ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’। মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার মধ্যে (ভারতীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টা) ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের নামগুলোর বিচিত্রতা লক্ষ্য করা যায়। নাম নির্ধারণে কয়েকটি দেশের ওপর দায়িত্ব পড়ে।
জাতিসংঘের অধীনস্থ, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) তথ্যানুযায়ী, একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে একই সময়ে একাধিক ঘূর্ণিঝড় হতে পারে এবং তা এক সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় টিকে থাকতে পারে। তাই বিভ্রান্তি এড়াতে, ঘূর্ণিঝড় বিষয়ক সচেতনতা ছড়াতে এবং ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলা ও প্রশমনের জন্য প্রতিটি ক্রান্তীয় ঝড়েরই একটি করে নাম দেয়া হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন সমুদ্র অববাহিকায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আঞ্চলিক বিশেষায়িত আবহাওয়া দফতর (আরএসএমসি) এবং ট্রপিক্যাল সাইক্লোন ওয়ার্নিং সিস্টেমস (টিসিডব্লিউএস)- এর উপর। বিশ্বজুড়ে ৬টি আরএসএমসি এবং ৫টি টিসিডব্লিউএস রয়েছে।
ভারত মহাসাগরের উত্তরভাগে এবং এর সঙ্গে লাগোয়া বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়গুলোর নামকরণের ক্ষেত্রে একটি মানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভারতের আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) এবং নয়াদিল্লীতে অবস্থিত আরএসএমসি। ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়গুলো নিজস্ব নাম পেতে শুরু করে ২০০০ সালের পর থেকে। সে বছর ওমানের মাসকটে ডব্লিউএমও’র ২৭তম অধিবেশনে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী ৮টি দেশ- ভারত, বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড ২০০৪ সাল থেকে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ শুরু করে।
উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬২ কিলোমিটার হয়ে গেলে সেই ঘূর্ণিঝড়ের একটি নাম দেয় আইএমডি।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি ঘূর্ণিঝড় ‘মিগজাউম’ থেকে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি ভারতের দক্ষিণ অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত করতে পারে।
বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, এ ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাংলাদেশে তেমন পড়বে না। তবে বুধ ও বৃহস্পতিবার দেশের উপকূলীয় কিছু জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও বৃষ্টি হতে পারে। উপকূলে ভারী বৃষ্টি হবে না বলেই মনে হচ্ছে। মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশের চার সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।