বরিশাল এস এল টি তুহিন: টুপটাপ বৃষ্টির ফোঁটা, থেমে থেমে আকাশ কালো মেঘের হুমকি মাথায় নিয়েই নগরীতে অনুষ্ঠিত হলো জমকালো আয়োজনের জয়বাংলা উৎসব। বালাম, মমতাজ, ফেরদৌস পূর্ণিমাসহ তারকা সন্ধ্যায় লোকে লোকারণ্য মাঠ। উদ্বেলিত বরিশালের আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হয় – জয়বাংলা -। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার পর নগরীর বঙ্গবন্ধু উদ্যানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী শিল্প ও বেসরকারী বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন আইটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। জেলা চেম্বার অব কমার্স সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র পরিচালক সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আবদুল্লাহসহ বরিশালের অন্যান্য রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথি সালমান এফ রহমান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষনা করে বলেন, দেশে এত শিল্পীদের নিয়ে এতবড় অনুষ্ঠান আর কোথাও হয়নি। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পূর্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য উৎসর্গ করেছেন জানিয়ে বলেন, তিনি না হলে পদ্মা সেতু হতো না। পদ্মা সেতু করার জন্য তাকে এ অনুষ্ঠান উৎসর্গ করলাম।প্রধান অতিথি আরো বলেন, আমি বরিশালে দেখলাম যত বড় বড় ভবন। সব সরকারী। বেসরকারী খাতে কোন উন্নয়ন হয়নি বরিশালে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু হলে বরিশালের আমুল পরিবর্তন হবে।বেসরকারী খাতে উন্নয়নে যত সহায়তা লাগবে তা করবেন বলে জানিয়েছেন সালমান এফ রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেষে তাকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে স্মারক সম্মাননা দেয়া হয়। এ সময় তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, মেয়র পত্নী লিপি আব্দুল্লাহ, ছোট ভাই সেরনিয়াবাত আশিক আবদুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মূল উদ্দীপক স্লোগান ‘জয়বাংলা’ কে জাতীয় স্লোগান করায় ঢাকা, দোহার ও প্যারিসের পর এবার এ উৎসবে মাতলো বরিশাল। গত ২২ মার্চ দোহারের জয়পাড়া বড়মাঠে এ উৎসব হয়। ২২ মে বরিশালে উৎসব দিন ধার্য হয়েছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে এটি পিছিয়ে ১৬ জুন করা হয়েছে। এতে জয়বাংলাকে জাতীয় স্লোগান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় ব্যবসায়ী নেতা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ সালমান এফ রহমান এমপিকে সংবর্ধনা জানান বরিশালবাসীর পক্ষে মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ । তিনি জয় বাংলা অনুষ্ঠানে সর্বাত্মক সহযোগীতার জন্য সিটি মেয়রকে সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহকে ধন্যবাদ জানান। আলোচনা পর্ব শেষে তারকাবহুল এ উৎসবে পারফর্ম করেন দেশবরেণ্য শিল্পীরা। তাপসের সাংস্কৃতিক টিমে ছিলেন বিদ্যা সিনহা মীম, তমা মির্জাসহ আরো উল্লেখযোগ্য ব্যান্ড তারকারা। ছিলো নৃত্যাঙ্গনের নৃত্য ও দেশাত্মবোধক নানা গানের দারুণ সব কোরিওগ্রাফির উপস্থাপন। সংগীত পরিবেশন করেন তাপস অ্যান্ড ফ্রেন্ডস ও জনপ্রিয় সব শিল্পীরা। এছাড়াও কলকাতার এমপি মিমি চক্রবর্তী উপস্থিত হয়ে দর্শকদের আনন্দে ভাসিয়েছেন। উৎসবের আমেজে লাখো মানুষের জয় বাংলা স্লোগানে মুখরিত হয় বরিশালের বঙ্গবন্ধু উদ্যান।