বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
ভৈরবে স্বামী-স্ত্রীসহ ৩ মাদককারবারি আটক ভৈরবে চোর সন্দেহে মারধরের ঘটনায় সংঘর্ষে বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুরসহ আহত ২০, আটক ৭ ‎জ্বালানি সংকটে মোংলা বন্দরে পণ্য খালাসে অচলাবস্থা ‎ রাঙ্গামাটিতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে ০৫ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন কুমিল্লায় চড়া দামে এলপিজি বিক্রি করায় ২ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ফিলিংষ্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারী: সেচ দিতে না পেরে কৃষকের জমি চৌচির অবহেলার অভিযোগে রোগীর মৃত্যু, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় উত্তাল লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল ক্রিকেট বোর্ডে রদবদল, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটি কমিউনিটি ব্যাংকের আয়োজনে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হলো ‘স্টুডেন্ট ব্যাংকিং কনফারেন্স ২০২৬’ ‘আল্টিমেটামের জায়গা রাজপথ, সংসদ নয়’—স্পিকার

প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নেশার নতুন ছোবল

মোঃ আব্দুল্লাহ হক
  • আপডেট : বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ৩৩ Time View

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বর্তমানে দেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নেশার জন্য ব্যবহৃত মাদকদ্রব্যগুলোর তালিকায় নতুন একটি নাম যোগ হয়েছে—ট্যাপেপেন্ডাল (Tapentadol)। সাধারণত এটি একটি শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ, যা প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করার নিয়ম নেই। তবে অসাধু ব্যবসায়ী এবং নেশাখোরদের হাত ধরে এটি ছড়িয়ে পড়ছে গ্রামীণ এলাকাগুলোতে।

কীভাবে ছড়াচ্ছে ট্যাপেপেন্ডাল?

প্রাথমিকভাবে গ্রামের  ও শহরের ফার্মেসি ও চায়ের দোকান থেকে ট্যাপেপেন্ডাল অবৈধভাবে সরবরাহ করা হয়। তারপর বিভিন্ন অঞ্চলে চোরাচালানের মাধ্যমে পৌঁছানো হচ্ছে। গ্রামের তরুণ সমাজ, বিশেষ করে বেকার ও হতাশাগ্রস্ত যুবকদের মধ্যে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ট্যাপেপেন্ডালের সহজলভ্যতা এবং অল্প দামে পাওয়া যাওয়ার কারণে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

নেশার প্রভাব ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

১. শারীরিক ক্ষতি: ট্যাপেপেন্ডাল অতিরিক্ত গ্রহণ করলে শ্বাসকষ্ট, বমি, মাথা ঘোরা, এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

২. মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব: এটি গ্রহণের পর মানসিক উত্তেজনা বা উন্মত্ততা তৈরি হয়, যা পরে হতাশা ও মানসিক অসুস্থতায় রূপ নেয়।

৩. নির্ভরশীলতা: একবার শুরু করলে এটি ছাড়া থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি ক্রমশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়ে।

গ্রামীণ সমাজে প্রভাব

তরুণ প্রজন্মের অবক্ষয়: গ্রামের যুবসমাজ পড়াশোনা বা কাজের প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে এবং নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে।

পারিবারিক সমস্যা: নেশার কারণে পরিবারের মধ্যে অশান্তি বাড়ছে, আর্থিক সংকট তৈরি হচ্ছে।

অপরাধ বৃদ্ধি: নেশার টাকা জোগাড় করতে চুরি-ডাকাতি, মারামারি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম বাড়ছে।

কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ

১. আইনি পদক্ষেপ: অবৈধভাবে ট্যাপেপেন্ডাল বিক্রয় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ফার্মেসিগুলো নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে।

২. সচেতনতা বৃদ্ধি: গ্রামাঞ্চলে ট্যাপেপেন্ডালের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে।

৩. পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন: নেশাগ্রস্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ কেন্দ্র স্থাপন করা জরুরি।

৪. যুবসমাজকে কার্যক্রমে যুক্ত করা: যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং বিনোদনমূলক কার্যক্রম বাড়াতে হবে।

উপসংহার:

ট্যাপেপেন্ডালের নেশা এখনই প্রতিরোধ করা না গেলে এটি দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। এজন্য প্রশাসন, পরিবার, এবং সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। যুবসমাজকে এই মরণনেশার কবল থেকে মুক্ত করে একটি সুস্থ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS