ইতালিতে হার স্বীকার করে নিয়েছে মধ্য-বামপন্থিরা। জিতছে জর্জা মেলোনির নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট। এক্সিট পোল অনুসারে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে। এতে এই প্রথম এক নারী প্রধানমন্ত্রী পাবে ইতালি। বেনিতো মুসোলিনির পর এই প্রথম এক অতি-দক্ষিণপন্থি দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন নারী।
সোমবার সকালে মেলোনি বলেছেন, ‘ইতালির মানুষ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে। তারা আমার জোটকে জিতিয়েছে। আমরা যখন শাসনের দায়িত্ব পাব, তখন ইতালির সব মানুষের জন্য শাসন করব। আমাদের লক্ষ্য হলো, ইতালি এক হয়ে থাকুক। আমরা বিভেদ করব না। আমরা মানুষের আস্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করব না।’
মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্রেটিক পার্টি হার স্বীকার করার পরেই মেলোনি এই মন্তব্য করেন। ডেমোক্রেটিক পার্টির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ‘খুবই দুঃখজনক ঘটনা যে, দক্ষিণপন্থিরা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে।’
রোববার স্থানীয় সময় রাত এগারোটায় এক্সিট পোল শেষ হয়। সেখানে দেখানো হয়েছে, মেলোনির নেতৃত্বাধীন জোট ব্রাদার্স অফ ইতালি দল ৪৫ শতাংশ ভোট পেতে চলেছে। মেলোনির দল ২৬ শতাংশ ভোট পেতে পরে। তারাই সবচেয়ে বড় দল হতে যাচ্ছে।
ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বাধান জোট পেতে চলেছে ২৯ শতাংশ ভোট। ফাইফ স্টার মুভমেন্ট পেতে পারে ১৬ দশমিক পাঁচ শতাংশ ভোট। ইতালির ভোটার সংখ্যা ছিল পাঁচ কোটি ১৫ লাখ। ৬৪ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। ২০১৮-তে দিয়েছিলেন ৭৩ শতাংশ।
সমীক্ষা অনুযায়ী, মেলোনির জোট ২২৭ থেকে ২৫৭টি আসন পেতে পারে। ইতালির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে মোট আসনসংখ্যা চারশ। আর দুইশ সদস্যের সেনেটে তারা পেতে পারে ১১১ থেকে ১৩১টি আসন। ডেমোক্রেটিক পার্টি নিম্নকক্ষে ৮৮ ও সেনেটে ৪২টি আসন পেতে পারে।
এদিকে মেলোনির ব্রাদার্স অফ ইতালিতে অভিবাসন-বিরোধী লিগ পার্টি আছে। তাছাড়া অতি-দক্ষিণপন্থি ফরজা ইতালিয়া পার্টিও আছে।
মেলোনির পার্টির ঘোষিত ক্য়াচলাইন হলো, ‘গড, কান্ট্রি, ফ্যামিলি’ বা ‘সৃষ্টিকর্তা, দেশ, পরিবার’। ৪৫ বছর বয়সী নেত্রী নিজেদের দলকে রক্ষণশীল গোষ্টী হিসাবেই তুলে ধরতে চেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো তিনি ফ্যাসিস্ট। কিন্তু মেলোনি সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সূত্র: ডিডাব্লিউ