
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। আর তার সঙ্গে রেকর্ড ভাঙার উৎসব। রবিবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে এক রোমাঞ্চকর রাতে এমনই গল্প লিখল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ৫ হাজার ১০৭ দিন পর মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে যেন পুরোনো দুঃস্বপ্ন ঝেড়ে ফেলল তারা। আর এই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। যিনি ব্যক্তিগত এক অনন্য কীর্তিতে ছুঁয়ে দিলেন নতুন উচ্চতা।
দুই দলের ব্যাটিং দাপটে ম্যাচটি পরিণত হয়েছিল রানের মহোৎসবে। আগে ব্যাট করে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৪ উইকেটে তোলে ২২০ রানের বড় সংগ্রহ। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন আজিঙ্কা রাহানে ও ফিন অ্যালেন। অ্যালেন মাত্র ১৭ বলে ঝড় তুলে ৩৭ রান করে আউট হন। রাহানে খেলেন ৪০ বলে ৬৭ রানের চমৎকার ইনিংস। মাঝপথে অঙ্গক্রিশ রঘুবংশীর ৫১ রানের ঝলক এবং শেষদিকে রিঙ্কু সিংয়ের দ্রুত রান তোলায় স্কোর দাঁড়ায় চ্যালেঞ্জিং উচ্চতায়।
তবে এত বড় লক্ষ্যও মুম্বাইয়ের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। জবাবে নেমেই দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও রায়ান রিকেলটন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেন। তাদের জুটি ছিল এই ম্যাচের মোড় ঘোরানো অধ্যায়। মাত্র ১২ ওভারের মধ্যেই তারা গড়ে তোলেন ১৪৮ রানের বিশাল জুটি, যা কার্যত ম্যাচটিকে একপেশে করে দেয়।
রোহিত ছিলেন শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী। প্রতিটি বলকে নিখুঁতভাবে টাইমিং করে তিনি খেলেছেন ঝকঝকে ইনিংস; ৩৮ বলে ৭৮ রান। যেখানে ছিল চার আর ছয়ের দারুণ মিশেল। এই ইনিংসের মধ্য দিয়েই তিনি ভেঙে দেন আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড। এক প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসেন, পেছনে ফেলেন বিরাট কোহলিকে।
অন্য প্রান্তে রিকেলটনও কম যাননি। তিনিও আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান এবং ৪৩ বলে ৮১ রান করে জয়ের পথ প্রায় নিশ্চিত করে দেন। তাদের বিদায়ের পর সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা ও হার্দিক পান্ডিয়া ছোট ছোট কার্যকর ইনিংস খেলে ম্যাচ শেষ করে আসেন।
বল হাতে মুম্বাইয়ের হয়ে সবচেয়ে সফল ছিলেন শার্দুল ঠাকুর। চার ওভারে ৩৯ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে কলকাতার ইনিংসের গতি কিছুটা হলেও থামান তিনি। ম্যাচসেরাও হন তিনি।
এই ম্যাচটি শুধু একটি জয় নয়। এটি ছিল আধিপত্যের ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমের শুরুতে হারের যে অভিশাপ বয়ে বেড়াচ্ছিল মুম্বাই, সেটি অবশেষে কাটল দারুণ স্টাইলে।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply