মোঃ আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার মুন্সিগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত মেসার্স এনামুল ফিলিং স্টেশনে তেল সংকটকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ভোগান্তি ও হতাশার চিত্র। সীমিত বরাদ্দের কারণে বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল থেকে শতাধিক মোটরসাইকেল চালক ও যানবাহন মালিককে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
জানা গেছে, ফিলিং স্টেশনটিতে প্রতি সপ্তাহে মোট ৪ হাজার লিটার তেলের বরাদ্দ থাকলেও সাপ্তাহিক দুটি সরবরাহে প্রতিবার ২ হাজার লিটার করে তেল আসে। এদিন সকাল ৮টা থেকে ২ হাজার লিটার তেল বিতরণ শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। এতে প্রায় ১০০টির বেশি মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন তেল না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে শৃঙ্খলা রক্ষা করে।
ফিলিং স্টেশনের মালিক এনামুল হক জানান, “সপ্তাহে দুটি চালানে ৪ হাজার লিটার তেল পাই। বর্তমান মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আগামী মঙ্গলবারের আগে নতুন করে তেল সরবরাহ সম্ভব নয়।”
এ অবস্থায় তিনি একটি মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নিজের অফিস ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের গাড়ি থেকে প্রায় ৩ লিটার তেল বের করে লাইনে অপেক্ষমাণদের মধ্যে ২৫০ মিলিলিটার করে বিনামূল্যে বিতরণ করেন। এতে প্রথম পর্যায়ে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন উপকৃত হন।
এনামুল হক বলেন, “যাদের জরুরি প্রয়োজন, তারা লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প পরিমাণ তেল নিতে পারবেন। এতে অন্তত তারা নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারবেন।”
ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক গণমাধ্যমকর্মী জানান, “হঠাৎ করেই তেল শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হলে অনেকেই বিপাকে পড়েন। তবে মালিকের এই উদ্যোগে অন্তত কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।”
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক ও ব্যবসায়ীরা জানান, “অল্প হলেও তেল পাওয়ায় আমরা গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছি। এই মানবিক উদ্যোগ আমাদের জন্য বড় সহায়তা।”
তেলের সীমিত বরাদ্দের কারণে সৃষ্ট ভোগান্তির মধ্যেও মালিকের এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে। তবে এলাকাবাসী দীর্ঘমেয়াদে এ সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।