ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিবেদক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে শেয়ালের কাঁমড়ে নারী পুরুষসহ ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সোয়েব মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মহাখালী হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
অন্যান্য আহতরা হলেন, পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকার কাজী আল আমিন (৪০), শুভ (২২), আলম (২০), সোয়োব মোল্লা (৫০), তমাল খা (২৪), অনিক মোল্লা (২৬), পুলতাকান্দা এলাকার সোলায়মান (৩৬), ভৈরবপুর এলাকার আরমান (২৬), উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রবিন মিয়া (১৯) মধ্যেচর গ্রামের সোহেলা বেগম (৩০), রুবেল (২৮), ফরিদ মিয়া (৪৩), জামালপুর গ্রামের মোশারফ (৩৫), এছাড়া পাশ্ববর্তী রায়পুরা উপজেলার তানভীর (২৬)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়।গতকাল ৭ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত থেকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের, পুলতাকান্দা, ভৈরবপুর ও উপজেলার শিমুলকান্দি, মধ্যচর, জামালপুর এলাকায় শেয়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ১৪ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ঢাকা মহাখালী হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
শেয়ালে কামড়ে আহত অনিক মোল্লা বলেন, রাতে সাড়ে ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হলে হটাৎ করে শেয়াল আক্রমণ করে হাতে কামড় দেয়। আমার পুরো শরীর এখনও ব্যথা হয়ে আছে। আমাদের এলাকায় একটি শেয়াল ৬ জনকে কামড়ে আহত করেছে। তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এছাড়া তাদের মধ্যে আমার চাচা সোয়েব মোল্লা গুরুতর আহত হয়েছেন তাকে ঢাকা মহাখালী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী মোজাম্মেল হক বলেন, শেয়ালের কামড়ের ঘটনায় আতঙ্কে আমাদের এলাকায় কেউ বাসা থেকে বের হয়নি। রাতে আমার ঘরের সামনে যখন শেয়াল কামড় দিতে আসে তখন আমি লাঠি বল্লম দিয়ে দৌড়ানি দেয়। পরে এলাকাবাসী মিলে পাগলা শেয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা.সোহরাব হোসেন সৌরভ জানান, উপজেলা ও পৌর শহরের ১৪ জন রোগী শেয়ালে কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনকে আইসিডিডি আরবি ঢাকা মহাখালিতে রেফার্ড করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারে দেয়া ইমুনিগ্লুভিন টিকা রোগীদের দেয়া হয়েছে। সম্ভবত শিয়ালটি রেবিস ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে। তাতেই সে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে সবাইকে কামড়াচ্ছে। যারা আক্রান্ত তারা দ্রুত ভ্যাকসিন নিলে আর ক্ষতি হবে না। সঠিক চিকিৎসা না পেলে রোগী মৃত্যু হওয়ার সম্ভবনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।