অদ্য ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সোমবার, সকাল ১১:০০ টায় রাজধানীর ২৭/৫/খ, তোপখানা রোড, ৩য় তলা, সেগুনবাগিচা, ঢাকাস্থ একটি মিলনায়তনে “বৈষম্যহীন মর্যাদা সংলাপ” অনুষ্ঠিত হয়।
বৈষম্যহীন মর্যাদা সংলাপের মেনটর হারুনূর রশিদের সভাপতিত্বে সংলাপে অংশগ্রহণ করেন সুপ্রীম কোর্ট বারের সিনিয়র এডভোকেট আফজাল হোসেন, রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুর রফিক, হাসান মঞ্জুর, সাংবাদিক শফিক সেলিম, শ্রমিকনেতা বজলুর রহমান বাবলু, প্রাকৃতিক চিকিৎসক হাওয়া বেগম, শ্রমিক নেত্রী শাহানাজ বেগম, সাংবাদিক মামুন সাঈদ প্রমুখ।
সংলাপে একটি বৈষম্যহীন সমাজ, মর্যাদাবান রাষ্ট্র এবং বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিমান শ্রেষ্ঠ জাতি গঠনের লক্ষ্যে নিম্নবির্ণত বিষয় সমূহ নিয়ে আলোচনা হয়। যথা—
১। গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা, বিদেশী নাগরিকদের প্রত্যাবাসন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা ও সামর্থ দ্বিগুণ করা।
২। গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকার জন্য কমিশন গঠন, সকল মামলা প্রত্যাহার, ক্ষতিপূরণ ও ভাতা প্রদান।
৩। শহীদ, নিখেঁাজ ও আহতদের নামে প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর নামকরণ।
৪। ছাত্রদের খাদ্য নিরাপত্তা, বেকার ভাতা বা পুনর্বাসন, ট্রেড কোর্স শিক্ষা, ব্যাংক ঋণে উচ্চশিক্ষা ও ইন্টার্নি, মহাকাশ বিশ্ববিদ্যালয় এবং গাড়ী ভাড়া সীমিত।
৫। সকল মাদ্রসা, মাধ্যমিক ও কারিগরী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমান সুযোগ—সুবিধা প্রদান ও সরকারি সফরে ছাত্রদের অংশগ্রহণ।
৬। ১০ টাকায় খাবার ও সার্বজনীন পেনশন।
৭। স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা, ৩ লক্ষাধিক সংগঠন চালু, ২০ লক্ষ টাকা অনুদান, নতুন সংগঠন অনুমোদন ও দ্রুত সরকারী সেবা।
৮। ব্যাংক লুটকারী, ঋণখেলাপী, টাকা পাচারকারীদের টাকা উদ্ধার ও শাস্তি দান এবং ব্যাংক কমিশন গঠন।
৯। কৃষিতে ভতুর্কি, বিনামূল্যে সেচ—সার—বীজ, কৃষি ঋণ ও অনুরূপ ঋণ মওকুফ এবং গবাদি পশু—পাখি, ফসল, ফলজ ও ঔষধী বাগান বীমা চালু করা।
১০। শান্তিরক্ষা মিশন সমাপ্তকারীদের নেতৃত্বে বিদেশে কর্মসংস্থান, ব্যক্ত পর্যায়ে ব্যাংক ঋনে বিদেশে কর্মসংস্থান ও প্রবাসীদের অর্থে ৭% বোনাস।
১১। স্বাস্থ্য সুরক্ষা বীমা ও মাতৃ স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউনানী আয়ুর্বেদী হোমিও আক্যু সমন্বিত প্রাকৃতিক চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।
১২। নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য পরিবেশবান্ধব আবাসন, ভূমিহীনদের ২—৩ বিঘা জমি দান ও বয়স্ক নারী—পুরুষদের সর্বোচ্চ মর্যাদাদান ।
১৩। মসজিদ ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্বদান ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্র ও নেতৃত্বের সম্মান দান।
১৪। সামাজিক সুরক্ষা ভাতা তিনগুণ বৃদ্ধিসহ মাসিক রেশন প্রদান।
১৫। গ্রামীণ নিরাপত্তা, বনভূমি ও জলাভূমি সুরক্ষা এবং গ্রাম আদালত।
১৬। জ্বালানি উৎপাদন ৪ গুণ, পরিবেশবান্ধব বাহন, ২য় পদ্মা ও যমুনা সেতু, নৌপথ ড্রেজিং, দরিদ্রদের বিদ্যুৎ ফ্রি, অটোরিক্সা প্রদান ও অটো চার্জিং স্টেশন।
১৭। সাড়ে ৫ হাজার নতুন বিচারক ও বিচারপতি নিয়োগ ও ১৮ মাসে মামলা নিষ্পত্তি, আইনজীবী ও তাঁর সহকারীগণের পেনশন ও ভাতা।
১৮। নিকাহ রেজিস্ট্রার/ কাজীদের ভাতা ও পেনশন।
১৯। নকল নবিস ও দলিল লেখকদের ভাতা ও পেনশন।
২০। বাংলাদেশী রেনেসাঁ প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিক ও সংবাদমাধ্যমের কমীর্, কবি, লেখক, গ্রাম ও শহরের সংস্কৃতি কর্মী, লোকজ জ্ঞানী ভাতা ও পেনশন।
২১। পরিবেশবান্ধব ১০ হাজার নতুন ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন এবং লক্ষ লক্ষ বেকারের উন্নত স্থায়ী কর্মসংস্থান।
২২। প্রত্যেক উপজেলায় বিসিক শিল্পনগরী স্থাপন, শিল্প বর্জ্য শোধন ও গৃহস্থ্যলী বর্জ্য ক্রয়, যন্ত্রাংশ তৈরি, চিকিৎসা পণ্য উৎপাদন এবং ভ্যাট ৫% করা।
২৩। নতুন বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ স্থাপন এবং স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী ও প্রতিনিধিদের ভাতা বৃদ্ধি এবং মেয়াদকাল ৪ বছর করা।
২৪। ব্যাংক, অর্থকরী সংস্থা, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা, শিল্প কর্পোরেশন ও স্থানীয় সরকার, গার্মেন্টস, বেসরকারী কারখানা/কোম্পানী কর্মীদের পেনশন ও ভাতা।
২৫। ২০তম থেকে ২১তম গ্রেডের কর্মচারীগণ সচিব বা সচিব সমমান কর্মকর্তাদের সমান এককালীন পেনশন সুবিধা।
২৬। ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বা বা ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উন্নয়ন, বাড়ি ও জমি বরাদ্দ দান এবং হিন্দু নারীর বিয়েতে সরকার থেকে সম্পদ দান।
উপরোক্ত প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে টাকার উৎস্য, আন্তর্জাতিক মানদন্ডে বাজেট এবং আপনার নেতৃত্বেই বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাবান ও শক্তিমান শ্রেষ্ঠ জাতি গঠনে আগামী ৬ নভেম্বর ২০২৬ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত সংলাপে উল্লেখিত প্রস্তবনাগুলো বিস্তারিত আকারে সরকারের উদ্দেশ্যে তুলে ধরা হবে।