সিলেট প্রতিনিধি: রেপ করতে গেলে অজ্ঞান হয়ে যায়, পরে গলাটিপে হত্যা করি, এমন বক্তব্য পুলিশের কাছে দিয়েছে হত্যাকারী চাচা জাকির। ধর্ষণ চেষ্টাকালে শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে পরে তাকে হত্যা করা হয়।
চার বছরের এই শিশু হত্যার এমন রোহমর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া জাকির হোসেন। জাকির নিহত শিশু ফাহিমার প্রতিবেশি ও সম্পর্কে চাচা। সোমবার (১১ মে ২০২৬ইং) রাতে তাকে সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে সিলেটের জালালাবাদ থানা পুলিশ।
জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর তার শান্তির দাবিতে মধ্যরাত পর্যন্ত থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে স্থানীয়রা। পরে জাকিরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধরা।
এরপর জাকিরের স্বীকারোক্তিমূলক একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাকে ফাহিমাকে হত্যার বর্ণনা দিতে শোনা যায়।
ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে জাকির বলেন, ‘সকাল ১০টা/সাড়ে ১০টার দিকে ফাহিমাকে দুটি সিগারেট আনাই। তখন আমার ঘর খালি ছিলো। আমি তখন নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি ইয়াবা খাই। তখন আমার মধ্যে কেনে যে অতো অমানুষ জাগিয়া উঠল মেয়েটার প্রতি আমার খারার দৃষ্টি চলে যায়।
জাকির আরও বলেন, পেরে মেয়েটাকে আমি রেপ (ধর্ষণ) করতে চাইছলাম (চাই), কিন্তু তখন সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এতে আমি ভয় পেয়ে যাই। ভয় পেয়ে গলা টিপে মেরে ফেলি। পরে ঘরের সুটকেসের ভেতরে রাখি। দু’দিন পর দেখি গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবারের মানুষ জেনে যাবে এই চিন্তায় রাতে লাশ নদীতে ফেলে দেই।
এই ভিডিও কোথায় ধারণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর থানরে ভেতরেই এই ভিডিও ধারণ করা হয়। এসময় জাকিরকে আরও কয়েকজন জিজ্ঞাসাবাদ করতে শোনা গেছে।
তবে এই ভিডওর উৎস সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজাহিদুল ইসলাম।
আর সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, শিশু ফাহিমাকে হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকিরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে আজ (মঙ্গলবার ১২ মে ২০২৬ইং) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানান।
নিহত শিশু ফাহিমা সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। রাইসুল হক স্থানীয় বাজারে একটি দোকানে দিনমজুরের কাজ করেন।
শুক্রবার (৮ মে ২০২৬ইং) বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে ফাহিমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার দু’দিন আগে সে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিলো। সোমবার রাতে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর ফাহিমা হত্যার বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে যৌন নির্যাতন চালিয়ে ফাহিমাকে পরে হত্যা করে। এরপর স্ত্রীর ওড়না দিয়ে পেঁচিয়ে ফাহিমাকে ব্যাগে রাখেন জাকির। পরে সেই ওড়নাসহ বাদাঘাট এলাকার ডোবায় ফেলে দেন জাকির।