দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কেউ অগ্নিসন্ত্রাস করলে, গাড়িতে আগুন দিলে তাকে সেই আগুনেই ফেলতে হবে।
শনিবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে এমআরটি লাইন-৬ এর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চালু এবং এমআরটি লাইন-৫ নর্দান রুটের (সাভার-ভাটারা) নির্মাণ কাজ উদ্বোধনের পর আরামবাগে জনসভায় এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা বাসে আগুন দেয়। একটা হেলপার ঘুমিয়ে ছিলো, সে কিছু জানেও না। সেই বাসে আগুন দিয়ে হেলপারকে হত্যা করেছে। আর ২০১৩, ১৪, ১৫-তে আপনারা দেখেছেন, ছেলেকে রেখে বাবা পানি আনতে গেছে এদিকে ট্রাকে আগুন দিয়েছে। সেই আগুনে পুড়ে ছেলের কি চিৎকার! আগুনে পুড়ে কয়লা হয়ে আছে। এভাবে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মানুষকে পুড়িয়েছে, ৫০০ মানুষকে হত্যা করেছে, ৫২৫টি স্কুল, ৩ হাজার গাড়ি এবং ২৯টি রেল পুড়িয়েছে।
জ্বালাও পোড়াও বিএনপির চরিত্র উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের আন্দোলন হচ্ছে অগ্নি সন্ত্রাস, তাদের আন্দোলন মানুষ খুন করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা করা, আর সবকিছু ধ্বংস করা। কেন এভাবে ধ্বংস করবে? কে তাদের অধিকার দিয়েছে? এই ধ্বংসযজ্ঞ তাদের বন্ধ করতে হবে। যদি বন্ধ না করে তাহলে কীভাবে বন্ধ করাতে হয় সেটাও আমাদের জানা আছে।
ঢাকাবাসীসহ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যারা আগুন দিয়ে পোড়াবে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে। দরকার হলে তাদের ধরে ওই আগুনের মধ্যে ফেলতে হবে। যে হাত দিয়ে আগুন দেবে সেই হাত আগুনে পুড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই তাদের শিক্ষা হবে।
‘তারা সাধারণ মানুষের বাসে আগুন দেয়, গাড়িতে আগুন দেয়। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে, তাদের গাড়ি নাই? তারা গাড়িতে চড়ে না? তাদের জিনিসপত্র নাই? জনগণ যদি সেগুলো পোড়াতে শুরু করে তাহলে কোথায় যাবে, কী করবে সেটাও তাদের ভাবা উচিৎ। আমরা ওসবে বিশ্বাস করি না দেখে, এখনো ধৈর্য ধরে আছে দেশের মানুষ। কিন্তু কতদিন?’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
আগুন সন্ত্রাসীদের সাবধান করে শেখ হাসিনা বলেন, ক্ষমতা দেবার মালিক আল্লাহ। খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ আগামী একশ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। আল্লাহর রহমতে ওই কথা তাদের বেলায় ফলে গেছে।