গত ১০ বছরে এক লাখ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
বৃহস্পতিবার (২৩ মে) রাজধানীর হোটেল লেকশরে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের জন্য সামনে কী আছে’ শীর্ষক এক সেমিনারের মূল প্রবন্ধে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। এটি উপস্থাপন করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।
ড. ফাহমিদা বলেন, গত ১০ বছরে খেলাপি ঋণ ৪২ হাজার ৭২ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এক লাখ ৪৫ হাজার ৬৩ কোটি টাকা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকে মধ্যবিত্ত মানুষের জমা অর্থ কমছে। ব্যাংকে সুশাসনে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে স্বাধীনতা না থাকায় এ নেতিবাচক অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক খাতে তথ্য সরবরাহে বড় ধরনের অভাব রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন গোষ্ঠীর যোগসাজশে যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে, তার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। আর প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার জন্যই তারল্য সংকটে পড়েছে ইসলামি ব্যাংকগুলো।
ব্যাংক মার্জার প্রসঙ্গে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘ব্যাংক মার্জার চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। এটা কতটা ইতিবাচক হলো, কোন নীতিমালায় খারাপ ব্যাংককে ভাল ব্যাংকে একীভূত করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। পাশাপাশি, ডলারের দাম বাড়ানো ও সুদের হার বাজারে ছেড়ে দেয়া নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারেই ব্যাংক খাতে এ দুরবস্থা তৈরি হয়েছে।’
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুষ্টের পালন, শিষ্টের দমন করছে। ভুল পলিসি তৈরির কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংক ঘনঘন সার্কুলার দেয়। ব্যাংক খাত ভঙুর অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থার উন্নতি না হলে, প্রবৃদ্ধি বাড়লেও কোন লাভ হবে না। কারণ ব্যাংক খাত ঠিক না হলে, কর্মসংস্থান না বাড়লে, ভোগান্তিতে থাকবে সাধারণ মানুষ।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply