শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
আগামী সপ্তাহ থেকে চালু হতে যাচ্ছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’: গভর্নর মানুষদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে বন্ধ কারখানাগুলো আবার চালু করার কথা ভেবে দেখা দরকার: মির্জা ফখরুল নতুন শিল্পায়নে জ্বালানি সক্ষমতা নীতিমালার গুরুত্ব অপরিসীম: ডিসিসিআই খেলাপি ঋণের সংকট কাটিয়ে উঠতে অন্তত ৫ থেকে ১০ বছর সময় লাগবে: বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফরিদপুরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ; আহত শতাধিক অযৌক্তিক বাড়ী ভাড়া বৃদ্ধি বন্ধের দাবিতে ভাড়াটিয়া পরিষদের মানববন্ধন চলতি কর বছরে এখন পর্যন্ত ২০ লক্ষের বেশী করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছে ময়মনসিংহ র‍্যাব১৪ বাড্ডার অপহরণকারী আসামি নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার হত্যা মামলার আসামি সেলিম আহমদ এখনও কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে? প্রশ্ন ছাত্রদলের ‎ শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়াহ’ ও আকস্মিক বন্যায় ৮০ জন নিহত, নিখোঁজ ৩৪

ইবিতে অন্তরাসহ ৫ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : বুধবার, ১ মার্চ, ২০২৩
  • ১৮০ Time View

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় অন্তরাসহ ৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (০১ মার্চ) বিচারপতি জেবিএম হাসানের নেতৃত্বে দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দিয়েছেন।

ভয়ভীতিহীনভাবে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রভোস্টকে প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সম্প্রতি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় অপব্যবহার করছেন, যা তাদের রাজনৈতিক দলের ইমেজও নষ্ট করছে বলে হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন।

এর আগে, মঙ্গলবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) একই বেঞ্চে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে পড়ে শোনানো হয়, যার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইবি আবাসিক হলের শিক্ষার্থী ফুলপরী খাতুনকে পাশবিক ও অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। এতে ছয় শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দুটি হাইকোর্টে পড়ে শোনান আইনজীবীরা।

বিচার বিভাগীয় প্রতিবেদনে বলা হয়, ইবিতে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় সানজিদা চৌধুরী অন্তরা নির্যাতন করেছেন। অমানবিক, পাশবিক ও নির্মম নির্যাতন করেছেন তিনি।

অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবেদনে পাশবিক নির্যাতনের সত্যতা মিলেছে। নির্যাতন করেছেন মিম, তাবাসসুম, উর্মি, লিমা ও মুয়াবিয়া, আর নেতৃত্বে ছিলেন সানজিদা চৌধুরী অন্তরা।

প্রতিবেদন দুটি আরও পর্যালোচনা করে বুধবার এ বিষয়ে আদেশ দেন উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি সম্পর্কেও জানতে চান আদালত।

এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট এবং হাউস টিউটরদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টিও উঠে আসে তদন্ত প্রতিবেদনে। অভিযুক্তরা ভিকটিমকে মুচলেকা দিতেও বাধ্য করেন। বিচার বিভাগীয় তদন্তে এসেছে, প্রক্টর চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছেন এবং অভিযোগ পেয়েও কোনো পদক্ষেপ নেননি। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সংক্রান্ত নিজস্ব কী আইন ও বিধি আছে, সেটিও জানতে চেয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায় এ প্রতিবেদন দাখিল করেন। এদিন বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনও আদালতে দাখিল করা হয়, যা সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেয়া হয়। 

ইবির ডেপুটি রেজিস্ট্রার মনিরুজ্জামান মিল্টন তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দেন।

এর আগে রোববার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইবির রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি। ওইদিন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল ৫০০৯ নম্বর স্মারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রতিবেদনটি জমা দেন।

পরে তদন্ত কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. দেবাশীষ শর্মা বলেন, ‘আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচএম আলী হাসান বলেন, ‘আমার কাছে প্রতিবেদনটি এসেছে। এটি উপাচার্য ও হাইকোর্টে পাঠানো হবে।’

গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ইবি ছাত্রী ফুলপরীকে রাতভর মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

তার আগের দিন ১৫ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রীকে (ইবি) রাতভর মারধর ও শারীরিক নির্যাতন করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। রিটে জড়িতদের হাইকোর্টে তলব করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী মো. মোহসীন জনস্বার্থে রিটটি করেন। স্বরাষ্ট্র সচিব, শিক্ষা সচিব, ইবির ভিসি, রেজিস্ট্রার ও প্রক্টরসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত শারীরিক নির্যাতন করা হয় নবীন ছাত্রী ফুলপরী খাতুনকে। ভুক্তভোগী ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেত্রী সানজিদা চৌধুরী অন্তরা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে–তারা ওই ছাত্রীকে মারধর করে ও তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে রাখেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে ভয় পেয়ে হল ছেড়ে বাড়ি চলে যান ভুক্তভোগী ছাত্রী। পরে র‌্যাগিংয়ের নামে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তার বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেষ্টা দফতর বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রলীগ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিষয়টি হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। পরবর্তী সময়ে হাইকোর্টের নির্দেশে ক্যাম্পাস ছাড়েন অভিযুক্তরা। হাইকোর্টের নির্দেশে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2025 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS