
আবুল কাশেম রুমন, সিলেট ব্যুরো: সিলেট নগরীতে গ্যাসের আবাসিক লাইনে মিলছে রহস্যময় তরল পদার্থ নিয়ে নান জল্পনা কল্পনা। হঠাৎ এমন করে জালালাবাদ গ্যাসে কেন মন তরল পদার্থ মিলেছে গ্রাহকদে মধ্যে প্রশ্নের শেষ নেই। রহস্যময় তরল পদার্থে এতে রান্নার চুলা জ্বলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন অনেক গ্রাহক। বিশেষ করে নগরীর দরগাহ মহল্লা সংলগ্ন পায়রা আবাসিক এলাকা, ছড়ারপার ও বনকলাপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকায় গত এক মাস ধরে এই পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ করেই রান্নার চুলায় গ্যাসের চাপ কমতে থাকে। দু-এক দিন টিমটিমে শিখায় চলার পর একপর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পায়রা ৫৪ নম্বর বাসার বাসিন্দা নাঈমুল হক গালিব জানান, গত রমজান মাসে দুই দফা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলে কর্মীরা এসে পরীক্ষা করেন। তখন দেখা যায়, পাইপলাইনে তরল পদার্থ জমে আছে, যা থেকে তীব্র কেরোসিনের গন্ধ আসছিল। ২৫ মার্চ (বুধবার) তৃতীয়বারের মতো একই সমস্যায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে টেকনিশিয়ানরা আবারও লাইনে তরল পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করেন। গ্রাহকদের দাবি, কেবল সাময়িক ভাবে তরল পদার্থ অপসারণ করলেই হবে না, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
জানা গেছে, কেবল পায়রা আবাসিক এলাকা নয়, নগরীর ছড়ারপার ও বনকলাপাড়া এলাকার শত-শত গ্রাহক একই ধরনের অভিযোগ করছেন। জালালাবাদ গ্যাসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা স্বীকার করেছেন যে, তারা নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে এমন অভিযোগ পাচ্ছেন।
তিনি দাবি করেন, যে গ্যাস ফিল্ড থেকে সরবরাহ আসছে, সেখান থেকেই নিম্নমানের বা তরল মিশ্রিত গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে পাইপলাইনে কন্ডেনসেট বা অন্য কোনো তরল জমে গ্রাহক পর্যায়ে সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে হোটেলের খাবার বা বিকল্প উপায়ে রান্না করতে গিয়ে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়েছেন অনেক গ্রাহক। অবিলম্বে গ্যাস ফিল্ড পর্যায় থেকে মানসম্মত গ্যাস নিশ্চিত করা এবং পাইপলাইন সংস্কারের মাধ্যমে এই দুর্ভোগ অবসানের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply