
জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ ১৮ বছর পর, আজ ২৬ মার্চ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সালাম গ্রহণ করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন উপস্থিত থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান।
উক্ত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ, সংসদ সদস্যগণ, ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাগণ, বৈদেশিক কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনায় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়।
এই কুচকাওয়াজে বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সশস্ত্র বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৯ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সাভার এরিয়া মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক ও প্যারেড উপ-অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন ৭১ মেকানাইজড ব্রিগেড এর কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাফকাত-উল-ইসলাম।
উক্ত কুচকাওয়াজে বিভিন্ন বাহিনীর ২৫টি কন্টিনজেন্ট রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করেন। এতে অংশগ্রহণকারী সম্মিলিত যান্ত্রিক বহরের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ৯ আর্টিলারি ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আনোয়ার উজ জামান।
সুসজ্জিত বাহনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ও রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদানসহ যান্ত্রিক বহরে সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সমরাস্ত্র প্রদর্শন করা হয়।
এছাড়াও, আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, বিজিবি এয়ার উইং ও র্যাব ফোর্সেস এর ফ্লাইপাস্ট এবং দুঃসাহসিক প্যারা কমান্ডো সদস্যদের ফ্রিফল জাম্প কুচকাওয়াজকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
যান্ত্রিক বহরের প্রদর্শনীর পরপরই শুরু হয় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এক মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট ও এরোবেটিক ডিসপ্লে। বিমান বাহিনীর ফ্লাইপাস্টের নেতৃত্ব দেন এয়ার কমোডর মেহেদী হাসান।
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও রেডিও সরাসরি সম্প্রচার করে। নতুন প্রজন্মের নিকট মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার লক্ষ্যে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারসহ রাজধানীর নির্দিষ্ট সড়কগুলোতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের চেতনা সম্বলিত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যানার ও বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়।
এই সকল ব্যানার ও বিলবোর্ডসমূহের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ তথা বাঙালি জাতির অমর ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটানো হয়। এছাড়াও, প্যারেড গ্রাউন্ডে কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণকারী সকল বাহিনীর উল্লেখযোগ্য কর্মকাণ্ডের ছবি প্রদর্শিত হয়েছে।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস কুচকাওয়াজ সুষ্ঠু ও সার্থক করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, পিডিবি, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, টিএন্ডটি, ডেসকো, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, পিডব্লিউ ডি ও স্থাপত্য অধিদপ্তর এর সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply