
মোঃ শাহ্ আলম সরকার, স্টাফ রিপোর্টার: গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানায় মাদক সংক্রান্ত একটি ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মাদকের ঘটনায় তিন আসামিকে আটক করা হলেও দুই আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে মূল অভিযুক্তকে রাতের আঁধারে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে কাশিমপুরের ৪ নং ওয়ার্ডের সারদাগঞ্জ এর সাত বাড়ী এলাকা থেকে তিনজনকে আটক করে কাশিমপুর থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে কাশিমপুর থানার ওসি খালিদ মোল্লা ও এসআই সুমনের নেতৃত্বে একটি পুলিশের টিম সৌরভের বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় সৌরভ, হাসানুর ও সালমান ওরফে লিডারকে মাদক সেবনের সময় ১০৪ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়।
কিন্তু আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নাটকীয় মোড় নেয় পুরো ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, রাতেই সাতবাড়ী এলাকার বিএনপি নেতা করিমের মাধ্যমে মূল অভিযুক্ত সৌরভকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে পুলিশের নিরপেক্ষতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
এদিকে, হাসানুরের স্ত্রী ও আরেক অভিযুক্ত সালমান ওরফে লিডারের স্ত্রীর মধ্যে হওয়া এক কথোপকথনের অডিও সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ওই কথোপকথনে তারা স্বীকার করেন, হাসানুর ও সালমান নিয়মিত মাদক সেবনকারী এবং সৌরভ দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত।
তারা আক্ষেপ করে বলেন, মাদকের মূল ডিলারকে পুলিশ ধরে ছেড়ে দিল, আর যারা মাঝে মধ্যে সেবন করে তাদেরই চালান দিল।
বুধবার(২৮ জানুয়ারি) দুপুরে মাদক মামলায় হাসানুর ও সালমান ওরফে লিডারকে আদালতে পাঠিয়ে কারাগারে প্রেরণ করা হলেও একই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সৌরভ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এমনকি এলাকায় দম্ভ দেখিয়ে চলাফেরা করছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। এতে জনমনে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, থানার সামনে থেকে বিএনপি করিম এক হাজার টাকার ৫০টি নোট গুনে পকেটে ভরে ওসির রুমে যায়। আর একটু পরেই করিমের সাথে মাদকের ডিলার আটককৃত সৌরভ থানা থেকে বের হয়ে আসে।
এসময় পাশে থাকা আরেক ব্যক্তি বলেন, সৌরভ দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছে। তার বাসায় মাদক সেবনের রঙ্গলিলা চলে প্রতিনিয়ত। তাকে আমি এ বিষয়ে সতর্ক করলে তিনি দম্ভ করে কাশিমপুর থানা পুলিশ তার পকেটে বলে জানান।
এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার ওসির বক্তব্য জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। পুলিশের এই নীরবতা সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করেছে।
তবে এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার(অপরাধ উত্তর) এস এম শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অপরদিকে এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হোক এবং প্রকৃত অপরাধীদের রাজনৈতিক পরিচয় বা পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে ছাড় পাওয়ার সুযোগ দেওয়া না হয়।
তারা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবেও কার্যকর দেখতে চান।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply