
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। আগামীকাল রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, আমানতকারী ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাংক কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানস্থলে ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই কর্মসূচির প্রচার করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ও অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে এনিয়ে আলোচনা হয়। ওই আলোচনার পরই নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
যাঁদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকার কথা ছিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুরের। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়ার।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং আর্থিক খাতের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন অতিথির উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
কেন বাতিল করা হলো
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকটির সাম্প্রতিক কার্যক্রম, তারল্য পরিস্থিতি ও ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন কয়েকটি ব্যাংকের আমানতকারী ও চট্টগ্রামের কিছু ব্যাংক কর্মকর্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন তাঁরা অনুষ্ঠানস্থলে ঘেরাও কর্মসূচিরও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই তথ্য পাওয়ার পর অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগাম সতর্কতা হিসেবে অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়।
পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। চলতি সপ্তাহে এই নিয়োগ হতে পারে। এরপর নতুন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা, কোম্পানি সচিবসহ শীর্ষ কয়েকটি পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক দেশের প্রথম রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক। শরিয়াহ নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং ইসলামি ব্যাংকিং খাতে রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ জোরদার করাই এ ব্যাংক গঠনের মূল লক্ষ্য। আগামীকাল রোববার ব্যাংকটির উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্যাংকটির পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার কথা ছিল। যে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে এই ব্যাংক গঠন করা হচ্ছে, সেগুলো হলো ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক।
উল্লিখিত পাঁচটি ব্যাংকের মধ্যে এক্সিম ব্যাংক ছিল ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের। অন্য চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার ও সমালোচিত ব্যবসায়ী সাইফুল আলমের নিয়ন্ত্রণে। তাঁরা দুজনেই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এসব ব্যাংকে নামে ও বেনামে তাঁদের শেয়ার রয়েছে, ঋণের সুবিধাভোগীও তাঁরা।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply