নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিশ্ব নদী দিবস পালিত হয় প্রতিবছর সেপ্টেম্বরের চতুর্থ রোববার। ২০১৩ সাল থেকে বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। কিন্তু নদীমাতৃক বাংলাদেশের জনা একটি জাতীয় নদী দিবস থাকবে না।
নৌ নিরাপত্তা বিষয়ক সংগঠন নোঙর ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আমরা দুই দশক ধরে নৌ নিরাপত্তা দিবস ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। বিশেষ করে ২৩ মে অরিখকেই জাতীয় নদী দিবস ঘোষণার কথা বলে আসছি। কিন্তু নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আমাদের বলা হয়েছে বাংলাদেশে যেহেতু সরকারিভাবে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করা হয়ে থাকে, তাই আরেকটি নৌ নিরাপত্তা দিবস পালন কারিগরিভাবে কঠিন। প্রশ্ন হচ্ছে, ২৩ মে তারিখকে তাহলে আমরা কি স্মরণ করব না।
বাংলাদেশে শেষ নৌ-দুর্ঘটনা ঘটে চলতি বছর ১১ এপ্রিল বিকেলে সদরঘাটে লঞ্চ টার্মিনালের ১১ নম্বর পলটনের সামনে তাসরিফ ৪ নামে একটি লঞ্চের ধাক্কায় ছিঁড়ে আসা রশির আঘাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশের মানুষ নৌপথ ব্যবহার করবে সেইতো স্বাভাবিক। কিন্তু অবাক বিষয় হচ্ছে যে, গত ৫৩ বছরে রাষ্ট্রিয় অবহেলায়, অতিলোভী লঞ্চ মালিকদের চলাচলের অযোগ্য লক দুর্ঘটনায় নৌপথে প্রায় কুড়ি হাজার মানুষ মৃত্যু বরণ করেছে। তাই নোঙর সেই সব হতভাগা মানুষদের স্মৃতি মরণে নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২৩ মে. কে জাতীয় নদী দিবস দাবি করে আসছে।
আমাদের মনে আছে ২০০৪ সালের ২৩ মে রাতে চাঁদপুরের কাছে যেমনাসহ বিভিন্ন নদীতে চারটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যায়। মাদারীপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে চাঁদপুরে ঝড়ের কবলে পড়া এমডি লাইটিং সান লঞ্চের যাত্রী ছিলেন আমার মা আছিয়া খাতুন। ওই রাতেই এমভি দিগন্ত ও এমএল মজলিশপুর নামে আরও দুটি লঞ্চ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আমার মাসহ তিন শতাধিক যাত্রী ওই রাতে প্রাণ হারান। কিন্তু সেটাই লঞ্চ ডুবে প্রাণহানির শেষ ঘটনা ছিল না। গত দুই দশকে আরও অনেক প্রাণ হারিয়ে গেছে নদীতে।
দেশের ৪৩ শতাংশ নৌ-দুর্ঘটনা অন্য নৌযানের সঙ্গে থাক্কায়, ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের কারণে এবং ২৩ শতাংশ দুর্ঘটনা বৈরী আবহাওয়ার কারণে ঘটে। ২০০৪ সালের ২৩ মে মাদারীপুর থেকে ঢাকায় আসার পথে চাঁদপুরে ঝড়ের কবলে পড়ে এমভি লাইটিং সান লঞ্চ। ওই রাতেই এমডি দিগন্ত ও এমএল মজলিশপুর নামে আরও দুটি লঞ্চ দুর্ঘটনায় কবলে পড়লে কয়েকশ মানুষের মৃত্যু হয়। নৌ- দুর্ঘটনা এখন মিছক কোনো দুর্ঘটনা নয় বরং অনেকাংশে এটা দুর্যোগের পর্যায়ে চলে গেছে। নৌপথে এমন বিশৃঙ্খলা চলতে থাকলে নৌ-দুর্ঘটনা পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে অনেক বেড়ে যেতে পারে। যাত্রীবাহী বড় জাহাজ বা জলযানে জীবন রক্ষাকারী ছোট নৌকাসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ আছে কিনা যাত্রার আগেই তা পরীক্ষা করা দুর্যটিনার কবল থেকে উদ্ধারের উপায় সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়ার দাবি রয়েছে এর মধ্যে।