শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:১৬ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশের অস্তিত্বে আঘাত—হাদি হামলা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্য সাংবাদিক জাহাঙ্গীর কিরণকে হত্যার হুমকির ঘটনায় ডিআরইউ’র নিন্দা ২৫ ডিসেম্বর স্বদেশে প্রত্যাবর্তন তারেক রহমানের কেরানীগঞ্জের ভবনে আগুন জ্বলছেই, নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ১৪ ইউনিট ন্যাশনাল ব্যাংকের আইএসও সার্টিফিকেশন অর্জন ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ চুয়াডাঙ্গায় লাইসেন্স ও হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের অভিষেক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত গফরগাঁওয়ে উপজেলা ভিত্তিক সর্ববৃহৎ ইসলামিক জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্টিত রানিশংকৈল জগদল বিওপি র বিজিবি কর্তৃক মাদকদ্রব্য বাইসাইকেলসহ আসামি আটক

বাংলাদেশে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলায় পচে যাচ্ছে প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২৮ Time View

বাংলাদেশ আমদানি বন্ধ রাখায় বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিকারীরা। বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মালদহ জেলায় পচে যাওয়ার পর্যায়ে পৌঁছেছে প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ।

পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার সঙ্গে বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত আছে। মালদহের মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত ক্রসিং দিয়ে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন পণ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্ত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ২ টাকা ৭৩ পয়সা) এবং ৫০ কেজির এক একটি বস্তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ রুপিতে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৩৬ টাকা)।

মালদার স্থানীয় বাজারে যদিও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০ থেকে ২২ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে, শহর থেকে মাত্র ৭ কিলোমিটার দূরে মাহাদিপুরে চলছে এই অবস্থা।

ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানিকারীরা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশের আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের মৌখিক প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন তারা। কিন্তু এখন বাংলাদেশি আমদানিকারকরা সেই পেঁয়াজ নিচ্ছেন না।

মালদহের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী এবং রপ্তানিকারক সিরাজুল শেখ বলেছেন, “বছরের এই সময়ে সাধারণত বাংলাদেশে পেঁয়াজের চাহিদা বেশি থাকে। এই দিক আমলে নিয়ে বাংলাদেশে রপ্তানির জন্য আমাদের ব্যবসায়ীদের মধ্যে কেউ ৫০ ট্রাক, কেউ ৭০ ট্রাক এবং কেউ তার চেয়েও বেশি পেঁয়াজ মজুত করেছে। এসব পেঁয়াজ ইন্দোর এবং নাসিক থেকে আনা হয়েছে। কিন্তু এখন সেগুলো পচছে এবং আমরা ২, ৬, ৮ অথবা ১০ রুপিতে স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি। আমাদের পেঁয়াজের দাম তো উঠবেই না, ইন্দোর-নাসিক থেকে পেঁয়াজ আনতে যে তেলখরচ হয়েছে— তা ও উঠবে না।”

আরেক রপ্তানিকারী জাকিরুল ইসলাম বলেন, “দু’মাস আগেও যখন আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল— সেসময় আমি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠাতাম। এখন আমার ট্রাকগুলোর পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে এবং নামমাত্র মূল্যে সেগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।”

মালদহের পেঁয়াজ রপ্তানিকারকরা জানিয়েছেন, গত ১৬ নভেম্বর বাংলাদেশি আমদানিকারক-ব্যবসায়ীরা একটি নোটিশ জারি করেছেন। সেই নোটিশে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত কৃষ্টি সম্প্রসারণ বিভাগ সাময়িকভাবে ভারত থেকে পেঁয়াজ রপ্তানিতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। তারপর থেকে চলছে এই অবস্থা।

পশ্চিমবঙ্গের রপ্তানীকারকদের সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির মহাসচিব উজ্জল সাহা ভারতীয় গণমাধ্যম মিলেনিয়াম পোস্টকে বলেছেন, “বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি খাতে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে এবং রপ্তানি বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা সীমান্তে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ রুপিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এটা একটি অকল্পনীয় লোকসান। যদি শিগগিরই সীমান্ত খুলে দেওয়া ন হয়, তাহলে অনেক রপ্তানিকারক সর্বস্বান্ত হয়ে যাবেন।”

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2025 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS