
ইরানে ২১ দিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি হামলার জেরে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার সংবাদ সংস্থা ‘হরানা’র সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে নিহতের মোট সংখ্যা ৩ হাজার ১৮৬ জনে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ক্রমবর্ধমান প্রাণহানিকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
হরানা’র পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নিহতদের মধ্যে এক হাজার ৩৯৪ জনই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে অন্তত ২১০ জন শিশু রয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধে এক হাজার ১৫৩ জন সামরিক সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন বলে সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে। তবে বাকি ৬৩৯ জনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ বা পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া এই যুদ্ধে ১৮ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইরানের এই পরিস্থিতির সমান্তরালে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক ঘণ্টায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, সৌদি আরব এবং বাহরাইন বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ইরান থেকে আসা সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলা করছে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় থাকায় নাগরিকদের সতর্ক করেছে।
কুয়েত সরকারও দেশজুড়ে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় নাগরিকদের জরুরি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করা আরও পাঁচটি ড্রোন তারা সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
বাহরাইনেও একই ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাইরেন বাজিয়ে বাসিন্দাদের নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানি আগ্রাসনের ফলে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একটি গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সামগ্রিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা চরম উত্তেজনার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply