1. econimicnews24@gmail.com : Nayan Sharkar : Nayan Sharkar
  2. economicnews24bd@gmail.com : Nurnnobi Sarker : Nurnnobi Sarker
  3. editor.econimicnews24@gmail.com : Fahim Fahim : Fahim Fahim
  4. jmitsolution24@gmail.com : support :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৬:১২ অপরাহ্ন
Title :
ক্যান্সার রোগে মৃত বুলবুল আহম্মেদের পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান করলো ইউনিভার্সাল এমিটি ফাউন্ডেশন লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে সিকাদর ইন্স্যুরেন্স ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ ভেঙে দিল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যবসা-বাণিজ্যে ডিরেগুলেশনে বাজেটে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ: এনবিআর চেয়ারম্যান সুনামগঞ্জের ৯০ কিলোঃ সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে বিজিবি’র টহল জোরদার গ্রাম-বাংলার জনপ্রিয় কাবাডি খেলার ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে: কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান সূচকের উত্থানে চলছে লেনদেন ব্রাজিল ম্যাচের স্মৃতি ফিরিয়ে কুরাসাওকে ৭–১ গোলে হারালো জার্মানি গাঁজাসহ পুত্রবধূ রেখে পালিয়েছেন শ্বশুর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি চুক্তি ঘোষণা ট্রাম্পের, খুলছে হরমুজ প্রণালি

খোলা বাজারে ডলারের দাম ৯২ ছুঁই ছুঁই

  • আপডেট : শনিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২২, ৭.৩৭ পিএম
  • ১৯৭ Time View

অস্বাভাবিক আমদানি ব্যয়ের চাপে বাড়ছে ডলারের দাম। ব্যাংকের পাশাপাশি খোলা বাজারেও ডলারের যোগান ও চাহিদায় বড় ধরনের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। ফলে খোলাবাজারেও প্রতি ডলার কিনতে হচ্ছে প্রায় ৯২ টাকা দিয়ে। এতে বিপাকে পড়ছেন চিকিৎসার জন্য ও ওমরাহ পালনে বিদেশগামী যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার কারণে দীর্ঘসময় মানুষ দেশের বাইরে যাননি। ফলে এখন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় অনেক মানুষ চিকিৎসার প্রয়োজনে বা ঘুরতে দেশের বাইরে যাচ্ছেন। আবার, রমজান মাস উপলক্ষে অনেকে ওমরাহ করতে সৌদি আরব যাচ্ছেন। ফলে ডলারের চাহিদা অনেক বেড়েছে। সেই অনুপাতে সরবরাহ কম থাকায় ডলারের দামও অনেক বেশি বেড়ে গেছে। তাদের মতে, যিনি যে দেশে যাচ্ছেন, তাঁর জন্য সেই দেশের মুদ্রা সহজলভ্য করা হলে তা ডলারের ওপর চাপ কমাতে পারে।

মতিঝিলে ডলার কিনতে আসা আজমেরি আক্তার বলেন, আমার বাবা চিকিৎসার জন্য ভারতে যাবেন। সেজন্য প্রয়োজনীয় ডলার কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু ডলারের দাম অনেক বেশি হওয়ায় যতটুকু কিনতে চেয়েছিলাম তার থেকে কম কিনতে হয়েছে। এতে চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ডলারের দাম কমানোর অনুরোধ জানান তিনি।

রাজধানীর মতিঝিল ও পল্টন এলাকার মানি চেঞ্জারসহ খোলাবাজারে আজ শনিবার মার্কিন ডলার ৯১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মানি চেঞ্জার ও খোলাবাজারের মুদ্রা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে অনেক বেশি সংখ্যাক মানুষ দেশের বাইরে ঘুরতে বা চিকিৎসার কাজে যাচ্ছেন। ফলে ডলারের চাহিদা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। কিন্তু সেই তুলনায় ডলারের সরবরাহ কম।

তাদের মতে, সাধারণত বিদেশ থেকে যাঁরা আসেন, তাঁরা সঙ্গে করে ডলার নিয়ে আসেন। নগদ ডলারের যোগানের এটাই একমাত্র মাধ্যম। আর দেশের মানুষের হাতে যা থাকে, তা অনেক সময় বিক্রি করেন। এ ছাড়া বিদেশি পর্যটকেরা ডলার বিক্রি করে টাকা নেন। কিন্তু এখন ডলার বিক্রি করতে খুব বেশি গ্রাহক আসেন না। ব্যবসায়ীরা নিজেদের হাতে থাকা ডলার বিক্রি করছেন। অর্থাৎ খোলাবাজারে চাহিদার তুলনায় যোগান কম হওয়ায় ডলারের দাম বাড়ছে। অধিকাংশ মানি চেঞ্জারে ৯১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৮০ পয়সা দরে প্রতি ডলার বিক্রি হচ্ছে।

জানতে চাইলে যমুনা মানি চেঞ্জারের স্বত্তাধিকারী আনিসুজ্জামান অর্থসূচককে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ডলারের দাম বেশি। এর কারণ হচ্ছে বাজারে ডলারের সরবরাহ অনেক কম। কিন্তু সেই তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। এ কারণেই দাম বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে আসবে। বিদেশ থেকে পকেটে করে ডলার এলেই বাজারে ডলারের ওপর চাপ কমবে। আশা করা যাচ্ছে, ঈদের আগে প্রবাসীদের পাশাপাশি পর্যটকদের আগমন বাড়লে নগদ ডলারের সরবরাহ বাড়তে পারে। তখন ডলারের দামও কিছুটা কমে আসবে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, খোলা বাজারে নগদ ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে রফতানি ও প্রবাসী আয়ের কোন সম্পর্ক নেই। তাঁদের কাছে কেউ ডলার বিক্রি করতে এলে তাঁরা তা কিনে রাখেন। এরপর সেই ডলার বিক্রি করেন।

ব্যাংকেও বাড়ছে ডলারের দাম:

খোলাবাজারের মতো ব্যাংকগুলোতেও ডলারের দাম এখন বাড়তি। মাঝে আড়াই মাস ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও গত ২২ মার্চ তা আবার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অস্বাভাবিক আমদানি ব্যয় বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়ে গেছে। এই হিসাবে গত সাত মাসে ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি মুদ্রা টাকা ১ টাকা ৪০ পয়সা দর হারিয়েছে।

বর্তমানে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে এক ডলারের দাম ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। আর ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে এর চেয়েও পাঁচ-ছয় টাকা বেশি দরে। ফলে ব্যাংকগুলো ডলার বিক্রি করছে ৯১-৯২ টাকায়। সেই দামে আমদানি বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে যে দরে ডলার বিক্রি বা কেনে তাকে আন্তব্যাংক লেনদেন ব্যাংক রেট বলে। ব্যাংকগুলোও একে অন্যের কাছ থেকে এই রেটে ডলার কেনাবেচা করে থাকে। চাহিদা বাড়ার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলো এই দরের চেয়ে সাড়ে চার-পাঁচ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ব্যবধান কখনই এক থেকে-দেড় টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়।

অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ:

অর্থনীতিবিদদের মতে, আমদানি ব্যয় বাড়লেও পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এতে এখনই উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। তবে মুদ্রা বিনিময় হারে যে অসামঞ্জস্য সৃষ্টি হয়েছে তা দূর করতে মুদ্রার আরো অবমূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তারা বলেন, এই সময়ে বিদেশি আয় ধরতে টাকার মান আরও কমাতে হবে। এতে প্রবাসী আয় ও রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এর প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।

এই প্রসঙ্গে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর অর্থসূচককে বলেন, ডলারের মূল্য বেড়ে ব্যাংকে এখন ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। আর খোলাবাজারে তা প্রায় ৯২ টাকা। এক্ষেত্রে পার্থক্য অনেক বেশি। এতে ব্যাংক ব্যবস্থায় অর্থের স্বাভাবিক প্রবাহ বিঘ্নিত হতে পারে।

এই অবস্থায় মুদ্রার আরো অবমূল্যায়ন করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এভাবে ১০-২০ পয়সা করে না বাড়িয়ে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রবাসী আয়ের প্রণোদনা তুলে দেওয়া উচিত। এতে রফতানি আয় বাড়ার পাশাপাশি প্রবাসী আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশ ব্যাংক খুব ধীরে ধীরে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এটা আরও সময়োপযোগী হলে দেশের জন্য ভালো হতো।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। জিনিসপত্রের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে। অবশ্য বিশ্বজুড়েই এখন মূল্যস্ফীতি বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও চালের দাম চড়া। এর প্রভাব বাংলাদেশেও কিছুদিন থাকবে। অন্যদিকে আমদানি অনেক বাড়ছে। সেই তুলনায় রফতানি আয় এবং রেমিট্যান্স বাড়ছে না। ফলে ব্যালেন্স অব পেমেন্টে অসামঞ্জস্য তৈরি হচ্ছে।

ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে চাল আমদানি বাড়াতে হবে। গত বছরও ৮ লাখ টন চাল আমদানি করেছিল সরকার। চলতি বছর তা বাড়িয়ে ১৫-২০ লাখ টন চাল আমদানি করতে হবে।

প্রবাসী আয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রণোদনা দিয়ে প্রবাসী আয় বাড়ানো যাবে না। কারণ খোলা বাজারে ডলার বিক্রি করলে প্রতি ডলারে ৫ টাকা বেশি পাওয়া যায়। এটা ১ টাকায় নামিয়ে আনতে হবে।’

প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারি থেকে প্রবাসী আয়ের ওপর আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। আগে যা ছিল ২ শতাংশ।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর »
© 2026 - Economic News24. All Rights Reserved.
Economicnews24 .com