বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

বিশ্বকাপ স্বপ্ন কি শেষ নেইমারের

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬
  • ৩৫ Time View

ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে আবারও প্রশ্ন- তিনি কি আর বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন? চোট, অনিয়মিত পারফরম্যান্স এবং মাঠের বাইরের বিতর্ক মিলিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, আর কোচ কার্লো আনচেলত্তিও বড় ঝুঁকি নিতে নারাজ।

সম্প্রতি ইউরোপীয় এক আলোচনায় নেইমারের মান নিয়েও তর্ক শুরু হয়। কেউ কেউ তাকে সর্বকালের সেরা পর্যায়ের খেলোয়াড়দের মধ্যে রাখতে অস্বীকার করেন। যদিও বাস্তবতা বলছে, বার্সেলোনা ও প্যারিসে নিজের সেরা সময়ে মেসি ও রোনালদোর পরেই ছিলেন তিনি।

মাঠের বাইরে বিতর্কে নেইমার: ম্যাচ মিস করে ২৪ ঘণ্টা অনলাইন পোকার!

ব্রাজিলের দল ঘোষণা: নেইমার বাদ, দলে নতুন মুখ এন্ড্রিক

পরিসংখ্যানও সেটাই বলে। বার্সেলোনা ও প্যারিসে মিলিয়ে ৩৯৬ গোল অবদান, যা অনেক কিংবদন্তির চেয়েও কম নয়।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে নেইমারের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে চোট। ২০২৩ সালে গুরুতর হাঁটুর চোটের পর থেকে আর জাতীয় দলের জার্সিতে নিয়মিত খেলতে পারেননি।

মধ্যপ্রাচ্যে তার সময়টা ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৫ সালে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসেন। সেখানে ১১ গোল ও ৫ অ্যাসিস্ট করে দলকে অবনমন অঞ্চল থেকে তুলতে সাহায্য করলেও ফিটনেস সমস্যা থেকেই যায়। হ্যামস্ট্রিং চোটে ১৮ ম্যাচ মিস করেন তিনি, মৌসুমের শেষদিকে আবার হাঁটুর চোট নিয়ে খেলতে হয়।

এক ম্যাচ শেষে নেইমার নিজেই বলেন, ডিসেম্বরের পর অবসর নেওয়ার কথাও ভাবছেন।

তিনি বলেন, “ভবিষ্যৎ কী হবে জানি না। ডিসেম্বরের পর হয়তো অবসর নিতেও পারি। এখন প্রতিদিন ধরে এগোচ্ছি।” এই বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি করেছে- তিনি কি সত্যিই পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরতে পারবেন?

২০২৬ মৌসুমে ফিরে এলেও পারফরম্যান্স ছিল মিশ্র। এক ম্যাচে গোলের সুযোগ নষ্ট, বল হারানো। সব মিলিয়ে হতাশ করেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে হারের ম্যাচেও প্রভাব রাখতে পারেননি। এমনকি তার গতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে। তবে কয়েকদিন পরই ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে ২ গোল করে আবার নিজের শ্রেণি দেখান তিনি।

এরপরই আবার বিতর্ক। মিরাসোলের বিপক্ষে ম্যাচে শেষ মুহূর্তে দল থেকে বাদ পড়েন। ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’ দেখানো হলেও মাঠে উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ব্রাজিল ফুটবল সংস্থা। এই ম্যাচটি দেখতে মাঠে ছিলেন আনচেলত্তি নিজেও, যিনি নেইমারের ফিটনেস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

সব মিলিয়ে নেইমার এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। প্রতিভা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই, কিন্তু ধারাবাহিকতা ও ফিটনেসই বড় বাধা।

বিশ্বকাপের আগে আনচেলত্তি একটি স্থিতিশীল দল গড়তে চান। সেখানে বারবার চোটে পড়া একজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া বড় ঝুঁকি। তাই প্রশ্নটা এখন আরও জোরালো- নেইমারের বিশ্বকাপ স্বপ্ন কি সত্যিই শেষের পথে? নাকি শেষ মুহূর্তে আবারও নিজের জাদু দেখিয়ে জায়গা করে নেবেন ব্রাজিল দলে?

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো খবর »

Advertisement

Ads

Address

© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.

Design & Developed By: ECONOMIC NEWS