাধারণের অসচেতনার সুযোগ নিয়ে ৪০ আসনের বাসভাড়া হারে ৫২ আসনের বাসেও একই হারে বাড়তি ভাড়া নিতে দেখা গেছে। সিএনজিচালিত বাস ও ডিজেলচালিত বাসের ভাড়ার হার ভিন্ন হলেও ঈদযাত্রার বহরে সবাই সমহারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য চালাচ্ছে। কিছু কিছু নামী-দামী কোম্পানীর বাসে কৌশলে বাড়তি ভাড়া আদায়ের জন্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম গেলে নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট নেই অজুহাত দেখিয়ে সাতকানিয়া, চকরিয়া বা বান্দরবানের টিকিট কাটতে বাধ্য করছে। অনুরূপভাবে উত্তরবঙ্গের বগুড়া গেলে রংপুর, নওগাঁ পর্যন্ত টিকিট কাটতে বাধ্য করতে দেখা গেছে। অন্যান্য রুটেও যাত্রীদের কাঙ্খিত গন্তব্য থেকে দুরের টিকিট কিনতে বাধ্য করতে দেখা গেছে।

পর্যবেক্ষণকালে বাসের চালক-সহকারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকার বাস-লঞ্চ ও বিভিন্ন গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণকালে চালক-সহকারি ও ভাড়া আদায়কারীর বেতন-ভাতা ও দুই ঈদের বোনাস প্রতিদিনের আদায়কৃত ভাড়ায় ধার্য্য থাকলেও দেশের কোন পরিবহনের মালিক তা পরিশোধ করেন না। অন্যদিকে দ্রব্যমুল্যের উর্ধ্বগতি, ঈদ কেন্দ্রিক পরিবহনে চাঁদাবাজি বৃদ্ধি, পরিবহন কোম্পানীগুলোর বাড়তি খরচের যোগান দেওয়া, পরিবহনের মালিক-চালক-সহকারি ও অন্যান্য সহায়ক কর্মচারিদের ঈদ বোনাস তুলে নেওয়া। পরিবহন মালিকেরা বাড়তি মুনাফা লুফে নেওয়াসহ নানাকারণে বিভিন্ন শ্রেণির গণপরিবহন ও ভাড়ায় চালিত প্রাইভেট পরিবহনগুলো একে অন্যের সাথে পাল্লা দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। সড়ক ও নৌ পথের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতা নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় মনিটরিং ভিজিল্যান্স টিমে যাত্রী সংগঠন না রাখায় এমন নৈরাজ্য থামাতে যাত্রীস্বার্থ দেখার কেউ নেই।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে দুরপাল্লার রুটে বাস-মিনিবাসে ৪০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর যাতায়াতে ৮৭ শতাংশ যাত্রীপ্রতি টিকিটে গড়ে ৩৫০ টাকা হারে বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সেই হিসেবে এবারের ঈদে দুরপাল্লার যাত্রীদের ১২১ কোটি ৮০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। এছাড়াও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সিটিবাসে ৬০ লাখ ট্রিপ যাত্রীর ৮৭ শতাংশ যাত্রী প্রতি টিকিটে গড়ে ৫০ টাকা হারে বাড়তি দিলে ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে। ফলে এবারের ঈদে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকা শুধুমাত্র বাস-মিনিবাসে বাড়তি ভাড়া আদায় হবে।

এহেন অতিরিক্ত ভাড়া নৈরাজ্যর কারণে দ্রব্যমুল্য বাড়বে, পরিবহনে চাঁদাবাজি আরেক দফা বাড়বে, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হবে, অনিয়ম-দুর্নীতি, পরিবহনে বিশৃঙ্খলা ও সড়ক দুর্ঘটনা বাড়বে। নিম্ন আয়ের লোকজন ভোগান্তিতে পড়বে। এখান থেকে উত্তরণে জন্য গণপরিবহনে ডিজিটাল লেনদেনে ভাড়া আদায় চালু করা, নগদ টাকার লেনদেন বন্ধ করা, সড়ক-মহাসড়কে সিসি ক্যামরা পদ্ধতিতে প্রসিকিউশন চালু করা, আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরী বলে মনে করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS