গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স জায়ান্ট ওয়ালটনের চলমান ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের আওতায় দুটি ফ্রিজ ও একটি এসি কিনে মিলিয়নিয়ার হয়েছেন তিন জেলার আরও তিন ক্রেতা। তারা হলেন বান্দরবানের সোনালী ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র অফিসার সুপ্রকাশ চাকমা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের দিনমজুর কুদ্দুস হাওলাদার এবং নরসিংদীর গৃহবধূ স্কুল শিক্ষিকা তাহমিনা আক্তার। সুপ্রকাশ চাকমা ও কুদ্দুস হাওলাদার কিনেছিলেন একটি করে ফ্রিজ। অন্যদিকে এসি কিনে মিলিয়নিয়ার হয়েছেন তাহমিনা।
গত বুধবার (৬ মে, ২০২৬) দুপুরে বান্দরবান শহরের মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে সুপ্রকাশ চাকমার হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এর আগে সোমবার (৪ মে) নরসিংদীর কাউড়িয়া পাড়া পৌর ঈদগাহ মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে তাহমিনার হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া গত ২৬ এপ্রিল ফকিরহাট বাজারে ওয়ালটন প্লাজার সামনে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুদ্দুস হাওলাদারের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক বুঝিয়ে দেয়া হয়। তাদের প্রত্যেকের হাতে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেন ওয়ালটনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর চিত্রনায়ক আমিন খান এবং জাতীয় ক্রিকেট দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ।
উল্লেখ্য, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সারাদেশে চলমান ওয়ালটনের ‘ডিজিটাল ক্যাম্পেইন সিজন-২৪’-এর আওতায় তারা এই সুবিধা লাভ করেন। এর আগের সিজনগুলোতে সারাদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য কিনে আরও ৫০ জন ক্রেতা মিলিয়নিয়ার হয়েছিলেন।
পৃথকভাবে আয়োজিত এসব অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের প্রধান ফিরোজ আলম, ওয়ালটন এসির চিফ বিজনেস অফিসার তানভীর রহমান, ওয়ালটনের চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদসহ অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।
জানা গেছে, সুপ্রকাশ চাকমা গত ১৬ এপ্রিল বান্দরবান শহরের ভিআইপি সড়কে কামাল চেয়ারম্যান মার্কেটের ওয়ালটনের পরিবেশক শোরুম ইস্টার্ন এজেন্সি থেকে ২৮ হাজার টাকা দিয়ে ১৪৫ লিটারের একটি ফ্রিজ কেনেন। কেনার পর পণ্যের বারকোড, তার নাম ও মোবাইল নাম্বার ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করার পরপরই তার মোবাইলে ১০ লাখ টাকা পাওয়ার মেসেজ যায়। একই ভাবে তাহমিনা আক্তার গত ২১ এপ্রিল নরসিংদী শহরের বাজির মোড়স্থ ওয়ালটন প্লাজা থেকে ১.৫ টনের একটি এসি কেনেন। যার মূল্য ৬৬ হাজার ৩০০ টাকা। এসি কিনে ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন করার পর তার মোবাইলেও ১০ লাখ টাকা পাওয়ার মেসেজ যায়। এছাড়া গত ১৬ এপ্রিল ফকিরহাট ওয়ালটন প্লাজা থেকে ৬ মাসের কিস্তিতে ১৮ হাজার টাকা ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ৪২ হাজার ৬৯০ টাকা মুল্যের ফ্রিজ কেনেন কুদ্দুস হাওলাদার। তিনিও পেয়েছেন ১০ লাখ টাকা।
সুপ্রকাশ চাকমা বলেন, জীবনে অনেক লটারি কিনেছি, প্রাইজ বন্ড কিনেছি। কখনো পুরস্কার পাইনি। ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে পুরস্কার পেয়েছি। পুরস্কার পেতে কার না ভালো লাগে! আমি কখনো ভাবিনি একটি ফ্রিজ কিনে এত বড় পুরস্কার জিতব। এ টাকা পারিবারিক ভরণপোষণে খরচ করবো।
তাহমিনা আক্তার তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি একটি এসি কিনে এত বড় পুরস্কার পাবো। এটি আমার জন্য অবিশ্বাস্য এক আনন্দের মুহূর্ত। এই অর্থ আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকারে আসবে। ওয়ালটনের সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।”
ওয়ালটন ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের প্রধান মো. ফিরোজ আলম বলেন, ওয়ালটনের পণ্য কিনে গত ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন সিজনে প্রায় ৫০ জন ক্রেতা মিলিয়নিয়ার হয়েছেন। এ ধরনের অফার প্রান্তিক মানুষকে সুবিধা দিতেই চলমান রয়েছে। ওয়ালটনের অফার দেখে নয়, পণ্যের মান দেখে ক্রেতারা পণ্য কেনেন। বিশ্বের ৫৫ টিরও বেশি দেশে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। ওয়ালটন কথা দিলে কথা রাখে তার প্রমাণ এই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানগুলো। সাধারণ ক্রেতাদের দেশীয় পণ্য কিনে দেশের টাকা দেশেই রাখার আহ্বান জানান তিনি।