
বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১০ জানুয়ারি। তবে এই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বায়ার্স কাউন্সিল।
মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশন ভবনের এক রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বায়ার্স কাউন্সিল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বায়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন ও মহাসচিব আমিনুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্য কার্যনির্বাহী সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে বায়ার্স কাউন্সিলের নেতারা জানান, বিজিবিএর ২০২৬-২৮ সালের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বিজিবিএর সাবেক সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন। শুনানি শেষে ৮ জানুয়ারি নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। তবে হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে নির্বাচন সম্পন্ন করে সংগঠনটি।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বায়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি কাজী ইফতেখার হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে সে সময় সংগঠনের সদস্যদের নিবন্ধন ফি ৩০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি পাঁচ হাজার টাকা নির্ধারিত ছিল। বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি গত ২৪ ডিসেম্বর ডাকা এক বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) এই ফি বাড়িয়ে যথাক্রমে ৫০ হাজার টাকা ও ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। সাধারণ সদস্যদের বিরোধিতা উপেক্ষা করে ও অনুপস্থিত সদস্যদের স্বাক্ষর জাল করে ওই ইজিএমে ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
কাজী ইফতেখার হোসেন আরও বলেন, হাইকোর্টের আদেশের পর বর্তমান এই নির্বাচন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই এই অ্যাসোসিয়েশনের সংঘবিধি, ২০২২ সালের বাণিজ্য সংগঠন আইন ও ২০২৫ সালের বাণিজ্য সংগঠন বিধি অনুযায়ী একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করে গণতান্ত্রিকভাবে কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের সুযোগ দিতে হবে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড বায়িং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিবিএ) নবনির্বাচিত সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন, হাইকোর্টে শুনানির আগেই নির্বাচনের সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আমরা নির্বাচনের তিন দিন পর হাইকোর্টের আদেশের কপি হাতে পেয়েছি। নির্বাচনে ভিশনারি অ্যালায়েন্স ও ইউনাইটেড ফোরাম, দুই পক্ষই নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। নির্বাচনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল হামিদ আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগে প্রায় ১১ বছর এই অ্যাসোসিয়েশনের কোনো নির্বাচন আয়োজন হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে সংগঠনে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ফিরে আসে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবারও নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজন করা হয়।
Design & Developed By: ECONOMIC NEWS
Leave a Reply